ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

মা মুরগির ভালোবাসার দৃষ্টান্ত

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাইরে প্রচণ্ড ঝড়। তাকিয়ে দেখি বাতাসের ঝাপটায় সবকিছু উড়ে যাওয়ার উপক্রম। এর মাঝেই একটি মা মুরগি তার বাচ্চাদের আগলে রেখেছে পরম মমতায়। দৃশ্যটি চোখে পড়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রেসক্লাবের বারান্দায়। মা তো মাই, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাচ্চাদের একটু আঁচড়ও লাগতে দেয়নি।

শুক্রবার (৭ মে) সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে হিলিতে শুরু হয় ঝড় ও শিলাসহ মুষলধারে বৃষ্টি। এসময় একটি মা মুরগি তার ৬টি বাচ্চা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয় হাকিমপুর প্রেসক্লাবের বারান্দা। অনেক লোকজন দেখেও কোনো ভয় পায়নি মা মুরগিটি। বৃষ্টিতে মাসহ বাচ্চারা অনেকটাই ভিজে গেছে। তার ডানা দুটো মেলে ধরে ভেতরে নিয়েছে বাচ্চাদের। শরীরের উষ্ণতায় বাচ্চাদের গরম করেছে, আর ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করেছে।

এ এক মায়ের ভালোবাসা, আর মাতৃত্ব। মা তো মা, তার তুলনা কি কারো সঙ্গে হয়! স্বার্থে আঘাত লাগলে এ জগতে সবাই, সবাইকে ছেড়ে চলে যায়, শুধু যেতে পারে না মা। অন্যেরা তো পিঠের দিকে তাকায়, আর মা সন্তানের পেটের দিকে তাকায়, তার সন্তান খেয়েছে, নাকি না খেয়ে আছে।

মানুষ আর পশু-পাখির মধ্যে অনেক বৈচিত্র থাকলেও মায়ের কোনো পার্থক্য নেই। নিজের জীবন বাজি রেখে সন্তানের জীবন বাঁচান, এটাই মায়ের ধর্ম। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মা তার বুকের সবটুকু ভালোবাসা, স্নেহ আর মমতা দেন না। এ ভালোবাসা স্বার্থহীন। বিপদে সন্তানকে বাঁচানোর তাগিদে কখনো কখনো মা হয়ে যান বাঘের চেয়েও হিংস্র।

এই মা মুরগিটাও তার ব্যতিক্রম নয়, বাচ্চাদের রক্ষার্থে আকাশেও উড়াল দিয়ে কাকের সঙ্গে লড়াই করে। আবার কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর হাত থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করে। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত, মা মুরগির এই ভালোবাসা।

এমন দৃশ্য দেখে প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজুর রহমান মিলন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আজ আমাদের প্রেসক্লাবে প্রয়াত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যার ঘণ্টাখানেক আগে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় শুরু হয়। আমরা প্রেসক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় ৬ থেকে ৭টা বাচ্চা নিয়ে একটা মা মুরগি বারান্দায় উপস্থিত হয়। আমি অবাক হলাম, বাচ্চাদের নিরাপদে রাখার জন্য মায়ের কত প্রচেষ্টা। বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি সবাইকে বললাম, আপনারা একটু এ দিকে সরে আসেন। পরে বাচ্চাদের নিয়ে বারান্দার একটি চেয়ারের পাশে জায়গা করে নিলো মা মুরগিটি। আর বাচ্চাদের তার দুটি ডানা দিয়ে ঢেকে নিলো।’

তখন মনে পড়ে যায় সেই হাদিসটির কথা। একদা হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবীদের নিয়ে বসে ছিলেন। এমন সময় এক লোক বাচ্চাসহ একটি পাখির বাসা নিয়ে হাজির, মা পাখিটি তার মাথার উপর দিয়ে উড়ছে, চেঁচামেচি করছে। তখন মহানবী (সা.) লোকটিকে বললেন, বাসাসহ কেন পাখির বাচ্চাদের নিয়ে এসেছো? এখানে রেখে দূরে সরে যাও। বাচ্চাদের রাখতেই মা পাখিটা বাচ্চাদের কাছে আসলো এবং তাদের ডানার ভেতর নিলো। তখন নবীজী সবাইকে ডেকে বললেন, দেখো মায়ের কি ভালোবাসা, এত মানুষ দেখেও মা পাখিটি ভয় পায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

মা মুরগির ভালোবাসার দৃষ্টান্ত

আপডেট টাইম : ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ মে ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাইরে প্রচণ্ড ঝড়। তাকিয়ে দেখি বাতাসের ঝাপটায় সবকিছু উড়ে যাওয়ার উপক্রম। এর মাঝেই একটি মা মুরগি তার বাচ্চাদের আগলে রেখেছে পরম মমতায়। দৃশ্যটি চোখে পড়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রেসক্লাবের বারান্দায়। মা তো মাই, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাচ্চাদের একটু আঁচড়ও লাগতে দেয়নি।

শুক্রবার (৭ মে) সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে হিলিতে শুরু হয় ঝড় ও শিলাসহ মুষলধারে বৃষ্টি। এসময় একটি মা মুরগি তার ৬টি বাচ্চা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয় হাকিমপুর প্রেসক্লাবের বারান্দা। অনেক লোকজন দেখেও কোনো ভয় পায়নি মা মুরগিটি। বৃষ্টিতে মাসহ বাচ্চারা অনেকটাই ভিজে গেছে। তার ডানা দুটো মেলে ধরে ভেতরে নিয়েছে বাচ্চাদের। শরীরের উষ্ণতায় বাচ্চাদের গরম করেছে, আর ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করেছে।

এ এক মায়ের ভালোবাসা, আর মাতৃত্ব। মা তো মা, তার তুলনা কি কারো সঙ্গে হয়! স্বার্থে আঘাত লাগলে এ জগতে সবাই, সবাইকে ছেড়ে চলে যায়, শুধু যেতে পারে না মা। অন্যেরা তো পিঠের দিকে তাকায়, আর মা সন্তানের পেটের দিকে তাকায়, তার সন্তান খেয়েছে, নাকি না খেয়ে আছে।

মানুষ আর পশু-পাখির মধ্যে অনেক বৈচিত্র থাকলেও মায়ের কোনো পার্থক্য নেই। নিজের জীবন বাজি রেখে সন্তানের জীবন বাঁচান, এটাই মায়ের ধর্ম। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মা তার বুকের সবটুকু ভালোবাসা, স্নেহ আর মমতা দেন না। এ ভালোবাসা স্বার্থহীন। বিপদে সন্তানকে বাঁচানোর তাগিদে কখনো কখনো মা হয়ে যান বাঘের চেয়েও হিংস্র।

এই মা মুরগিটাও তার ব্যতিক্রম নয়, বাচ্চাদের রক্ষার্থে আকাশেও উড়াল দিয়ে কাকের সঙ্গে লড়াই করে। আবার কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর হাত থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করে। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত, মা মুরগির এই ভালোবাসা।

এমন দৃশ্য দেখে প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজুর রহমান মিলন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আজ আমাদের প্রেসক্লাবে প্রয়াত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যার ঘণ্টাখানেক আগে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় শুরু হয়। আমরা প্রেসক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় ৬ থেকে ৭টা বাচ্চা নিয়ে একটা মা মুরগি বারান্দায় উপস্থিত হয়। আমি অবাক হলাম, বাচ্চাদের নিরাপদে রাখার জন্য মায়ের কত প্রচেষ্টা। বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি সবাইকে বললাম, আপনারা একটু এ দিকে সরে আসেন। পরে বাচ্চাদের নিয়ে বারান্দার একটি চেয়ারের পাশে জায়গা করে নিলো মা মুরগিটি। আর বাচ্চাদের তার দুটি ডানা দিয়ে ঢেকে নিলো।’

তখন মনে পড়ে যায় সেই হাদিসটির কথা। একদা হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবীদের নিয়ে বসে ছিলেন। এমন সময় এক লোক বাচ্চাসহ একটি পাখির বাসা নিয়ে হাজির, মা পাখিটি তার মাথার উপর দিয়ে উড়ছে, চেঁচামেচি করছে। তখন মহানবী (সা.) লোকটিকে বললেন, বাসাসহ কেন পাখির বাচ্চাদের নিয়ে এসেছো? এখানে রেখে দূরে সরে যাও। বাচ্চাদের রাখতেই মা পাখিটা বাচ্চাদের কাছে আসলো এবং তাদের ডানার ভেতর নিলো। তখন নবীজী সবাইকে ডেকে বললেন, দেখো মায়ের কি ভালোবাসা, এত মানুষ দেখেও মা পাখিটি ভয় পায়নি।