বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর বর্ণাঢ্য জীবনপথ দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও শিল্পোন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৫০ সালের ১০ মে সিরাজগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান আমলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী। মা বেগম আবেদা খাতুনের স্নেহে বেড়ে ওঠা ইকবাল হাসান মাহমুদ শিক্ষাজীবনেই নেতৃত্বের গুণাবলীর পরিচয় দেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। চারবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেন। এছাড়া আইন কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস)-এর প্রাক্তন পরিচালক এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এপেক্স গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ১৯৭৮ সাল থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ একজন সাবেক সংসদ সদস্য। এক পুত্র ও এক কন্যার জনক ইকবাল হাসান মাহমুদ পরিবার ও কর্মজীবন—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও উন্নয়ন ভাবনায় সমৃদ্ধ ইকবাল হাসান মাহমুদের জীবন ও কর্ম আজও জাতীয় অগ্রগতির প্রেরণা হয়ে রয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 





















