দীর্ঘদিন ধরে কাঙিক্ষত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে বগুড়া জেলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অবহেলার কারণে বহু সম্ভাবনাময় প্রকল্প থমকে ছিল। এবার সেই বঞ্চনা ঘুচিয়ে বগুড়াকে আধুনিক, শিল্পসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন জেলাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক শিকড় এবং বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে বগুড়ার রাজনৈতিক পরিচিতি দেশজুড়ে। কিন্তু সেই পরিচিতি উন্নয়নের সমান সুযোগে রূপ নেয়নি বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত দেড় দশকের বেশি সময়ে বগুড়ার সম্ভাবনার তুলনায় উন্নয়ন ছিল অপ্রতুল। প্রতিশ্রুতি এসেছে, পরিকল্পনার কথা শোনা গেছে, মন্ত্রী-এমপিরা পরিদর্শন করেছেন; কিন্তু বহু প্রত্যাশিত প্রকল্প বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
এবার সেই চিত্র বদলানোর প্রত্যাশা। বগুড়ার সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, বগুড়ার উন্নয়ন আর প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নেবে।
জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বগুড়া। কৃষিপণ্য উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগব্যবস্থায় জেলাটির রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়াকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার করা সম্ভব। কিন্তু পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, আধুনিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সুবিধা এবং উচ্চশিক্ষার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় সেই সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তরুণদের বড় একটি অংশকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছুটতে হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় তারেক রহমান সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নবৈষম্যের ভিত্তিতে জেলাটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের একটি আধুনিক নগর ও শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করা। ১৯৯৬ সালে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ায় বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০০০ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও দীর্ঘ সময়েও সেখানে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়নি। তারেক রহমান সরকারের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। বগুড়ার উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি দ্রুত রেলপথ নির্মাণ। প্রস্তাবিত রেলপথ দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হলে দূরত্ব ও সময় কমানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এ রেলপথ শুধু বগুড়ার মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না; কৃষিপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান বগুড়াবাসী। বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীতে নতুন প্লটের স্বল্পতা ও শিল্প সম্প্রসারণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ বাড়াতে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী অথবা উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল স্থাপনের দাবি উঠেছে।
বগুড়ায় ভারী শিল্পপার্ক, সার কারখানা এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় কাঁচামাল ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন কাজে লাগানো সম্ভব হবে। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন অনেকে। কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল উৎপাদনব্যবস্থা সম্প্রসারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে বগুড়ার উন্নয়নে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়েছেন বগুড়ার আরেক সন্তান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বগুড়ার মানুষের মনে যে স্বপ্ন জেগেছিল, তা যেন দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি কেবল দপ্তরের ফাইলে সীমাবদ্ধ না থেকে নেমে গেছেন সরাসরি মানুষের মাঝে। একদিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি, অন্যদিকে নিজ এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতায় তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তাঁর প্রচেষ্টায় বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল। পাশাপাশি বগুড়ার ১৩তম উপজেলা হিসেবে মোকামতলা উপজেলা গঠনের পেছনেও তাঁর নিরলস পরিশ্রম রয়েছে।
বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেই পরিকল্পনার অনেকগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জেলাটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর উন্নয়নবঞ্চিত বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরেও সেই অগ্রাধিকারের প্রতিফলন দেখা গেছে। বগুড়াকে নিয়ে তাঁর আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























