বাধ্যতামূলক তবুও সাড়া নেই নতুন ৩৬ পণ্যের মান সনদে

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সম্প্রতি নতুন ৩৬টি পণ্যের মান সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করলেও তেমন সাড়া নেই। উল্লিখিত পণ্য উৎপাদনকারী কম্পানিগুলোকে গেজেট প্রকাশের পর দুই মাস সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর সনদের জন্য আবেদন পড়েছে সামান্যই।

বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, বাধ্যতামূলক মান সনদ নিতে নতুন যুক্ত ৩৬টি পণ্যের বিপরীতে এ পর্যন্ত বিএসটিআইয়ের ঢাকা অফিসে আবেদন করেছে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান।

অথচ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর যে দুই মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকে, তা-ও শেষ হয়েছে গত ২৪ নভেম্বর।নতুন ৩৬টি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিষ্টিজাতীয় বা মিষ্টি, ছানা ও চিজ, টুথব্রাশ, হুয়ে চিজ, ক্রিম চিজ, চুলের ক্রিম, চোখের কাজল, ভেজা টিস্যু, মশারি, তোয়ালে, রান্নায় ব্যবহার করা সয়াসস, জন্মদিনের ডেকোরেটেড কেক, মল্টবেজড খাদ্য ও পানীয়, গ্লিসারিন।

মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই চলতি বছরের গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাধ্যতামূলক নতুন ৩৬টি পণ্যের মান সনদ নিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আগে এই সংখ্যা ছিল ২২৯টি।

পরে আরো ১০টি ও ৩৬টি পণ্যসহ এখন মোট ২৭৩টি পণ্যের মান সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।এই পণ্যগুলো উৎপাদন ও বিপণন করতে সঠিক প্রক্রিয়া মানা হয়েছে, এর প্রমাণস্বরূপ বিএসটিআইয়ের সনদ নিতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান বা কম্পানিগুলোর উত্পন্ন পণ্যের নমুনা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে সারা দেশের বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই পাওয়া যাবে সনদ।

এ ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করা নিষেধ।এসব পণ্য যাতে সঠিক মানে উৎপাদন করা হয়, একই সঙ্গে মানবশরীরের জন্য যাতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান না থাকে এ জন্য সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। যা সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সরকারিভাবে নজরদারি করা যায়।

সময় দুই মাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যেসব প্রতিষ্ঠান বা কম্পানি সনদ নিচ্ছে না বা আবেদন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএসটিআইয়ের সিএম বিভাগের উপপরিচালক মো. রিয়াজুল হক।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘যাদের পণ্য বাজারে আছে, তাদের কাছে সশরীরে গিয়ে আমরা অনুরোধ করব লাইসেন্স নিতে।

এরপর যারা না নেবে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেব। এখনো যারা না এসেছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেব। লিখিতভাবে তাদের জানাব। এর পরও যদি সাড়া না দেয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এখন পর্যন্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।’বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ১২টি কার্যালয়ের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া আরো ১০টি কার্যালয় স্থাপনের প্রকল্প পাস হয়েছে। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। আরো লোকবল ও পণ্যের মান যাচাইয়ে ব্যবহৃত সামগ্রী দরকার বলে মনে করেন বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা।

তবে ভোক্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএসটিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে না পারলে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। জনবহুল এই দেশে সবাইকে নজরদারির আওয়াতায় আনা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএসটিআইয়ের কাজের মান আশানুরূপ নয়। যে পণ্যগুলো আছে, সেগুলোতেই যে নজরদারি দরকার, তা আমরা পারছি না। তারা রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। তারা নিজদের মানই যদি ঠিক রাখতে না পারে, তাহলে অন্যের মান কিভাবে ঠিক রাখবে? তাদের মাঠ পর্যায়ে যদি নজরদারি না থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরা তাগাদা অনুভব করবেন না যে তাঁর সনদ নিতে হবে। এখন যদি বিএসটিআইয়ের নজরদারি কঠোর হয়, তাহলেই ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স নিতে তত্পর হবেন।’

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর