ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময় জানাল ইসি ফুটবলে এবার ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ সাত ইসলামী দলের ঐক্য গড়তে মতবিরোধ কমছে শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর, হাসপাতাল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি কোয়ার্টার তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তনকে ক্ষমা করতে চান না পরী জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, দিলেন যে ব্যাখ্যা

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, দিলেন যে ব্যাখ্যা

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি মাদক আস্তানায় পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় রাজনীতিকদের নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। আজ শনিবারের এ অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়। অভিযানের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ইশরাক হোসেনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে বলে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে অভিযানে তাঁর সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। একাধিক ভিডিওতে তাঁকে সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়।

ইশরাক হোসেন জানান, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর তৈরি করে সেখানে মাদক কেনাবেচা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। মাদকসেবী ও কারবারিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়িঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। আটক ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁদের দুজনকে মারধর করতেও দেখা গেছে।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।’

মাদকাসক্তির কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাদকের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যারা বাইরে থেকে এসে মাদক দিয়ে যায়, তাদের আটক করতে পারবে—এমন ব্যক্তিদের আমার মাথায় করে রাখব। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশ অভিযান চলবে, বাংলাদেশে কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।’

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁদের আশ্বস্ত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে। তাদের বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি হবে।’

এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাঁদের নিয়ে আসেন।

ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময় জানাল ইসি

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, দিলেন যে ব্যাখ্যা

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি মাদক আস্তানায় পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় রাজনীতিকদের নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। আজ শনিবারের এ অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়। অভিযানের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ইশরাক হোসেনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে বলে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে অভিযানে তাঁর সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। একাধিক ভিডিওতে তাঁকে সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়।

ইশরাক হোসেন জানান, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর তৈরি করে সেখানে মাদক কেনাবেচা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। মাদকসেবী ও কারবারিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়িঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। আটক ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁদের দুজনকে মারধর করতেও দেখা গেছে।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।’

মাদকাসক্তির কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাদকের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যারা বাইরে থেকে এসে মাদক দিয়ে যায়, তাদের আটক করতে পারবে—এমন ব্যক্তিদের আমার মাথায় করে রাখব। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশ অভিযান চলবে, বাংলাদেশে কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।’

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁদের আশ্বস্ত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে। তাদের বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি হবে।’

এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাঁদের নিয়ে আসেন।

ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।