ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব; সকালে পরীক্ষার হলে ইকন

বাগেরহাটে বিকেলে বাবার দাফন ও রাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করে সকালে পরীক্ষার হলে বসেছেন ইসমাইল ইকন নামের এক তরুণ। বাবার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রুপান্তর করে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করে পরীক্ষা দেওয়ার এই ঘটনা অনেকের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

সমাজের বিত্তবানদের অসহায় এই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা।

জানাযায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর রাতে বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল সড়কে ভাড়া বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইসমাইল ইকনের বাবা ৪৫ বছর বয়সি ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গোপালগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে দাফন শেষে রাতে এসে বাগেরহাট শহরের রেল রোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন শুরু করেন জীবন যুদ্ধে হার না মানা এই তরুণ। দায়িত্ব পালন শেষে আজ বুধবার সকালেই সরকারি পিসি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

বাবা-মা ও ভাইকে নিয়ে বাসা ভাড়া থাকেন ইসমাইল ইকন। চার জনের সংসার চলত বাবা ইসরাফিল দাড়িয়ার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর আয়ে। খেয়ে না খেয়ে নিজের লেখাপড়া চালিয়েছেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী। এসএসসি জিপিএ ৪.১১ পাওয়া খানাজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন এখন হাজারো তরুণের সাহসের উদাহরণ।

ইসমাইল ইকন বলেন, অনেকদিন থেকেই সংসারে অভাব ছিল। যার কারণে এটিএম বুথে চাকুরি নিয়েছিলাম। বাবা মারা যাওয়ায় অথৈ সাগরে পড়েছি। মা ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ভাইসহ সংসারের দায়িত্ব এখন আমার উপর। এই পরিস্থিতিতে পড়াশুনা ও চাকুরি একসাথে চালিয়ে যেতে চাই।

বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ফকির বলেন, চলতি বছরের মে মাস থেকে কৃষি ব্যাংকটির এটিএম বুথে চাকুরি করেন ইকন। এর আগে পড়াশুনা ব্যয় মেটাতে এলাকায় টিউশনি করতেন তিনি।

খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখী বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় ভর্তির পর থেকে ইকনকে বিশেষ নজর দেওয়া হত। কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলোতে সে ভাল ফলাফল করেছে। আশা করি এইচএসসি পরীক্ষায়ও ভাল করবে। তার উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই শিক্ষক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব; সকালে পরীক্ষার হলে ইকন

আপডেট টাইম : ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটে বিকেলে বাবার দাফন ও রাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করে সকালে পরীক্ষার হলে বসেছেন ইসমাইল ইকন নামের এক তরুণ। বাবার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রুপান্তর করে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করে পরীক্ষা দেওয়ার এই ঘটনা অনেকের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

সমাজের বিত্তবানদের অসহায় এই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা।

জানাযায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর রাতে বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল সড়কে ভাড়া বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইসমাইল ইকনের বাবা ৪৫ বছর বয়সি ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গোপালগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে দাফন শেষে রাতে এসে বাগেরহাট শহরের রেল রোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন শুরু করেন জীবন যুদ্ধে হার না মানা এই তরুণ। দায়িত্ব পালন শেষে আজ বুধবার সকালেই সরকারি পিসি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

বাবা-মা ও ভাইকে নিয়ে বাসা ভাড়া থাকেন ইসমাইল ইকন। চার জনের সংসার চলত বাবা ইসরাফিল দাড়িয়ার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর আয়ে। খেয়ে না খেয়ে নিজের লেখাপড়া চালিয়েছেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী। এসএসসি জিপিএ ৪.১১ পাওয়া খানাজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন এখন হাজারো তরুণের সাহসের উদাহরণ।

ইসমাইল ইকন বলেন, অনেকদিন থেকেই সংসারে অভাব ছিল। যার কারণে এটিএম বুথে চাকুরি নিয়েছিলাম। বাবা মারা যাওয়ায় অথৈ সাগরে পড়েছি। মা ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ভাইসহ সংসারের দায়িত্ব এখন আমার উপর। এই পরিস্থিতিতে পড়াশুনা ও চাকুরি একসাথে চালিয়ে যেতে চাই।

বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ফকির বলেন, চলতি বছরের মে মাস থেকে কৃষি ব্যাংকটির এটিএম বুথে চাকুরি করেন ইকন। এর আগে পড়াশুনা ব্যয় মেটাতে এলাকায় টিউশনি করতেন তিনি।

খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখী বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় ভর্তির পর থেকে ইকনকে বিশেষ নজর দেওয়া হত। কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলোতে সে ভাল ফলাফল করেছে। আশা করি এইচএসসি পরীক্ষায়ও ভাল করবে। তার উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই শিক্ষক।