ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের আগে ভারতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছিল জামায়াত

ভারতের সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগের রূপে ফিরতে চাইছে বিএনপি’—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বারবার রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপির ওপরে দায় চাপাচ্ছেন, বিএনপি নাকি ভারতের সঙ্গে আঁতাত করেছে। কিন্তু, দেশের মানুষ জানে, নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাতের আঁধারে মিটিং করেছিল জামায়াত।

তারা এখনো ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত এই অপতৎপরতা শুরু করেছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরে জুমার নামাজ শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘পাহাড়কে অশান্ত করার চক্রান্ত চলছে। পাহাড়ে ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে নানা রকম গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী পাহাড়ের স্থিতিশীলতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ের নিরীহ সাধারণ বাসিন্দারাও স্থিতিশীলতা চায়। কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিশৃঙ্খলা করছে। সরকার এই বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করবে না।’জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘তারা তো কয়েকটা লংমার্চ করেছে। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর অভিমুখে তারা লংমার্চ করেছে।

জামায়াত-এনসিপির এই লংমার্চ জনগণ গ্রহণ করেনি। জনগণ জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতেই সাড়া দেবে না। খুলনার লংমার্চও সফল হবে না। জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না, কাজেই তাদের লংমার্চ নিয়ে সরকার কোনো কিছু ভাবছে না।’বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রুমিন ফারহানা আপা আগে আওয়ামী লীগের বিরোধী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি এনসিপি ও জামায়াতের সমালোচনায় মুখর ছিলেন। তখন বিএনপিকে তার ভালো লাগত। কিন্তু যখনই তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না, সেদিন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের ভাষায়, শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি থানায় গিয়ে ওসিকে তিনি ‘চোর’ বলে মব সৃষ্টি করেছেন। রুমিন ফারহানা রাজনৈতিকভাবে বিএনপি থেকে ছিটকে পড়েছেন।”এর আগে ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এসময় ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি ডা. মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

নির্বাচনের আগে ভারতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছিল জামায়াত

আপডেট টাইম : ৪২ মিনিট আগে

ভারতের সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগের রূপে ফিরতে চাইছে বিএনপি’—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বারবার রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপির ওপরে দায় চাপাচ্ছেন, বিএনপি নাকি ভারতের সঙ্গে আঁতাত করেছে। কিন্তু, দেশের মানুষ জানে, নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাতের আঁধারে মিটিং করেছিল জামায়াত।

তারা এখনো ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত এই অপতৎপরতা শুরু করেছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরে জুমার নামাজ শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘পাহাড়কে অশান্ত করার চক্রান্ত চলছে। পাহাড়ে ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে নানা রকম গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী পাহাড়ের স্থিতিশীলতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ের নিরীহ সাধারণ বাসিন্দারাও স্থিতিশীলতা চায়। কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিশৃঙ্খলা করছে। সরকার এই বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করবে না।’জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘তারা তো কয়েকটা লংমার্চ করেছে। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর অভিমুখে তারা লংমার্চ করেছে।

জামায়াত-এনসিপির এই লংমার্চ জনগণ গ্রহণ করেনি। জনগণ জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতেই সাড়া দেবে না। খুলনার লংমার্চও সফল হবে না। জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না, কাজেই তাদের লংমার্চ নিয়ে সরকার কোনো কিছু ভাবছে না।’বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রুমিন ফারহানা আপা আগে আওয়ামী লীগের বিরোধী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি এনসিপি ও জামায়াতের সমালোচনায় মুখর ছিলেন। তখন বিএনপিকে তার ভালো লাগত। কিন্তু যখনই তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না, সেদিন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের ভাষায়, শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি থানায় গিয়ে ওসিকে তিনি ‘চোর’ বলে মব সৃষ্টি করেছেন। রুমিন ফারহানা রাজনৈতিকভাবে বিএনপি থেকে ছিটকে পড়েছেন।”এর আগে ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এসময় ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি ডা. মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।