ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

কী মধু রশীদ মিয়াতে

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। এবার এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরেও যান।

বিএনপি সরকার অবসর থেকে নিয়ে এসে রশীদ মিয়াকে আবার প্রধান প্রকৌশলী করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরাও অবাক হয়েছেন। কেননা অনিয়ম-দুর্নীতির অনেক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত চলমান রয়েছে। এমনকি প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার আগে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুদকের তদন্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যে পেয়েছেন পদোন্নতিও। একাধারে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ও দেশের অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামতের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলেন তিনি।

রশীদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে এ ধরনের নিয়োগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নিয়োগ কেন্দ্র করে বড় ধরনের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল থেকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এর পরের বছর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান তিনি। অভিযোগের কোনো সুরাহা না হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসায়। এরপর বর্তমান সরকার এসে তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক প্রকৌশলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমতের প্রকৌশলীরা সবসময়ই বঞ্চিত ছিলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দিয়ে তাদের “ডাম্পিং পোস্ট” দেওয়া হতো। হাজারের বেশি মানুষ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করল, কিন্তু এলজিইডি থেকে তার দোসরদের বিদায় করতে পারলাম না।

অপর এক প্রকৌশলী বলেন, ‘আব্দুর রশীদ মিয়া আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী। অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে পুরস্কার দিয়েছে। আর বিএনপি সরকার এসে অবসর ভাঙিয়ে আবার তাকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে বসাল। তিনি যে আবার চিফ হবেন, এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।’

প্রকৌশলীদের ভাষ্য, যারা ১৭ বছরে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের হাতে টাকা নেই। তাই তারা চাইলেও নিজেদের কাক্সিক্ষত পোস্টে যেতে পারছেন না। এ নিয়ে বিএনপিপন্থি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভও বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন আব্দুর রশীদ মিয়া। তিনি এলজিইডির বিভিন্ন পদে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বরাদ্দের বড় অংশ তার ঘনিষ্ঠদের হাতে চলে যেত।

আব্দুর রশীদ মিয়ার স্ত্রী ফাতিমা যাকিয়াহ ও আত্মীয়দের নামে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে কাজ পেয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা, প্রতিযোগীদের তুলনায় তাদের বেশি অর্থ বরাদ্দ করা এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় আব্দুর রশীদ মিয়ার নামে একাধিক সম্পদ রয়েছে। রাজধানীর  মোহাম্মদপুর ও ধানম-িতে ছয়তলা বাড়ি এবং গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট এবং প্লট রয়েছে। রাজশাহীতে পাঁচ ও সাততলা দুটি বাড়ি এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে তার নামে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ফুড গার্ডেন নামে ব্যবসা চালাচ্ছেন, পাশাপাশি বগুড়ার শেরপুর, হিমছায়াপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নে বিশাল জমি ও বাগানবাড়ি রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০ কোটি টাকা। এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডির প্রশাসন ও ট্রেনিং বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রশীদ মিয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই সম্পদের বড় অংশই তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও নিকটাত্মীয়দের নামে। অভিযোগের তদন্তের জন্য দুদক থেকে বারবার তাকে তলব করা হলেও হাজির হননি। প্রথমবার অসুস্থতা, পরেরবার বিদেশ সফর এবং আরও একবার অফিসের ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি নোটিসে সাড়া দেননি। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু থেকেই আব্দুর রশীদ মিয়া অসহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আব্দুর রশীদ মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি অবাক হওয়ার মতো। যে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবে, এটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, যদি এমন হতো যে তার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই অথবা দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়া কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে এটা ঠিক বলা যেত। কিন্তু দুটি মানদ-েই এটি অগ্রহণযোগ্য। প্রথমত, তিনি অবসরে গেছেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এনে কেন নিয়োগ দিতে হবে? এখানে কি আর যোগ্য কেউ নেই? দ্বিতীয়ত, তিনি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই এ সরকার তাকে নিয়োগ দিতে পারে না। এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এলজিইডি এমনিতেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবে, সরকার যে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে, তা কি ফাঁকা বুলি কি না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

কী মধু রশীদ মিয়াতে

আপডেট টাইম : ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। এবার এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরেও যান।

বিএনপি সরকার অবসর থেকে নিয়ে এসে রশীদ মিয়াকে আবার প্রধান প্রকৌশলী করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরাও অবাক হয়েছেন। কেননা অনিয়ম-দুর্নীতির অনেক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত চলমান রয়েছে। এমনকি প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার আগে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুদকের তদন্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যে পেয়েছেন পদোন্নতিও। একাধারে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ও দেশের অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামতের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলেন তিনি।

রশীদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে এ ধরনের নিয়োগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নিয়োগ কেন্দ্র করে বড় ধরনের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল থেকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এর পরের বছর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান তিনি। অভিযোগের কোনো সুরাহা না হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসায়। এরপর বর্তমান সরকার এসে তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক প্রকৌশলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমতের প্রকৌশলীরা সবসময়ই বঞ্চিত ছিলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দিয়ে তাদের “ডাম্পিং পোস্ট” দেওয়া হতো। হাজারের বেশি মানুষ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করল, কিন্তু এলজিইডি থেকে তার দোসরদের বিদায় করতে পারলাম না।

অপর এক প্রকৌশলী বলেন, ‘আব্দুর রশীদ মিয়া আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী। অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে পুরস্কার দিয়েছে। আর বিএনপি সরকার এসে অবসর ভাঙিয়ে আবার তাকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে বসাল। তিনি যে আবার চিফ হবেন, এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।’

প্রকৌশলীদের ভাষ্য, যারা ১৭ বছরে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের হাতে টাকা নেই। তাই তারা চাইলেও নিজেদের কাক্সিক্ষত পোস্টে যেতে পারছেন না। এ নিয়ে বিএনপিপন্থি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভও বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন আব্দুর রশীদ মিয়া। তিনি এলজিইডির বিভিন্ন পদে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বরাদ্দের বড় অংশ তার ঘনিষ্ঠদের হাতে চলে যেত।

আব্দুর রশীদ মিয়ার স্ত্রী ফাতিমা যাকিয়াহ ও আত্মীয়দের নামে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে কাজ পেয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা, প্রতিযোগীদের তুলনায় তাদের বেশি অর্থ বরাদ্দ করা এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় আব্দুর রশীদ মিয়ার নামে একাধিক সম্পদ রয়েছে। রাজধানীর  মোহাম্মদপুর ও ধানম-িতে ছয়তলা বাড়ি এবং গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট এবং প্লট রয়েছে। রাজশাহীতে পাঁচ ও সাততলা দুটি বাড়ি এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে তার নামে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ফুড গার্ডেন নামে ব্যবসা চালাচ্ছেন, পাশাপাশি বগুড়ার শেরপুর, হিমছায়াপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নে বিশাল জমি ও বাগানবাড়ি রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০ কোটি টাকা। এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডির প্রশাসন ও ট্রেনিং বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রশীদ মিয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই সম্পদের বড় অংশই তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও নিকটাত্মীয়দের নামে। অভিযোগের তদন্তের জন্য দুদক থেকে বারবার তাকে তলব করা হলেও হাজির হননি। প্রথমবার অসুস্থতা, পরেরবার বিদেশ সফর এবং আরও একবার অফিসের ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি নোটিসে সাড়া দেননি। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু থেকেই আব্দুর রশীদ মিয়া অসহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আব্দুর রশীদ মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি অবাক হওয়ার মতো। যে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবে, এটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, যদি এমন হতো যে তার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই অথবা দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়া কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে এটা ঠিক বলা যেত। কিন্তু দুটি মানদ-েই এটি অগ্রহণযোগ্য। প্রথমত, তিনি অবসরে গেছেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এনে কেন নিয়োগ দিতে হবে? এখানে কি আর যোগ্য কেউ নেই? দ্বিতীয়ত, তিনি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই এ সরকার তাকে নিয়োগ দিতে পারে না। এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এলজিইডি এমনিতেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগবে, সরকার যে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে, তা কি ফাঁকা বুলি কি না।