ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্নির

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা উড়ালেন পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্মি। বুধবার (২৭ মে) ভোরে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

এর মাধ্যমে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্মি। নিম্মির এভারেস্ট জয়ের পরপরই তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পর্বতারোহণ অঙ্গনে। শেরপার সহায়তায় তিনি নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে শিখরে পৌঁছান বলে জানা গেছে।

 

bangladesh

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্মি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে তিনি পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

পর্বতারোহণের উপযুক্ত সময় সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ ধরা হয়। সেই অনুযায়ী ১৭ মে তিনি চূড়ান্ত আরোহণের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন।

২৩ মে তিনি ক্যাম্প–৪-এ পৌঁছে শিখরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে আবার নিচে নেমে আসতে হয়। এরপর কয়েক দিন তিনি ক্যাম্প–২-এ অপেক্ষা করেন আবহাওয়ার উন্নতির জন্য। অবশেষে ২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার যাত্রা শুরু করেন।

২৬ মে তিনি পুনরায় ক্যাম্প–৪-এ পৌঁছান এবং সেখান থেকেই রাতের দিকে চূড়ান্ত শিখর অভিযানে যাত্রা শুরু করেন। এরপর আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। এই অভিযানে তার সঙ্গে নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা ছিলেন।

nimni

নুরুন্নাহার নিম্মি বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল এই প্রতিষ্ঠান। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্মি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্ক করতে গিয়ে প্রথম পাহাড়ের প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় একটি সময় তিনি কাটান বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে।

চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও পাহাড়ের প্রতি তার টান কমেনি। তিনি ভুটান, ভারতের সিকিম এবং নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেকিং করেন। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ঘুরে এসে তিনি আরও উচ্চ শিখরে ওঠার স্বপ্ন দেখেন। এরপর ২০২০ সালে তিনি এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করেন।

২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেইনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। একই বছর তিনি বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এই সংগঠনের ব্যানারেই এবারের এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেন।

বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী হলেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে পৌঁছান। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে এম এ মুহিত দুইবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন ইতিহাস গড়েন।

২০১৩ সালে সজল খালেদ এভারেস্ট জয় করলেও নামার পথে তিনি প্রাণ হারান। এরপর ২০২৪ সালে বাবর আলী এবং ২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা উড়ান। সবশেষে এবার নুরুন্নাহার নিম্মি একমাত্র বাংলাদেশি অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করে নতুন ইতিহাস গড়লেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্নির

আপডেট টাইম : ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা উড়ালেন পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্মি। বুধবার (২৭ মে) ভোরে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

এর মাধ্যমে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্মি। নিম্মির এভারেস্ট জয়ের পরপরই তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পর্বতারোহণ অঙ্গনে। শেরপার সহায়তায় তিনি নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে শিখরে পৌঁছান বলে জানা গেছে।

 

bangladesh

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্মি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে তিনি পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

পর্বতারোহণের উপযুক্ত সময় সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ ধরা হয়। সেই অনুযায়ী ১৭ মে তিনি চূড়ান্ত আরোহণের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন।

২৩ মে তিনি ক্যাম্প–৪-এ পৌঁছে শিখরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে আবার নিচে নেমে আসতে হয়। এরপর কয়েক দিন তিনি ক্যাম্প–২-এ অপেক্ষা করেন আবহাওয়ার উন্নতির জন্য। অবশেষে ২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার যাত্রা শুরু করেন।

২৬ মে তিনি পুনরায় ক্যাম্প–৪-এ পৌঁছান এবং সেখান থেকেই রাতের দিকে চূড়ান্ত শিখর অভিযানে যাত্রা শুরু করেন। এরপর আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। এই অভিযানে তার সঙ্গে নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা ছিলেন।

nimni

নুরুন্নাহার নিম্মি বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল এই প্রতিষ্ঠান। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্মি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্ক করতে গিয়ে প্রথম পাহাড়ের প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় একটি সময় তিনি কাটান বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে।

চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও পাহাড়ের প্রতি তার টান কমেনি। তিনি ভুটান, ভারতের সিকিম এবং নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেকিং করেন। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ঘুরে এসে তিনি আরও উচ্চ শিখরে ওঠার স্বপ্ন দেখেন। এরপর ২০২০ সালে তিনি এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করেন।

২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেইনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। একই বছর তিনি বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এই সংগঠনের ব্যানারেই এবারের এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেন।

বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী হলেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে পৌঁছান। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে এম এ মুহিত দুইবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন ইতিহাস গড়েন।

২০১৩ সালে সজল খালেদ এভারেস্ট জয় করলেও নামার পথে তিনি প্রাণ হারান। এরপর ২০২৪ সালে বাবর আলী এবং ২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা উড়ান। সবশেষে এবার নুরুন্নাহার নিম্মি একমাত্র বাংলাদেশি অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করে নতুন ইতিহাস গড়লেন।