দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন। বিচারক বলেছেন, এই মুহূর্তে গাজী নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ন্যায় বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে।
নিহত মরিয়মের মামা আসামি ওবায়দুর রহমানের পক্ষে এদিন জামিন আবেদন করেও শুনানিতে আসেননি আইনজীবী, ফলে শুনানি না করায় ওবায়দুর রহমানের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। নজরুল ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষে হারুন-অর-রশীদ জামিনের বিরোধীতা করেন। শুনানিকালে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মিজানুর রহমান জামিন আবেদনের শুনানিতে বলেন, ‘আপসের শর্তে নজরুল ইসলামের জামিন প্রার্থণা করছি। আবেদনের সাথে আপসনামার ফটোকপি জমা দিয়েছি। বাদী আদালতে উপস্থিত আছে। এসময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর কাছে বিচারক জানতে চান,‘আপস করেছেন? মাসুম বিল্লাহ বলেন,‘হ্যা।’ ভিকটিম কি হয় বিচারক জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন,‘মেয়ে।’
এরপর আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাসের আপসের শর্তে জামিন আবেদন করেছিলাম। বয়স্ক বিবেচনায় মাকছুদা ইসলামকে জামিন দেন আদালত। নজরুল ইসলাম মাকছুদার ইসলামের স্বামী। বয়সে নজরুল ইসলাম তার চেয়ে ১২/১৩ বছরের বড়। বাদী আসামির আত্মীয়, আপস করেছি। জামিন দেন। মামলায় যা হওয়ার হবে।’
তখন জামিনের বিরোধীতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘আসামি একজন সংসদ সদস্য। কয়েক মাস আগে আসামির সাথে ভিকটিমের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর ভিকটিমকে স্ত্রী দাবি করেন। পরে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়। ন্যাম ভবনে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যান। তবে বাসায় নিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। তাকে বারান্দায় ঘুমাতে দিতেন। মামলার ধারা অনুযায়ী আপস করা বেআইনী এবং আপসনামা দাখিল করাও বেআইনী। আর আদালত তা গ্রহণ করতেও বাধ্য না।’ তাই আসামির জামিন নামঞ্জুর করবেন।
দুইপক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক বলেন, ‘আসামি শুধু বয়স্ক এজন্য বা আপসঅযোগ্য ধারায় মামলায় আপসনামা দিয়েছে। কিন্তু ভিকটিম একজন অতি অল্প বয়স্ক মেয়ে মানুষ। তিনি বিভিন্ন চিঠিতে নোট লিখে গেছে। আসামির হেফাজতে থাকাবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন। আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সমাজে ন্যায় বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে। আসামির হাজতবাস বেশি নয়। এই পর্যায়ে তার জামিন নামঞ্জুর করা হলো।’
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।নজরুল ইসলামের সাথে প্রথম দফায় মাকছুদা ইসলামের ২১ সেপ্টেম্বর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।
মরিয়মের বাবার সাথে আসামিদের আপোসের কথা জানান তিনি। তারা জামিন পেলে বাদীপক্ষের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়। পরে আদালত মাকছুদা ইসলামকে জামিন দেন। তবে নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। গেল বৃহস্পতিবার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























