ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এক বছরের মধ্যে লক্ষ্য ৫ হাজার মেগাওয়াট ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক শিক্ষার্থীরাই যার সন্তান, কল্যাণী তাদের স্বপ্নসারথি ভিকির পুলসিরাতে মেহজাবীন এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি সই শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব

বিক্রি হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প। কিন্তু রাজশাহীর কিছু এলাকায় সেই সরকারি ঘর বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দপ্রাপ্তদের কেউ ঘর ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ আবার অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছেন। যারা আছেন, তাদেরও ভোগান্তির শেষ নেই।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ পান জসমদ আলী। তিনি সেখানে থাকেন না। ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন আনজুরার কাছে। বিক্রির মধ্যস্থতা করেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি ওই প্রকল্পের সভাপতি। তবে ঘর বিক্রির মধ্যস্থতার অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জসমদ আলী থাকেন না। হয়তো তাঁর আত্মীয় কেউ থাকছেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

আশ্রয়ণ প্রকল্প ভূমিহীনদের জন্য হলেও বরাদ্দ পেয়েছেন অনেক সাবলম্বী। সরকারি ঘর বরাদ্দ নিয়েছে কিন্তু সেখানে থাকে না অনেক পরিবার। রাজশাহীর সব আশ্রয়ণ প্রকল্পের চিত্র এমনই। যারা থাকেন তাদেরও সমস্যার অন্ত নেই। ঘরে ফাটল ধরেছে, বৃষ্টি হলে জমে থাকে পানি। আছে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ।

আবাসনের বাসিন্দা আবুল বাশার স্বপন বলেন, বেশির ভাগ ঘরে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। আবার বৃষ্টির সময় পানি নামার কোনো ব্যবস্থাও থাকে না। ফলে জমে থাকা পানির কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে। তিনি আরও বলেন, সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে, কিন্তু এখানে জীবিকা নেই। অনেকেই চাকরির জন্য রাজশাহী বা রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করেন। যখন ছুটি পান তখন আসেন। বাকি সময় ঘর ফাঁকা পড়ে থাকে। কেউ কেউ ঘর কিছু টাকার বিনিময়ে অন্যকে দিয়েছেন। আরেক বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, অনেকেই আছেন যাদের জায়গাজমি আছে, তার পরেও এখানে থাকেন। আবার অনেকে আছেন যারা নিজের নামে ঘর নিয়ে রেখেছেন কিন্তু থাকেন না। অন্য কাউকে থাকতে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঘরগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টির সময় চালা দিয়ে পানি পড়ে। ঘরগুলো ফেটে গেছে, অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আমরা করে দেব। কিন্তু সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির সুযোগ নেই। এমনটা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা

বিক্রি হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

আপডেট টাইম : ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প। কিন্তু রাজশাহীর কিছু এলাকায় সেই সরকারি ঘর বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দপ্রাপ্তদের কেউ ঘর ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ আবার অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছেন। যারা আছেন, তাদেরও ভোগান্তির শেষ নেই।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ পান জসমদ আলী। তিনি সেখানে থাকেন না। ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন আনজুরার কাছে। বিক্রির মধ্যস্থতা করেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি ওই প্রকল্পের সভাপতি। তবে ঘর বিক্রির মধ্যস্থতার অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জসমদ আলী থাকেন না। হয়তো তাঁর আত্মীয় কেউ থাকছেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

আশ্রয়ণ প্রকল্প ভূমিহীনদের জন্য হলেও বরাদ্দ পেয়েছেন অনেক সাবলম্বী। সরকারি ঘর বরাদ্দ নিয়েছে কিন্তু সেখানে থাকে না অনেক পরিবার। রাজশাহীর সব আশ্রয়ণ প্রকল্পের চিত্র এমনই। যারা থাকেন তাদেরও সমস্যার অন্ত নেই। ঘরে ফাটল ধরেছে, বৃষ্টি হলে জমে থাকে পানি। আছে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ।

আবাসনের বাসিন্দা আবুল বাশার স্বপন বলেন, বেশির ভাগ ঘরে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। আবার বৃষ্টির সময় পানি নামার কোনো ব্যবস্থাও থাকে না। ফলে জমে থাকা পানির কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে। তিনি আরও বলেন, সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে, কিন্তু এখানে জীবিকা নেই। অনেকেই চাকরির জন্য রাজশাহী বা রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করেন। যখন ছুটি পান তখন আসেন। বাকি সময় ঘর ফাঁকা পড়ে থাকে। কেউ কেউ ঘর কিছু টাকার বিনিময়ে অন্যকে দিয়েছেন। আরেক বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, অনেকেই আছেন যাদের জায়গাজমি আছে, তার পরেও এখানে থাকেন। আবার অনেকে আছেন যারা নিজের নামে ঘর নিয়ে রেখেছেন কিন্তু থাকেন না। অন্য কাউকে থাকতে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঘরগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টির সময় চালা দিয়ে পানি পড়ে। ঘরগুলো ফেটে গেছে, অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আমরা করে দেব। কিন্তু সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির সুযোগ নেই। এমনটা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’