ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খলিলুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনও ফাঁকা ৩৪ হাজার কোটা, হজ নিবন্ধনের আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ভারত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে তোলপাড় নদীর বুকে পিলার আছে শুধু, সেতুর নেই দেখা জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবি যুবদল সভাপতির নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’ (পিআইও) নেই দেশের অর্ধশতাধিক উপজেলায়। উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন তদারকিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তা না থাকায় পাশের উপজেলার কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে কোনো উপজেলায়ই উন্নয়ন এবং তদারকি ঠিকমতো হচ্ছে না। পিআইও-সংকটে অনেক উপজেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। আর নিজ এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে সচিবালয়ে দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন সংসদ সদস্যরা। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে শূন্য হাতেই ফিরছেন। মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বশীলরা এমপিদের বলছেন, ‘লাগলে বরাদ্দ বাড়িয়ে দিতে পারব। কর্মকর্তা লাগলে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব দিতে পারব কিন্তু পিআইও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

গত সপ্তাহে শেরপুর সদরের সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা নিজের এলাকায় পিআইও পেতে মন্ত্রণালয়ে সচিব ও মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। আশ্বাসের বাণী নিয়ে ফিরে যান। কবে পাবেন তা অনিশ্চিত। ওই সপ্তাহে আরও একাধিক এমপি এসেছিলেন পিআইও পেতে। কেউ তার এলাকার পিআইও বদলি করে অন্য এলাকার পিআইওকে চাচ্ছেন। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, একজন এমপি তার এলাকার উন্নয়নে পিআইও চাইবেন এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের পিআইও কম থাকায় অনেক স্থানে দুই উপজেলার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন একজন। মন্ত্রী-সচিব প্রতিদিনই এ আবাদার শুনছেন কিন্তু এই মুহূর্তে সমাধান নেই। আইনি জটিলতায় থেমে আছে বিষয়টি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মিলে মোট পিআইও পদ রয়েছে ৫০৭টি। কর্মরত আছেন ৪৮৫ জন। সে হিসাবে ২২ উপজেলাই পিআইও নেই। এর বাইরে অনেক পিআইও বিভিন্ন প্রকল্পে  সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সে হিসেবে প্রায় অর্ধশত উপজেলায় পিআইও নেই। এ উপজেলাগুলোতে পাশের উপজেলার কমকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া আছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার কারণে মাঠপর্যায়ে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও স্বল্প সময়ের কর্মসূচিগুলো কোথাও ফাইলবন্দি, কোথাও থেমে আছে বা ধীরগতি। বন্যা, খরা বা আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে মাঠপর্যায়ে ত্রাণ বণ্টন এবং উদ্ধার তৎপরতার তদারকিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। এলাকার সংসদ সদস্যরা সরাসরি সচিবালয়ের বারান্দায় প্রতিদিন ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) হাতে ভিড় করছেন।

এ বিষয়ে দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক উপজেলায় পিআইও-সংকট আছে, এমপিরাও চাচেছন। আইনি জটিলতায় নতুন নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে  আমরা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

খলিলুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা

আপডেট টাইম : ০৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা’ (পিআইও) নেই দেশের অর্ধশতাধিক উপজেলায়। উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন তদারকিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তা না থাকায় পাশের উপজেলার কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে কোনো উপজেলায়ই উন্নয়ন এবং তদারকি ঠিকমতো হচ্ছে না। পিআইও-সংকটে অনেক উপজেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। আর নিজ এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে সচিবালয়ে দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন সংসদ সদস্যরা। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে শূন্য হাতেই ফিরছেন। মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বশীলরা এমপিদের বলছেন, ‘লাগলে বরাদ্দ বাড়িয়ে দিতে পারব। কর্মকর্তা লাগলে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব দিতে পারব কিন্তু পিআইও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

গত সপ্তাহে শেরপুর সদরের সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা নিজের এলাকায় পিআইও পেতে মন্ত্রণালয়ে সচিব ও মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। আশ্বাসের বাণী নিয়ে ফিরে যান। কবে পাবেন তা অনিশ্চিত। ওই সপ্তাহে আরও একাধিক এমপি এসেছিলেন পিআইও পেতে। কেউ তার এলাকার পিআইও বদলি করে অন্য এলাকার পিআইওকে চাচ্ছেন। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, একজন এমপি তার এলাকার উন্নয়নে পিআইও চাইবেন এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের পিআইও কম থাকায় অনেক স্থানে দুই উপজেলার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন একজন। মন্ত্রী-সচিব প্রতিদিনই এ আবাদার শুনছেন কিন্তু এই মুহূর্তে সমাধান নেই। আইনি জটিলতায় থেমে আছে বিষয়টি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মিলে মোট পিআইও পদ রয়েছে ৫০৭টি। কর্মরত আছেন ৪৮৫ জন। সে হিসাবে ২২ উপজেলাই পিআইও নেই। এর বাইরে অনেক পিআইও বিভিন্ন প্রকল্পে  সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সে হিসেবে প্রায় অর্ধশত উপজেলায় পিআইও নেই। এ উপজেলাগুলোতে পাশের উপজেলার কমকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া আছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার কারণে মাঠপর্যায়ে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও স্বল্প সময়ের কর্মসূচিগুলো কোথাও ফাইলবন্দি, কোথাও থেমে আছে বা ধীরগতি। বন্যা, খরা বা আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে মাঠপর্যায়ে ত্রাণ বণ্টন এবং উদ্ধার তৎপরতার তদারকিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। এলাকার সংসদ সদস্যরা সরাসরি সচিবালয়ের বারান্দায় প্রতিদিন ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) হাতে ভিড় করছেন।

এ বিষয়ে দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক উপজেলায় পিআইও-সংকট আছে, এমপিরাও চাচেছন। আইনি জটিলতায় নতুন নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে  আমরা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।