ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসন গুঁড়িয়ে দিলো ইরান, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া শত শত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং কামিকাজে ড্রোন আকাশ ছেয়ে ফেলেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত পাইলটদের ব্যারাক এবং আবাসন লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে এসব মিসাইল আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হামলার ফলে মার্কিন বিমান বহরের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাখা এফ-১৬ এবং অন্যান্য উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ‘পঙ্গু’ হয়ে গেছে। হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ড্রোন এবং মিসাইলের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যূহটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আজকের এই হামলাকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই তেহরান এই ‘অল-আউট’ অ্যাটাক বা সর্বাত্মক হামলার পথ বেছে নিয়েছে।

এই হামলার পর ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে পেন্টাগন। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও নির্দিষ্ট করে কতজন নিহিত বা কতটি বিমান ধ্বংস হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি, তবে তারা এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের এই হঠকারী আচরণের চরম মূল্য দিতে হবে।”

অন্যদিকে, এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসন গুঁড়িয়ে দিলো ইরান, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস

আপডেট টাইম : ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া শত শত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং কামিকাজে ড্রোন আকাশ ছেয়ে ফেলেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত পাইলটদের ব্যারাক এবং আবাসন লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে এসব মিসাইল আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হামলার ফলে মার্কিন বিমান বহরের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাখা এফ-১৬ এবং অন্যান্য উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ‘পঙ্গু’ হয়ে গেছে। হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ড্রোন এবং মিসাইলের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যূহটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আজকের এই হামলাকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই তেহরান এই ‘অল-আউট’ অ্যাটাক বা সর্বাত্মক হামলার পথ বেছে নিয়েছে।

এই হামলার পর ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে পেন্টাগন। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও নির্দিষ্ট করে কতজন নিহিত বা কতটি বিমান ধ্বংস হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি, তবে তারা এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের এই হঠকারী আচরণের চরম মূল্য দিতে হবে।”

অন্যদিকে, এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়া।