ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার মানুষকে কথা বলতে দেয়নি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণের ৫ মাসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান সাফল্য রয়েছে: মাহদী আমিন মেসির অভিজ্ঞতা বনাম ইয়ামালের তারুণ্য ফাইনালের মহারণে আর্জেন্টিনা-স্পেন মসজিদুল হারামে নতুন প্রযুক্তি, যেসব সুবিধা পাবেন হাজিরা আগামী মাসে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে : ইরান শ’ ছাড়িয়েছে শসা-কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ১৫ কৃষিবিদ বন্ধুর ৪৫ বিঘার নিরাপদ ফলের বাগান

জাইমা রহমানের পোস্টে স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার গল্প

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। বিভিন্ন ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব থাকেন তিনি।এবার তিনি বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সম্ভাবনা, সংগ্রাম এবং তাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা পোস্টে তুলে ধরেছেন।

আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন জাইমা রহমান।

পোস্টে জাইমা রহমান লিখেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে আমার পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, পরিবেশ রক্ষা, সঙ্গীত এবং শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা এবং কোডিং পর্যন্ত নানা বিষয়ে তাদের অসাধারণ অর্জন রয়েছে। তাদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় মনোবল সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য তারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

এদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে নানা বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কারো রয়েছে আর্থিক সংকট, কারো ওপর পরিবারের দায়িত্ব। ভিন্নভাবে সক্ষম অনেককেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হয়। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কখনো কখনো মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো পথ নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা নিজের সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব পালন সহজ নয়।

পোস্টে তিনি বাবা-মা, শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও সমাজের ইতিবাচক ব্যক্তিদের রোল মডেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি আমাদের রোল মডেলদের কথা ভাবছিলাম। আমাদের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে? কারা তাদের দেখায় যে জীবনে কত কিছু অর্জন করা সম্ভব? পথ কঠিন হয়ে গেলে কারা তাদের সাহস দেয়? রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হতে হবে না। তিনি হতে পারেন এমন একজন বাবা বা মা, যিনি কখনো হাল ছাড়েন না। এমন একজন শিক্ষক, যিনি কোনো শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনা দেখেন। এমন একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মূল্য শেখান। কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কেউ, যাকে দেখে কোনো তরুণ মনে সাহস পাবে এবং ভাববে, “আমিও এটা করতে পারব।”

জীবনে বড় হবার পথে ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে জাইমা লেখেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য আমাদের তরুণদের সব সময় বাংলাদেশের বাইরেই তাকাতে হবে না। বাংলাদেশে কাটানো এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি এমন অনেক অনুপ্রেরণীয় মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই গর্ব করার মতো। তারা এমন মানুষ, যাদের গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে। আমি আশা করি, সামনে এমন আরও অনেক মানুষের সাথে আমার পরিচয় হবে।

তিনি আরও লেখেন, তবে শুধু অনুপ্রেরণা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। আমাদের এমন সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশ করতে পারবে। শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো নতুন দক্ষতা শেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীর যেন ভাগ্য, পরিচিত মানুষ বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে আমাদের মধ্যে থেকে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

একজন সঠিক মানুষের উৎসাহ এদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সে ব্যাপারে জাইমা লিখেছেন, আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহও তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। সামান্য একটু সহানুভূতি বা বিশ্বাসও একটি তরুণ জীবনকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।

জাইমা রহমান তার স্ট্যাটাসের শেষে দেশের কাছে, সমাজের কাছে, মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তার লেখার ইতি টানেন।

তিনি লেখেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না। এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। আসল প্রশ্ন হলো যে, যখন তাদের আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি কি?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত

জাইমা রহমানের পোস্টে স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার গল্প

আপডেট টাইম : ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। বিভিন্ন ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব থাকেন তিনি।এবার তিনি বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সম্ভাবনা, সংগ্রাম এবং তাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা পোস্টে তুলে ধরেছেন।

আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন জাইমা রহমান।

পোস্টে জাইমা রহমান লিখেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে আমার পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, পরিবেশ রক্ষা, সঙ্গীত এবং শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা এবং কোডিং পর্যন্ত নানা বিষয়ে তাদের অসাধারণ অর্জন রয়েছে। তাদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় মনোবল সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য তারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

এদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে নানা বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কারো রয়েছে আর্থিক সংকট, কারো ওপর পরিবারের দায়িত্ব। ভিন্নভাবে সক্ষম অনেককেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হয়। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কখনো কখনো মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো পথ নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা নিজের সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব পালন সহজ নয়।

পোস্টে তিনি বাবা-মা, শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও সমাজের ইতিবাচক ব্যক্তিদের রোল মডেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি আমাদের রোল মডেলদের কথা ভাবছিলাম। আমাদের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে? কারা তাদের দেখায় যে জীবনে কত কিছু অর্জন করা সম্ভব? পথ কঠিন হয়ে গেলে কারা তাদের সাহস দেয়? রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হতে হবে না। তিনি হতে পারেন এমন একজন বাবা বা মা, যিনি কখনো হাল ছাড়েন না। এমন একজন শিক্ষক, যিনি কোনো শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনা দেখেন। এমন একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মূল্য শেখান। কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কেউ, যাকে দেখে কোনো তরুণ মনে সাহস পাবে এবং ভাববে, “আমিও এটা করতে পারব।”

জীবনে বড় হবার পথে ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে জাইমা লেখেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য আমাদের তরুণদের সব সময় বাংলাদেশের বাইরেই তাকাতে হবে না। বাংলাদেশে কাটানো এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি এমন অনেক অনুপ্রেরণীয় মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই গর্ব করার মতো। তারা এমন মানুষ, যাদের গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে। আমি আশা করি, সামনে এমন আরও অনেক মানুষের সাথে আমার পরিচয় হবে।

তিনি আরও লেখেন, তবে শুধু অনুপ্রেরণা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। আমাদের এমন সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশ করতে পারবে। শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো নতুন দক্ষতা শেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীর যেন ভাগ্য, পরিচিত মানুষ বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে আমাদের মধ্যে থেকে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

একজন সঠিক মানুষের উৎসাহ এদেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সে ব্যাপারে জাইমা লিখেছেন, আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহও তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। সামান্য একটু সহানুভূতি বা বিশ্বাসও একটি তরুণ জীবনকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।

জাইমা রহমান তার স্ট্যাটাসের শেষে দেশের কাছে, সমাজের কাছে, মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তার লেখার ইতি টানেন।

তিনি লেখেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না। এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। আসল প্রশ্ন হলো যে, যখন তাদের আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি কি?