ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জিরো কমপ্লেন’ থানা হবে প্রতিটি জেলা সদর

নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মাদক বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইজিপি গতকাল সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রথম বৈঠকে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি পুলিশ সুপারদের ১৫ দফা নির্দেশনা দেন। প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন থানা’ ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নে প্রথম অগ্রাধিকার দিতেও নির্দেশনা প্রদান করেন।

আইজিপি বলেন, আপনাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢিলেঢালা অবস্থান থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে যথাসময়ে অবহিত করা হচ্ছে না। এমনকি গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। এটা আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখছি। এ কারণে ‘পুলিশ রিঅ্যাকশন টাইম’ ন্যূনতম মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনা গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে না। ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঈদের মার্কেটসমূহের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে আগত যাত্রীদের যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গণধর্ষণসহ চাঞ্চল্যকর ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইজিপি বলেন, জিরো কমপ্লেন থানা হিসেবে প্রতিটি জেলার সদর থানাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। একজন সার্কেল অফিসারকে উক্ত থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে। আমাদের ট্রাডিশনাল পুলিশিং থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। একটা নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ইমেজ একশ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। এখন জিরো কমপ্লেন থানাতে যে ধরনের লোকই আসুক তারা যেন পুলিশের বিরুদ্ধে সমাজে বা কারো কাছে কোনো কমপ্লেন করতে না পারে। তাহলে দেখা যাবে যে ওই থানাতে পুলিশের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। এতে পুরো জেলার গ্রহণযোগ্যতা ও ইমেজ বাড়বে। সারা বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অপবাদ, অপপ্রচার এগুলো থাকবে না। তাহলে আমরা যে বৈষম্যবিরোধী নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব।

আইজিপি আরও বলেন, এক সময় হাফপ্যান্ট পরা দারোগা বা কনসেটবল এলাকায় গেলে এলাকা ফাঁকা হয়ে যেত। সেটা ভয়ে হোক রেসপেক্টের কারণে হোক। কারণ তখন তারা পুলিশিংটা করতে পারত। কিন্তু এখন আমরা মব কালচার বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ইমেজ বৃদ্ধি করতে পারছি না। এখন থানাতে যেই আসুক তাকে এক কাপ চা খাওয়াবেন। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। কী সমস্যা নিয়ে এলো সেটা যদি প্রতিকার দিতে নাও পারেন, কোথায় গেলে প্রতিকার পাবেন সেই গাইডলাইন দেবেন। তাহলে আমরা আমাদের ইমেজ বৃদ্ধি করতে পারব। মানুষ থানায় আসবেন কষ্ট নিয়ে আর বের হবেন হাসিমুখে। এটা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। থানার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও নজর দেবেন। কাজটা করতে পারেন বা না পারেন হাসিমুখে বিদায় দিতে হবে থানায় আসা মানুষকে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে সর্বক্ষেত্রে প্রো-পিপল পুলিশিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। অসন্তোষ প্রশমনে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বসে ঈদের বেতন-ভাতাদির বিষয়ে আলোচনা করবেন। টেবিলে বসেই সমস্যার সমাধান করবেন। যাতে রাস্তায় কোনো জনভোগান্তি না হয়। ইফতার মাহফিলসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের নিরুৎসাহিত করবেন। আর সামাজিকমাধ্যমে কোনো অপপ্রচার হলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে জানাবেন।

আইজিপি আরও বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ বন্ধ করতে হবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। মামলা তদন্তের মান বৃদ্ধি করতে হবে। আপনারা জানেন, আমাদের মামলা তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বতন্ত্র ইনভেস্টিগেশন উইং করার জন্য সরকার তৎপর ছিল। আমরা সেটা যুক্তি, ব্যাখ্যা দিয়ে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশকে অকার্যকর করার জন্য উগ্রবাদের উত্থানের চেষ্টা হচ্ছে। আপনারা এগুলো অংকুরেই ব্যবস্থা নেবেন। এটিইউ ও এসবির সহায়তা নেবেন। এ জন্য ইন্টেলিজেন্স বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে বিনিয়োগ আসবে না। কর্মসংস্থান হবে না। ৬৪ জন কমান্ডারের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে কয়েকজন জেলা পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারগণের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

‘জিরো কমপ্লেন’ থানা হবে প্রতিটি জেলা সদর

আপডেট টাইম : ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মাদক বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইজিপি গতকাল সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রথম বৈঠকে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি পুলিশ সুপারদের ১৫ দফা নির্দেশনা দেন। প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন থানা’ ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নে প্রথম অগ্রাধিকার দিতেও নির্দেশনা প্রদান করেন।

আইজিপি বলেন, আপনাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢিলেঢালা অবস্থান থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে যথাসময়ে অবহিত করা হচ্ছে না। এমনকি গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। এটা আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখছি। এ কারণে ‘পুলিশ রিঅ্যাকশন টাইম’ ন্যূনতম মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনা গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে না। ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঈদের মার্কেটসমূহের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে আগত যাত্রীদের যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গণধর্ষণসহ চাঞ্চল্যকর ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইজিপি বলেন, জিরো কমপ্লেন থানা হিসেবে প্রতিটি জেলার সদর থানাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। একজন সার্কেল অফিসারকে উক্ত থানার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে। আমাদের ট্রাডিশনাল পুলিশিং থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। একটা নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ইমেজ একশ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। এখন জিরো কমপ্লেন থানাতে যে ধরনের লোকই আসুক তারা যেন পুলিশের বিরুদ্ধে সমাজে বা কারো কাছে কোনো কমপ্লেন করতে না পারে। তাহলে দেখা যাবে যে ওই থানাতে পুলিশের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। এতে পুরো জেলার গ্রহণযোগ্যতা ও ইমেজ বাড়বে। সারা বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অপবাদ, অপপ্রচার এগুলো থাকবে না। তাহলে আমরা যে বৈষম্যবিরোধী নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব।

আইজিপি আরও বলেন, এক সময় হাফপ্যান্ট পরা দারোগা বা কনসেটবল এলাকায় গেলে এলাকা ফাঁকা হয়ে যেত। সেটা ভয়ে হোক রেসপেক্টের কারণে হোক। কারণ তখন তারা পুলিশিংটা করতে পারত। কিন্তু এখন আমরা মব কালচার বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ইমেজ বৃদ্ধি করতে পারছি না। এখন থানাতে যেই আসুক তাকে এক কাপ চা খাওয়াবেন। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। কী সমস্যা নিয়ে এলো সেটা যদি প্রতিকার দিতে নাও পারেন, কোথায় গেলে প্রতিকার পাবেন সেই গাইডলাইন দেবেন। তাহলে আমরা আমাদের ইমেজ বৃদ্ধি করতে পারব। মানুষ থানায় আসবেন কষ্ট নিয়ে আর বের হবেন হাসিমুখে। এটা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। থানার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও নজর দেবেন। কাজটা করতে পারেন বা না পারেন হাসিমুখে বিদায় দিতে হবে থানায় আসা মানুষকে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে সর্বক্ষেত্রে প্রো-পিপল পুলিশিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। অসন্তোষ প্রশমনে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বসে ঈদের বেতন-ভাতাদির বিষয়ে আলোচনা করবেন। টেবিলে বসেই সমস্যার সমাধান করবেন। যাতে রাস্তায় কোনো জনভোগান্তি না হয়। ইফতার মাহফিলসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের নিরুৎসাহিত করবেন। আর সামাজিকমাধ্যমে কোনো অপপ্রচার হলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে জানাবেন।

আইজিপি আরও বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ বন্ধ করতে হবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। মামলা তদন্তের মান বৃদ্ধি করতে হবে। আপনারা জানেন, আমাদের মামলা তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বতন্ত্র ইনভেস্টিগেশন উইং করার জন্য সরকার তৎপর ছিল। আমরা সেটা যুক্তি, ব্যাখ্যা দিয়ে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশকে অকার্যকর করার জন্য উগ্রবাদের উত্থানের চেষ্টা হচ্ছে। আপনারা এগুলো অংকুরেই ব্যবস্থা নেবেন। এটিইউ ও এসবির সহায়তা নেবেন। এ জন্য ইন্টেলিজেন্স বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে বিনিয়োগ আসবে না। কর্মসংস্থান হবে না। ৬৪ জন কমান্ডারের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে কয়েকজন জেলা পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারগণের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।