ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

৮ মাসের ভাড়া না দিয়ে হোটেল থেকে উধাও এনসিপির শীর্ষ ৫ নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতা রাজধানীর ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (আবাসিক হোটেল) দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রায় আট মাস ধরে নানা ‘অশ্লীল-অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হোটেলের সেই দুটি রুমে রাতভর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতেন এনসিপির আরও কয়েক ডজন নেতা। সেখানে দিন-রাত অবাধ আনাগোনা ছিল নারীদের। এমনকি হোটেল ভাড়া পরিশোধ না করেই চলে যান তারা- এমন অভিযোগও করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির ওই পাঁচ নেতা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য সচিব। বাকিরাও দক্ষিণের কমিটিতে বিভিন্ন পদ-পদবিতে রয়েছেন। শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি ছিলেন স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিবের পদ লাভ করেন। শাহরিয়ারের বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের যাত্রাবাড়ী এলাকার এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী।

জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ নেতার কাছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা হোটেল ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া নেওয়া রুমে নারীদের অবাধ যাতায়াত করতেও দেখা যায়। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই পাঁচ নেতার নেতৃত্বে কয়েকডজন নেতা সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। পাশাপাশি নারীদের আনাগোনাসহ নানা ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে হোটেলটিতে অবস্থান নেন। পরে তারা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাস হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই কক্ষের মোট ভাড়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় তারা ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে হোটেলে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু পরে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ত্যাগ করেন। পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় বকেয়া অর্থ আদায় সম্ভব না হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরবে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এই পাঁচজনের নেতৃত্বে আরও কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন।

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, এনসিপির নেতারা হোটেলে দুইটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। হোটেল বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে আর কোনো ভাড়া দেননি। হোটেলে যারা ছিলেন তাদের কারও বাসা শনিরআখড়া, জুরাইন আবার কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এখানে হোটেলে আসতো, আড্ডা দিতো রাতভর। তাদের সঙ্গেও লোকজন আসতো। প্রায়ই তারা ‘নারীদের’ নিয়ে আসতো। তাদের সঙ্গে যারা আসতো তারাও ‘নারীদের’ নিয়ে আসতো। আমরা বলেছি যে, নারী এলাওড না। তারা তখন বলেছে- আপনাদের কাজ আপনারা করেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।

তিনি আরও বলেন, বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমরা কয়েকবার বসেছি। তারা আমাদের ম্যানেজমেন্টকে বলেছে টাকা আমরা দিয়ে দেবো। কবে নাগাদ দেবে তা বলেনি। প্রায়ই ভাড়া চাইতাম। তারা ঘুরাইত। নির্বাচনের পর দিন দেখি তারা আর নেই। পরে আমরা তালা ভেঙে রুম ক্লিন করে নতুন তালা দিয়ে রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর অভিযোগ করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘হোটেলের রুম ভাড়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের প্রশ্নই আসে না। ওই ব্যক্তিটি আমি নই, তা যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। শিক্ষার্থীদের মারধরের যে ভিডিওটির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হয় ওই ভিডিও পুরোনো, ২০২৩ সালের।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই হোটেলে দুটি রুমে আমাদের কয়েকজন ছিল। তবে রুম ভাড়ার বিষয়ে আমি অবগত না। ওই সময়ে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আমি দু-একবার দেখা করতে হোটেলে গিয়েছি। আন্দোলনের সময় রাত হয়ে যাওয়ায় রাতে অনেকে সেখানে থাকতো। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’

আরেক অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হোটেল ভাড়ার বিষয়টি আমি অবগত না। ওই রুমটি তো আমার নামে বুক হয়নি। যে পাঁচজনের কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে একজন ভাড়া নিয়েছে। তিনিই হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে ওখানে গিয়েছিলাম এটা সত্যি। দুই রুমে কখনো পাঁচজন, সাতজন এমনকি দশজনও থেকেছি আমরা। সঠিক তথ্য জানতে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’

এনসিপির যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল বলেন, আমি ওই হোটেলে গিয়েছি এমনটি মনে পড়ে না। হোটেলের কে অভিযোগ করেছেন আমাকে একটু জানান।

অভিযোগের বিষেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই বিষয়ে অভিযোগ যেহেতু আসছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটি আছে তারা বিষয়টি দেখতেছেন। শৃঙ্খলা কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

’ সূত্র: কালবেলা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

৮ মাসের ভাড়া না দিয়ে হোটেল থেকে উধাও এনসিপির শীর্ষ ৫ নেতা

আপডেট টাইম : ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতা রাজধানীর ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (আবাসিক হোটেল) দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রায় আট মাস ধরে নানা ‘অশ্লীল-অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হোটেলের সেই দুটি রুমে রাতভর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতেন এনসিপির আরও কয়েক ডজন নেতা। সেখানে দিন-রাত অবাধ আনাগোনা ছিল নারীদের। এমনকি হোটেল ভাড়া পরিশোধ না করেই চলে যান তারা- এমন অভিযোগও করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির ওই পাঁচ নেতা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য সচিব। বাকিরাও দক্ষিণের কমিটিতে বিভিন্ন পদ-পদবিতে রয়েছেন। শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি ছিলেন স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিবের পদ লাভ করেন। শাহরিয়ারের বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের যাত্রাবাড়ী এলাকার এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী।

জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ নেতার কাছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা হোটেল ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া নেওয়া রুমে নারীদের অবাধ যাতায়াত করতেও দেখা যায়। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই পাঁচ নেতার নেতৃত্বে কয়েকডজন নেতা সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। পাশাপাশি নারীদের আনাগোনাসহ নানা ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে হোটেলটিতে অবস্থান নেন। পরে তারা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাস হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই কক্ষের মোট ভাড়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় তারা ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে হোটেলে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু পরে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ত্যাগ করেন। পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় বকেয়া অর্থ আদায় সম্ভব না হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরবে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এই পাঁচজনের নেতৃত্বে আরও কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন।

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, এনসিপির নেতারা হোটেলে দুইটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। হোটেল বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে আর কোনো ভাড়া দেননি। হোটেলে যারা ছিলেন তাদের কারও বাসা শনিরআখড়া, জুরাইন আবার কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এখানে হোটেলে আসতো, আড্ডা দিতো রাতভর। তাদের সঙ্গেও লোকজন আসতো। প্রায়ই তারা ‘নারীদের’ নিয়ে আসতো। তাদের সঙ্গে যারা আসতো তারাও ‘নারীদের’ নিয়ে আসতো। আমরা বলেছি যে, নারী এলাওড না। তারা তখন বলেছে- আপনাদের কাজ আপনারা করেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।

তিনি আরও বলেন, বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমরা কয়েকবার বসেছি। তারা আমাদের ম্যানেজমেন্টকে বলেছে টাকা আমরা দিয়ে দেবো। কবে নাগাদ দেবে তা বলেনি। প্রায়ই ভাড়া চাইতাম। তারা ঘুরাইত। নির্বাচনের পর দিন দেখি তারা আর নেই। পরে আমরা তালা ভেঙে রুম ক্লিন করে নতুন তালা দিয়ে রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর অভিযোগ করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘হোটেলের রুম ভাড়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের প্রশ্নই আসে না। ওই ব্যক্তিটি আমি নই, তা যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। শিক্ষার্থীদের মারধরের যে ভিডিওটির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হয় ওই ভিডিও পুরোনো, ২০২৩ সালের।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই হোটেলে দুটি রুমে আমাদের কয়েকজন ছিল। তবে রুম ভাড়ার বিষয়ে আমি অবগত না। ওই সময়ে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আমি দু-একবার দেখা করতে হোটেলে গিয়েছি। আন্দোলনের সময় রাত হয়ে যাওয়ায় রাতে অনেকে সেখানে থাকতো। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’

আরেক অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হোটেল ভাড়ার বিষয়টি আমি অবগত না। ওই রুমটি তো আমার নামে বুক হয়নি। যে পাঁচজনের কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে একজন ভাড়া নিয়েছে। তিনিই হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে ওখানে গিয়েছিলাম এটা সত্যি। দুই রুমে কখনো পাঁচজন, সাতজন এমনকি দশজনও থেকেছি আমরা। সঠিক তথ্য জানতে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’

এনসিপির যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল বলেন, আমি ওই হোটেলে গিয়েছি এমনটি মনে পড়ে না। হোটেলের কে অভিযোগ করেছেন আমাকে একটু জানান।

অভিযোগের বিষেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই বিষয়ে অভিযোগ যেহেতু আসছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটি আছে তারা বিষয়টি দেখতেছেন। শৃঙ্খলা কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

’ সূত্র: কালবেলা