ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন নোবেল ২০২৫ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১১ লাখ বাংলাদেশির সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

শিবিরকে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলতে বললেন ছাত্রদল নেতা হামিম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে পরামর্শ দিয়ে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলতে বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে শিবিরের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় তৈরি হিজাব বিতর্কে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে হামিম লিখেছেন, শিবিরকে বলব ছলচাতুরি বাদ দিয়ে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলুন। এভাবে ধর্মীয় অনুভূতির মুখোমুখি অন্যায়কে দাঁড় করাতে যে মেধা অপচয় করছেন সে মেধা দিয়ে চাইলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব ছিলো। অন্যায়কারীকে পোষাক দিয়ে জাস্টিফাই না করে এসব অন্যায় থেকে সরে আসুন।

শেখ তানভীর বারী হামিম আরও লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত এনে নোংরামি করে নিজেদের জাত-পরিচয় বারংবার চেনাবেন না। বাংলা সংবিধানে শিবির যেন মিথ‍্যাবাদী আর চুরির সমার্থক শব্দ না হয়ে যায়। ওই পোস্টের কমেন্ট জবির সামনে জামায়াতের কর্মী দাবি করে আটককৃত এক নারীর ভিডিও সংযুক্ত করেছেন তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে দেখে তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, বর্তমান সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন, শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারিসহ আরও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা পুলিশের কাভার্ড ভ্যান আটকে সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম। তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আমাকে হেনস্তা করে। আমার সঙ্গে একজন আত্মীয়ও ছিলেন। আমরা গেটের বাইরেই অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাস্ক খুলতে বলা হয়।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি আমার স্ত্রী এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। এদিন সকাল থেকেই ছাত্রদল গেটের বাইরে ধাক্কাধাক্কি করে। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যখন ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন, তখন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর এটি সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, নারী হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অবৈধ পরিচয় দিয়ে বহিরাগত ৩ জন নারী প্রবেশের চেষ্টা করে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডিকে জানায়। তারা পরিচয়পত্র দিতে না পারায় পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

শিবিরকে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলতে বললেন ছাত্রদল নেতা হামিম

আপডেট টাইম : ১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে পরামর্শ দিয়ে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলতে বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে শিবিরের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় তৈরি হিজাব বিতর্কে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে হামিম লিখেছেন, শিবিরকে বলব ছলচাতুরি বাদ দিয়ে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলুন। এভাবে ধর্মীয় অনুভূতির মুখোমুখি অন্যায়কে দাঁড় করাতে যে মেধা অপচয় করছেন সে মেধা দিয়ে চাইলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব ছিলো। অন্যায়কারীকে পোষাক দিয়ে জাস্টিফাই না করে এসব অন্যায় থেকে সরে আসুন।

শেখ তানভীর বারী হামিম আরও লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত এনে নোংরামি করে নিজেদের জাত-পরিচয় বারংবার চেনাবেন না। বাংলা সংবিধানে শিবির যেন মিথ‍্যাবাদী আর চুরির সমার্থক শব্দ না হয়ে যায়। ওই পোস্টের কমেন্ট জবির সামনে জামায়াতের কর্মী দাবি করে আটককৃত এক নারীর ভিডিও সংযুক্ত করেছেন তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে দেখে তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, বর্তমান সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন, শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারিসহ আরও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা পুলিশের কাভার্ড ভ্যান আটকে সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম। তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আমাকে হেনস্তা করে। আমার সঙ্গে একজন আত্মীয়ও ছিলেন। আমরা গেটের বাইরেই অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাস্ক খুলতে বলা হয়।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি আমার স্ত্রী এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। এদিন সকাল থেকেই ছাত্রদল গেটের বাইরে ধাক্কাধাক্কি করে। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যখন ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন, তখন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর এটি সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, নারী হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অবৈধ পরিচয় দিয়ে বহিরাগত ৩ জন নারী প্রবেশের চেষ্টা করে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডিকে জানায়। তারা পরিচয়পত্র দিতে না পারায় পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।