সিলেট ও সুনামগঞ্জে শিলাবৃষ্টিসহ কালবৈশাখীর তাণ্ডব

সিলেট ও সুনামগঞ্জে শিলাবৃষ্টিসহ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর, গাছপালা ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ লাইনে। গোটা এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। রেবাবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় এ শিলাবৃষ্টি। চৈত্রের শেষে এমন শিলাবৃষ্টি হওয়ায় বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া শিলাবৃষ্টির পর থেকে সিলেটের প্রায় সব স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ছিল। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

রোববার তারাবির নামাজের পর সিলেট নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। এরপর শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। শিলায় প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে। এর আগে সিলেটে এ রকম শিলাবৃষ্টি দেখা যায়নি। এতে অনেকেরই গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। কারও বাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়েছে। ভেঙে গেছে জানালার কাচ।

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিমদর্শা এলাকায় একটি গ্যাসের রাইজারে আগুন লেগে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া এলাকায় ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে গোলাপগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে শত শত ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার পৌর এলাকা ছাড়াও সদর, ফুলবাড়ী, লক্ষীপাশা, লক্ষণাবন্দ, বাদেপাশা ও বুধবারীবাজারসহ গোটা উপজেলা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। শিলার আঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত দেড় শতাধিক লোক। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে নাজনীন বেগম (২৭), শিমা বেগম (১৭), মরিয়ম বেগম (৫০), সায়েদ আহমদ (২৪), পারভীন বেগম (৩৫), শিল্পী বেগম (২৮), আজাদ (২৫), হেলাল আহমদ (৬০), রুপা রানী (৬০), জুয়েল আহমদ (২৬), আব্দুল খালিক (৬৫), জেরিন বেগম (১৯), রুহেল আহমদ (৪৫) ও হেলুম আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম।

সুনামগঞ্জ শহরের ইকবালনগরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের কালীবাড়ি এলাকায় চলন্ত সিএনজির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে চালকসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সদর উপজেলা লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বৈষভেড় গ্রামের বাসিন্দা। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নিরুপন রায় চৌধুরী জানান, ঝড়ের কবলে আহত ৫ রোগী আসেন। তাদের মধ্যে সাদ্দাম নামের এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। রয়েল নামের আরেক যুবক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঝড়ে শান্তিগঞ্জের পাগলা, কান্দিগাঁও, আসামপুর, বাঘেরকোনাসহ একাধিক গ্রামের অন্তত ২০টি কাঁচা, আধাপাকা ঘর লন্ডভন্ড হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাগলাবাজার। বাজারে সড়কের দুপাশের অস্থায়ী দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে ও গাছগাছালি উপড়ে পড়ায় ভোররাত পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ অনেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। সকালে যানবাহন চললেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সোমবার বেলা ৪টা) অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর