ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

আবার সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা

ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে আবার বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। গত ৯ ডিসেম্বর লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর পর ফের দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম মোল্লা। গত সোমবার দেওয়া ওই চিঠিতে ১০ জানুয়ারির মধ্যে পুনরায় মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বাজারে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট এখনও রয়ে গেছে। বোতলজাত দুই, তিন ও পাঁচ লিটারের তেল কিছুটা সরবরাহ থাকলেও এক লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না হওয়ায় পণ্যটি কিনতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোজ্যতেলের দাম সরকারিভাবে আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কোম্পানিগুলো। যে কারণে এখনও বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ করছে না তারা।

সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময় বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর খোলা প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা করা হয়। খোলা পাম তেলও লিটার ১৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ করা হয়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৮৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৮১৮ টাকা। ভোক্তাদের প্রত্যাশা ছিল- দাম বাড়ানোর পর সংকট কেটে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। বাজারে অস্থিরতা রয়েছেই। সয়াবিন তেলের সংকট এখনও রয়েছে। বিশেষ করে এক ও দুই লিটারের বোতলের সরবরাহ নেই বললেই চলে।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বোতলজাত তেল কেটে ড্রামে ভরে খোলা তেলের দামে বিক্রি করছেন, এতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম গুনতে হচ্ছে। বাজারে সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত এবং স্বচ্ছতা আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

ভোজ্যতেলের খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ করছে না তারা। ফলে খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

আমদানিকারকরা বলছেন, সরকার দুই দফায় শুল্ক-কর কমিয়েও সুফল মিলছে না। বরং দাম আরও বেড়েছে। তারা বলছেন, দেশে ডলার সংকট এখনও চলমান রয়েছে। আমদানিকারকরা আগের মতো ভোজ্যতেল আমদানি করছেন না। আবার বিশ্ববাজারেও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এসব কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, সরবরাহ বন্ধ করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। সরকার শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি নানা সুবিধা দিলেও ভোক্তা তার সুফল পাচ্ছেন না। ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম বাড়াতে যতটা আগ্রহী, কমাতে ততটা আগ্রহী না হওয়ায় বাজারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম সমন্বয় হয় না, যা দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান ব্যবসায়ীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

আবার সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা

আপডেট টাইম : ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫

ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে আবার বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। গত ৯ ডিসেম্বর লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর পর ফের দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম মোল্লা। গত সোমবার দেওয়া ওই চিঠিতে ১০ জানুয়ারির মধ্যে পুনরায় মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বাজারে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট এখনও রয়ে গেছে। বোতলজাত দুই, তিন ও পাঁচ লিটারের তেল কিছুটা সরবরাহ থাকলেও এক লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না হওয়ায় পণ্যটি কিনতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোজ্যতেলের দাম সরকারিভাবে আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কোম্পানিগুলো। যে কারণে এখনও বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ করছে না তারা।

সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময় বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর খোলা প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা করা হয়। খোলা পাম তেলও লিটার ১৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ করা হয়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৮৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৮১৮ টাকা। ভোক্তাদের প্রত্যাশা ছিল- দাম বাড়ানোর পর সংকট কেটে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। বাজারে অস্থিরতা রয়েছেই। সয়াবিন তেলের সংকট এখনও রয়েছে। বিশেষ করে এক ও দুই লিটারের বোতলের সরবরাহ নেই বললেই চলে।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বোতলজাত তেল কেটে ড্রামে ভরে খোলা তেলের দামে বিক্রি করছেন, এতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম গুনতে হচ্ছে। বাজারে সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত এবং স্বচ্ছতা আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

ভোজ্যতেলের খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ করছে না তারা। ফলে খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

আমদানিকারকরা বলছেন, সরকার দুই দফায় শুল্ক-কর কমিয়েও সুফল মিলছে না। বরং দাম আরও বেড়েছে। তারা বলছেন, দেশে ডলার সংকট এখনও চলমান রয়েছে। আমদানিকারকরা আগের মতো ভোজ্যতেল আমদানি করছেন না। আবার বিশ্ববাজারেও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এসব কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, সরবরাহ বন্ধ করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। সরকার শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি নানা সুবিধা দিলেও ভোক্তা তার সুফল পাচ্ছেন না। ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম বাড়াতে যতটা আগ্রহী, কমাতে ততটা আগ্রহী না হওয়ায় বাজারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম সমন্বয় হয় না, যা দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান ব্যবসায়ীরা।