ভ্যালেন্টাইন’স ডেতে অল্প বাজেটের উপহারে খুশি করুন প্রিয় মানুষকে

প্রিয় মানুষের সঙ্গে ভালো লাগা ও সুন্দর মুহূর্ত তৈরির মোহ পৃথিবীর সবকিছুর সামনে তুচ্ছ মনে হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর তা যদি হয় প্রিয় মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানোর বিষয়, তবে চেষ্টা থাকে সর্বোচ্চ। একটু হাসিই তো পাড়ে সব জয় করতে।

অনেক সময় প্রিয় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কথা ভাবতে গিয়ে অর্থকষ্টের কথা মনে পড়ে আমাদের। সাধ থাকার পরও সাধ্য না থাকায় সব বিলীন হবে ভেবে একা একটা কষ্ট পেতে থাকি। এমনই এক সময় ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ। এই সপ্তাহেই রয়েছে ভ্যালেন্টাইন’স ডে। সপ্তাহটিতে বা বিশেষ দিনটিতে অল্প খরচে উপহার কিনে প্রিয় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাকে খুশি করা সম্ভব। এবার তাহলে এ ব্যাপারে কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক।

ঘর সাজাতে গাছ : গাছ কেবল শোভা বাড়ায় না। এটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো অনেকে আজকাল ঘর সবুজায়নের ব্যবস্থা করেন। বাসা বা অফিসে কাজের টেবিল ও আশপাশে ছোট ছোট গাছের টব রাখা যেতে পারে। ঘৃতকুমারি বা অ্যালোভেরা, রাবার, মাদার্স-ইন-লস টাঙ ও স্নেক পামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছের চারার খুব বেশি দাম নয়। তবে টবের কারণে দামের ব্যবধান হয়ে থাকে। তাই চাইলে অল্প দামে প্লাস্টিকের টব নিতে পারেন।

ক্যান্ডি বা চকলেট : যুগ যুগ আগে থেকে বিশেষ দিনগুলোয় প্রিয় খাবারের জায়গা দখল করে আসছে ক্যান্ডি বা চকলেট। এ জন্য বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনে বিভিন্ন মোড়কে একে-অপরকে উপহার হিসেবে চকলেট দিয়ে থাকেন। অল্প খরচে প্রিয় মানুষের প্রিয় রঙের বা পছন্দের চকলেট দিয়ে মন জয় করতে এটিই হতে পারে সেরা উপায়।

ছবির কোলাজ : আধুনিক সময়ে সবাই রিল ও ভিডিও নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু ছবির কোলাজ যে মানুষের আবেগ সেটা বোঝা যায় প্রিন্ট ছবিতে। প্রিয় মানুষের সঙ্গে সুন্দর মুহূর্তের সেরা কিছু ছবি বাছাই করে প্রিন্ট করে একটি বিশালাকৃতির আর্টপেপারে আটকে নিতে পারেন। আর্টপেপারটি সুন্দর করতে সেটি আয়তাকার না রেখে হার্ট শেপসহ বিভিন্ন ডিজাইনে কেটে নিতে পারেন। তারপর পুরো পেপারজুড়ে প্রিন্ট করা ছবিগুলো লাগিয়ে দিন।

ছবি আঁকা বা কুশনে ভালোবাসার বার্তা লেখা : সোফা ব্যবহারের কুশন বা বিছানায় থাকা ছোট্ট বালিশ হতে পারে প্রিয় মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর অসাধারণ উপহার। এসব কুশন বা বালিশে হাস্যরসের ছবি আঁকতে পারেন। চাইলে তাতে ভালোবাসার বার্তাও লিখে দিতে পারেন। যা দেখা মাত্রই মন ভালো হয়ে যাবে।

প্রিয় খাবার : প্রিয় মানুষটির পছন্দের খাবার কি, সেটি অবশ্যই আপনি জানেন। মানুষটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার আগে বাড়ি থেকে নিজেই যদি তার প্রিয়খাবার রান্না করে নিতে পারেন, তাহলে সেই খাবারই যথেষ্ট মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। মানুষটি হয়তো কল্পনাও করেনি তাকে নিজ হাতে রান্না করা খাবার খাওয়াবেন আপনি। তাও আবার তার পছন্দের কোনো পদ।

একসঙ্গে সিনেমা দেখা : চিত্তবিনোদনও প্রয়োজন রয়েছে জীবনে। প্রিয় মানুষটি যদি সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, তাহলে তাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে পারেন। তার কোনো পছন্দের সিনেমা যদি প্রেক্ষাগৃহে চলে, তাহলে তাকে নিয়ে সেই সিনেমা দেখুন। আবার চাইলে বাসা বা বাড়িতেই পুরনো কোনো সিনেমা দেখতে পারেন।

বই ও বইমেলা : ভ্যালেন্টাইন উইক, ফাল্গুনের শুরু, সঙ্গে বইমেলার মাস―সবমিলে ফেব্রুয়ারি যেন এক উৎসবের মাস। এ সময় কম-বেশি সবাই বইমেলায় গিয়ে থাকেন। প্রিয় মানুষের মন ভালো করতে তাকে নিয়ে এক বিকেলে বইমেলায় যেতে পারেন। তার পছন্দের কোনো লেখকের একটি বই কিনে দিতে পারেন। ফাল্গুনের সময় মাথায় শোভা পাওয়া ফুলের টায়রা পাওয়া যায়। ফুলের টায়রা ও একগুচ্ছ লাল গোলাপও কিনে দিতে পারেন। দেখবেন তার মুখে হাসি ফুটবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর