প্রতিদিনই শত শত কেজি ইলিশের ডিম আহরণ করা হয়। তিন মাসব্যাপী পুরো মৌসুম জুড়ে চলে এই কর্মযজ্ঞ। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ডিমওয়ালা ইলিশগুলো আসে কোথা থেকে? ডিম ছড়ানোর পর মাছগুলো কোথায় যায়? আর এসব ডিম কেনে কারা? কোথায় নেয়া হয়? খাওয়া হয় নাকি অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়? ইলিশের ডিম ঘিরে এমন এক গোপন জগৎ আছে, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে না।
ব্যবসায়ীদের ভাষায়, বড় ডিমের চাহিদা বেশি। এক কেজি বড় ডিম বিক্রি হয় ৩ হাজার টাকায়, আর ছোট ডিমের দাম ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজি। মৌসুমে দুই-তিনশ মন মাছ কেটে ডিম সংগ্রহ করা হয়। মাছ বিক্রিতে লোকসান হলেও ডিমই হয়ে ওঠে লাভের প্রধান উৎস। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা মাছ ৪০ হাজার টাকা মন কিনলেও মাছের দাম কেজিতে ৫০০-৭০০ টাকার বেশি হয় না। কিন্তু ডিম বিক্রি হয় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।”
সংগ্রহ করা ডিম স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বাইরে রপ্তানি হয়। যারা সামর্থ্যবান, তারা উচ্চমূল্যে কিনে খান। আবার নির্দিষ্ট দামে কারখানাতেও ডিম সরবরাহ করা হয়। ফলে ইলিশের ডিম দেশীয় খাবারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও যায়।ইলিশ কাটা ও ডিম আলাদা করার কাজ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রতিদিনই হাত কাটে, আঙুলে ব্যথা হয়। অনেক সময় সংক্রমণ বা পচন পর্যন্ত হয়। শ্রমিকরা বলেন, “হাত কাটবে, ব্যথা করবে—এটাই স্বাভাবিক। তারপরও অর্ডার থাকে, কাজ করতেই হয়।”ডিম আলাদা করার পর ভালোভাবে ধুয়ে লবণ মাখিয়ে প্যাকেটজাত করা হয়। সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কোনো ওষুধ বা ফ্রিজ লাগে না। পানিতে ভিজিয়ে যত্ন করে রাখলেই দীর্ঘদিন ভালো থাকে।ব্যবসায়ীরা জানান, আগে দেশে ইলিশ প্রচুর ছিল। তখন এক হালি মাছের দাম ছিল মাত্র এক-দুই টাকা। এখন সেই মাছ কিনতে লাগে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাছের জোগান কমেছে, পদ্ধতিও বদলেছে। ফলে ডিমের বাজারে চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে বহুগুণে।একটি ইলিশ থেকে সর্বোচ্চ আধা কেজি পর্যন্ত ডিম পাওয়া যায়। মৌসুমে টনের পর টন ডিম বাজারে আসে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এটাই মূল লাভের জায়গা। মাছ বিক্রি করে যে ক্ষতি হয়, ডিম বিক্রি করেই তা পুষিয়ে নেয়া হয়।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























