ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এক বছরের মধ্যে লক্ষ্য ৫ হাজার মেগাওয়াট ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক শিক্ষার্থীরাই যার সন্তান, কল্যাণী তাদের স্বপ্নসারথি ভিকির পুলসিরাতে মেহজাবীন এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি সই শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব

ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক

বিদ্যমান একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়, সরকারের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, সঠিক পরিবার চিহ্নিতকরণ এবং ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ করেছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানির গতি হ্রাস এবং টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে ও ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ এবং রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং বহু নারী চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা দেশের বাহ্যিক খাতকে কিছুটা রক্ষা করছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, “অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বিনিয়োগ-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।”

সব মিলিয়ে, সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা

ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক

আপডেট টাইম : ২৪ মিনিট আগে

বিদ্যমান একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়, সরকারের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, সঠিক পরিবার চিহ্নিতকরণ এবং ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ করেছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানির গতি হ্রাস এবং টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে ও ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ এবং রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং বহু নারী চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা দেশের বাহ্যিক খাতকে কিছুটা রক্ষা করছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, “অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বিনিয়োগ-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।”

সব মিলিয়ে, সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।