নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল। এ ঘোষণার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে পরদিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করেই ইসি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না।
দলীয় নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের জন্য সঠিক সময় না পেলে দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাঁচ ধাপে নির্বাচন হলে দল প্রতিটি ধাপের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বাছাই করার পর্যাপ্ত সময় পাবে। বিএনপি মনে করে, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলো ভেঙে পড়েছিল এবং বর্তমানে অনেক জায়গায় প্রশাসকদের মাধ্যমে কাজ চলছে। পাঁচ ধাপে ধীরে ধীরে নির্বাচন সম্পন্ন করলে মাঠপর্যায়ে একটি স্বাভাবিক ও সর্বজনগ্রাহ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
বিএনপি মনে করে, পাঁচ ধাপে নির্বাচন হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি রাখা এবং নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখা সহজ হবে। এতে সরকারের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ফুটে উঠবে। প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ফলাফল ও মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপগুলোতে কৌশল নির্ধারণ করা সহজ হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা জানিয়েছে কমিশন। সেখানে স্থানীয় নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে। বিএনপির পাঁচ ধাপের প্রস্তাব সরাসরি ইসির আলোচনার টেবিলে তুলে ধরবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বলেন, সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























