ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ট্রাম্পের ওপর চরম চটেছেন সউদী যুবরাজ মাঝপথে হাত ছাড়ছে আমেরিকা? শত বছরের সম্পর্কে ফাটল মধ্যপ্রাচ্য মহাপ্র

বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকম্পের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে কয়েক দশকের পুরনো সউদী-আমেরিকা মৈত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান । পর্দার আড়ালে কি তবে বড় কোনো সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে?

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং যুদ্ধ পরিচালনার ধরন নিয়ে রিয়াদ এখন বীতশ্রদ্ধ। হোয়াইট হাউসের অদূরদর্শী পরিকল্পনা এবং উস্কানিমূলক বার্তা সউদী আরবকে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তাতে সউদী কর্মকর্তারা আতঙ্কিত। তাঁদের ভয়, এর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরান যদি আরবের তেল স্থাপনা বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পে হামলা চালায়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো, ট্রাম্প চাইছেন এই যুদ্ধের সমস্ত আর্থিক দায়ভার বহন করুক সউদী আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো। অথচ যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে তাঁদের কোনো মতামতের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প সউদী আরবকে অংশীদার নয়, বরং স্রেফ ‘পে-মাস্টার’ বা টাকা দেওয়ার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শুধু কৌশলগত বিরোধই নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গাতেও ফাটল ধরেছে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। মাত্র কিছুদিন আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে বিশ্ব মিডিয়ার সামনে সউদী যুবরাজ এমবিএস-কে কটাক্ষ করে বলেন, “সে আমার নিতম্বে চুম্বন করেছে আর আমার কাছে মাথা নত করে সব সময় থাকতে হবে তাঁকে।” এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রিয়াদের রাজপ্রাসাদে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

যদি হরমুজ প্রণালী বা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হবে। সউদী আরব এখন বুঝতে পারছে, আমেরিকার ওপর আর অন্ধভাবে ভরসা করা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা এখন রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে নতুন জোট গড়ার চেষ্টা করছে।

ট্রাম্পের একগুঁয়েমি আর এমবিএসের ধৈর্যচ্যুতি কি তবে নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধের মহড়া? ওয়াশিংটন থেকে রিয়াদ—স্নায়ুযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক দিন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে চলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

লাক্স সুপারস্টার সেরা সুন্দরীর পুরস্কার জিতলেন বর্ণিতা

ট্রাম্পের ওপর চরম চটেছেন সউদী যুবরাজ মাঝপথে হাত ছাড়ছে আমেরিকা? শত বছরের সম্পর্কে ফাটল মধ্যপ্রাচ্য মহাপ্র

আপডেট টাইম : ৪০ মিনিট আগে

বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকম্পের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে কয়েক দশকের পুরনো সউদী-আমেরিকা মৈত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান । পর্দার আড়ালে কি তবে বড় কোনো সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে?

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং যুদ্ধ পরিচালনার ধরন নিয়ে রিয়াদ এখন বীতশ্রদ্ধ। হোয়াইট হাউসের অদূরদর্শী পরিকল্পনা এবং উস্কানিমূলক বার্তা সউদী আরবকে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তাতে সউদী কর্মকর্তারা আতঙ্কিত। তাঁদের ভয়, এর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরান যদি আরবের তেল স্থাপনা বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পে হামলা চালায়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো, ট্রাম্প চাইছেন এই যুদ্ধের সমস্ত আর্থিক দায়ভার বহন করুক সউদী আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো। অথচ যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে তাঁদের কোনো মতামতের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প সউদী আরবকে অংশীদার নয়, বরং স্রেফ ‘পে-মাস্টার’ বা টাকা দেওয়ার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শুধু কৌশলগত বিরোধই নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গাতেও ফাটল ধরেছে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। মাত্র কিছুদিন আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে বিশ্ব মিডিয়ার সামনে সউদী যুবরাজ এমবিএস-কে কটাক্ষ করে বলেন, “সে আমার নিতম্বে চুম্বন করেছে আর আমার কাছে মাথা নত করে সব সময় থাকতে হবে তাঁকে।” এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রিয়াদের রাজপ্রাসাদে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

যদি হরমুজ প্রণালী বা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হবে। সউদী আরব এখন বুঝতে পারছে, আমেরিকার ওপর আর অন্ধভাবে ভরসা করা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা এখন রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে নতুন জোট গড়ার চেষ্টা করছে।

ট্রাম্পের একগুঁয়েমি আর এমবিএসের ধৈর্যচ্যুতি কি তবে নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধের মহড়া? ওয়াশিংটন থেকে রিয়াদ—স্নায়ুযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক দিন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে চলেছে।