স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা।
মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির।
তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এ জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।
কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।
কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।
খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করা এবং জুয়া বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার সুযোগ থাকবে।
খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।
নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।
খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি এবং সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করা হয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























