ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন, ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন প্রসঙ্গ টেনে ইরানকে আরও ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনও মাইন বসিয়ে থাকে—যদিও আমাদের কাছে এমন কোনও নিশ্চিত খবর নেই—তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক!”

ট্রাম্প আরও বলেন, “যদি মাইন বসানো হয়ে থাকে এবং সেগুলো সরানো না হয়, তবে ইরানকে ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান যদি বসানো মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে তা হবে সঠিক পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।”

ট্রাম্পের এ পোস্টের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে।

হেগসেথ বলেন, “আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেগুলো নিশ্চিহ্ন করছি। ‘সন্ত্রাসী’দের হাতে হরমুজ প্রণালিকে জিম্মি হতে দেব না।”

এদিন আরও পরের দিকে সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে, তারা ওই প্রণালির কাছে ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের বেশ কিছু নৌযান ধ্বংস করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত আছে, এমন দুটি সূত্র জানিয়েছে, মাইন বসানোর কাজ এখনও খুব একটা ব্যাপক নয়। গত কয়েক দিনে গুটিকয়েক মাইন বসানো হয়েছে।

তবে একটি সূত্র বলেছে, ইরানের হাতে এখনও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। ফলে দেশটি চাইলে এ জলপথে কয়েক শ’ মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করেছিল, এ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনও জাহাজে হামলা চালানো হবে। ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকির কারণে বর্তমান অবস্থাকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও জাহাজকে এ প্রণালি দিয়ে পাহারা দিয়ে পার করে দেয়নি।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকবে। সেখানে আমাদের অনেক নৌযান রয়েছে। মাইন শনাক্ত করার জন্য আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম রয়েছে।” সূত্র: সিএনএন

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন, ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট টাইম : ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন প্রসঙ্গ টেনে ইরানকে আরও ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনও মাইন বসিয়ে থাকে—যদিও আমাদের কাছে এমন কোনও নিশ্চিত খবর নেই—তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক!”

ট্রাম্প আরও বলেন, “যদি মাইন বসানো হয়ে থাকে এবং সেগুলো সরানো না হয়, তবে ইরানকে ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান যদি বসানো মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে তা হবে সঠিক পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।”

ট্রাম্পের এ পোস্টের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে।

হেগসেথ বলেন, “আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেগুলো নিশ্চিহ্ন করছি। ‘সন্ত্রাসী’দের হাতে হরমুজ প্রণালিকে জিম্মি হতে দেব না।”

এদিন আরও পরের দিকে সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে, তারা ওই প্রণালির কাছে ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের বেশ কিছু নৌযান ধ্বংস করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত আছে, এমন দুটি সূত্র জানিয়েছে, মাইন বসানোর কাজ এখনও খুব একটা ব্যাপক নয়। গত কয়েক দিনে গুটিকয়েক মাইন বসানো হয়েছে।

তবে একটি সূত্র বলেছে, ইরানের হাতে এখনও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। ফলে দেশটি চাইলে এ জলপথে কয়েক শ’ মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করেছিল, এ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনও জাহাজে হামলা চালানো হবে। ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকির কারণে বর্তমান অবস্থাকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও জাহাজকে এ প্রণালি দিয়ে পাহারা দিয়ে পার করে দেয়নি।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকবে। সেখানে আমাদের অনেক নৌযান রয়েছে। মাইন শনাক্ত করার জন্য আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম রয়েছে।” সূত্র: সিএনএন