ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর আমরা মালিক নই, ১৮ কোটি জনগণের সেবক : ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু ও দূষণ রোধের সিদ্ধান্ত টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা যেভাবে বানাবেন এক কাপ ‘পারফেক্ট’ দুধ চা বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাতাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলতে তিন ক্লাবকে ‘আমন্ত্রণ’ বাফুফের মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের ৩৬ জুলাই উদ্‌যাপনে কনসার্ট ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ রাজনীতি বিভেদ বাড়ায়, আমরা সম্প্রীতির সমাজ চাই: মির্জা ফখরুল

বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাতাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তরুণ উদ্ভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রোববার (২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ড্রোনটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং তাদের সাফল্যের প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সরকার সবসময় পাশে থাকবে। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নেবে।
তিনি আরও জানান, ড্রোনটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
বৈঠকে শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনা শেষে তারা প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু গড়ে তুলতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে আগ্রহী হলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদেরও দেশে ফিরে এই খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সবাই দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে ২৩ থেকে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দলকে পেছনে ফেলে এমআইএসটির মিস্ট ম্যাভিরভ দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানারআপ এবং স্বাগতিক কানাডা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রকৌশল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং দলগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রথম স্থান অর্জন করে এমআইএসটির দল। এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর

বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাতাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ৪৪ মিনিট আগে
আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তরুণ উদ্ভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রোববার (২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ড্রোনটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং তাদের সাফল্যের প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সরকার সবসময় পাশে থাকবে। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নেবে।
তিনি আরও জানান, ড্রোনটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
বৈঠকে শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনা শেষে তারা প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু গড়ে তুলতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে আগ্রহী হলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদেরও দেশে ফিরে এই খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সবাই দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে ২৩ থেকে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দলকে পেছনে ফেলে এমআইএসটির মিস্ট ম্যাভিরভ দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানারআপ এবং স্বাগতিক কানাডা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রকৌশল দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং দলগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রথম স্থান অর্জন করে এমআইএসটির দল। এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।