ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এ মন, হৃদয় জড়ালে আমায় কখন— কী বার্তা তমা মির্জার এক হাজার গোলের টার্গেট রোনালদোর হাসিনা যেমন ছিল, যদি তোমরাও একই কাজ করো তোমাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: ফজলুর রহমান ১০০ ফুট লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা ফের রিমান্ডে এমপি নজরুল জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন সভাপতির কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য সাতলা বিল, মুগ্ধ পর্যটকেরা

দাপুটে অতিরিক্ত ডিআইজিসহ তিন পুলিশ সুপারকে বরখাস্ত

সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলের দাপুটে সাবেক চার পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- ডিএমপি ডিবির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সঞ্জিত কুমার রায়, ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার, সাবেক রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বিভাগীয় মামলার তদন্তে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ ও দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ সন্তোষজনক জবাব দেননি।

বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে চার কর্মকর্তাকেই চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া হলে কমিশনও বরখাস্তের সিদ্ধান্তে সম্মতি দেয়। পরে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ২৭ আগস্ট তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

সঞ্জিত কুমার রায়

সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ডিবি অ্যাডমিন অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিস) (অতিরিক্ত ডিআইজি) সঞ্জিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং আইনানুগ আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

মানস কুমার পোদ্দার

ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের পাশাপাশি দ্বিতীয় নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

শাহজাহান

সাবেক রংপুরের এসপি মো. শাহজাহান ছুটি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও আর কাজে যোগ দেননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বরখাস্ত ২০২৫ সালের।১৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

মো. হাফিজ আল ফারুক

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. হাফিজ আল ফারুক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঁচদিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে যাওয়ার পর অসুস্থতার কথা জানিয়ে কয়েক দফা বিশ্রামে ছিলেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় এবং পিএসসির সম্মতির পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ আদেশ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

দাপুটে অতিরিক্ত ডিআইজিসহ তিন পুলিশ সুপারকে বরখাস্ত

আপডেট টাইম : ০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলের দাপুটে সাবেক চার পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- ডিএমপি ডিবির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সঞ্জিত কুমার রায়, ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার, সাবেক রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বিভাগীয় মামলার তদন্তে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ ও দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ সন্তোষজনক জবাব দেননি।

বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে চার কর্মকর্তাকেই চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া হলে কমিশনও বরখাস্তের সিদ্ধান্তে সম্মতি দেয়। পরে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ২৭ আগস্ট তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

সঞ্জিত কুমার রায়

সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ডিবি অ্যাডমিন অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিস) (অতিরিক্ত ডিআইজি) সঞ্জিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং আইনানুগ আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

মানস কুমার পোদ্দার

ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের পাশাপাশি দ্বিতীয় নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

শাহজাহান

সাবেক রংপুরের এসপি মো. শাহজাহান ছুটি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও আর কাজে যোগ দেননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বরখাস্ত ২০২৫ সালের।১৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

মো. হাফিজ আল ফারুক

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. হাফিজ আল ফারুক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঁচদিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে যাওয়ার পর অসুস্থতার কথা জানিয়ে কয়েক দফা বিশ্রামে ছিলেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় এবং পিএসসির সম্মতির পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ আদেশ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর।