ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের শতক, আমদানিতে কমল আলুর দাম

ভরা মৌসুমে বাড়তি দামে আলু বিক্রি হওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু করেছে সরকার। এতে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে দাম না কমে উল্টো বাড়ছে, খুচরা পর্যায়ে শতক ছুঁয়েছে পেঁয়াজ।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছর বাজারে নতুন পেঁয়াজ ও আলুর সরবরাহ শুরু হলে দাম কমে আসে।

কিন্তু এবার ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল আলু। আমদানির খবরে সারা দেশেই আলুর দাম কমে গেছে। এখন পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে এটাও ক্রেতার নাগালে চলে আসবে।

রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৩ টাকায়।

বন্দরগুলোতে আমদানীকৃত আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি। বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৯৪ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

গত তিন দিনে কেবল হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি হয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন। গতকাল সোমবারই ২০০ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৩ টাকায়। আমদানি অব্যাহত থাকলে সামনে দাম আরো কমতে পারে।

বাড্ডার খুচরা আলু বিক্রেতা শহিদুল বলেন, আমদানির খবরে পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমেছে।

তাই আমরাও ৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। কিন্তু পেঁয়াজের দাম এখনো বাড়তি। কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

হিলিদেড় মাস পর গত শনিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হওয়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বন্দর এলাকায়। গত তিন দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি হয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন। পাবনা জেলার মুক্ত এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব আলু আমদানি করছে বলে জানা গেছে।

স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৫২ জন আমদানিকারক প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন আলু আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে প্রতি মেট্রিক টন আলু আমদানি মূল্য পড়েছে ১৫৫ মার্কিন ডলার। সরকার আলু আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে আরো কম দামে বিক্রি করা যাবে।

হিলিতে রসুনের দাম কমে বেড়েছে পেঁয়াজ

সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে চায়না ও দেশীয় রসুন কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় মুড়িকাটা জাতের দেশীয় পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

গতকাল সোমবার হিলি বাজারে পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের রসুনের দাম কমেছে। চায়না রসুন ২৪০ টাকা কেজি দরে, আর দেশি রসুন ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন আগে চায়না রসুন ২৬০ টাকা কেজি দরে, আর দেশি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন আগে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এতে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা জুয়েল হোসেন বলেন, ‘আমি দুই দিন আগে ৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। আজকে ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনলাম। আলুর মতো এখনই যদি পেঁয়াজ আমদানি করা যায় তাহলে আমরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ খেতে পারতাম। বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসত।’

হিলি বাজারের পাইকারি রসুন ও পেঁয়াজ বিক্রেতা আবু তাহের বলেন, ‘মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ কমে আসছে, তাই মোকামেই দাম বেশি। আমি দুই দিন আগে মোকামেই ৭৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। এরপর পরিবহন খরচও আছে। তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলে দাম আরো কমে আসবে।’

 

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর