ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

আর কত শিশুর মৃত্যু হলে আমাদের ঘুম ভাঙবে

এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা বিবেকবান মানুষের জন্য ছিল বেদনা আর শোকের। ঈদের আগের দিন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। এমনিতেই কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ যেন শিশুদের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। পথে-ঘাটে শিশুরা অপহৃত হচ্ছে। শিশুদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুরা আজ অনিরাপদ। সেখানেও নির্যাতিত হচ্ছে শিশুরা। পিতৃতুল্য কিছু শিক্ষক নামের নরপিশাচের লালসার শিকার হয়ে বহু শিশুর জীবনে করুণ পরিণতি ঘটছে। হাসপাতাল আজ যেন শিশুদের জন্য মরণফাঁদ। হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ পেরিয়ে গেছে। সর্বশেষ ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এ দেশে শিশুরা কত মূল্যহীন, অসহায়।

এ ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ’ সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আশ্বাস দেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না।’ এর আগে         অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে ওই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। রমনা থানায় মামলাটি করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান। মামলায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়েছে। হয়তো মামলা হবে। এ নিয়ে কিছুদিন হইচই হবে, তারপর আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আমাদের শোকে ধুলা জমবে। আমরা সব ভুলে যাব, যেভাবে ভুলে যাই সব অন্যায়, অনিয়ম। কিন্তু যে মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছেন তারা কীভাবে সামাল দেবেন এই শোক? সারা জীবন তাদের এই বেদনা বুকে ধারণ করে চলতে হবে। নবজাতকের মৃত্যুর শোকের চেয়েও কি কম হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল? এখন পর্যন্ত হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তাও তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত কিছু হোক না হোক সন্তান হারানো অভিভাবকরা তো অন্তত একটু সান্ত্বনা পেয়েছেন। কিন্তু হামে যে শত শত শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, তাদের অভিভাবকরা কী দিয়ে সান্ত্বনা পাবেন? একটি শিশুর জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি মায়ের বুকফাটা কান্না, একটি বাবার অসহায় দীর্ঘশ্বাস। একটি শিশুর মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ হারানোর শোকগাথা।

দেশজুড়ে যেন শিশুমৃত্যুর এক নীরব মিছিল নেমেছে-যে মিছিল প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিও আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনের মধ্যে তেমন কোনো বড় আলোড়ন তুলতে পারেনি। সংক্রমণ শুরুর দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো সর্বাত্মক উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সরকার টিকা কার্যক্রম নিয়েই যেন আত্মতুষ্ট, আর সাধারণ মানুষ নিজ নিজ ব্যস্ততায় নিমগ্ন। কোথায় কোন শিশু মারা যাচ্ছে এবং কোন মা সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাচ্ছেন তা যেন আমাদের বিবেককে আর   নাড়া দেয় না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আমরা যেন ধীরে ধীরে হামে শিশুমৃত্যুকেও স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছি। অথচ প্রতিটি শিশুমৃত্যুই আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার জন্য একেকটি    কঠিন সতর্কবার্তা। একটি সভ্য সমাজ কখনো শিশুমৃত্যুর সঙ্গে আপস করতে পারে না।

প্রশ্ন হলো, এত শিশুমৃত্যুর পরও কেন আমরা এখনো কার্যকর জরুরি ব্যবস্থা নিতে পারলাম না? কেন জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করা হলো না? কেন বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট চালু করা হলো না? কেন প্রতিটি জেলায় জরুরি নজরদারি, দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেল না? কেন স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি?

সবচেয়ে বড় কথা,  আমরা সবাই জানি, হামে এই শিশুদের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী? ইউনিসেফ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, ইউনূস সরকারের অবহেলা এবং গাফিলতির কারণেই হামে মৃত্যুর মিছিল। দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে হামের এই প্রাদুর্ভাব। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম আসলে এসব শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী। কিন্তু সব তথ্যপ্রমাণের পরও ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা নূরজাহানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  এমনকি শত শত শিশুমৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি পর্যন্ত গঠন করা হয়নি। একটি অপরাধের যখন বিচার হয় না, তখন সেই বিচারহীনতার কারণে আরেকটি অপরাধের জন্ম হয়। হামে শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এজন্যই আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকের মৃত্যুর দায় এড়াতে চেষ্টা করছে। তাদের সাহস এতটাই বেড়েছে যে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়া সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা করতেও তারা ভয় পায় না। এটাই হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব। যাদের অবহেলায় হামে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হলো, তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো আরও ঘটনা ঘটবে। এটাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার ফল।

শুধু হাসপাতাল কেন, নিজের বাড়িতে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা কতটা নিরাপদ ও সুরক্ষিত? গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। গোটা দেশ এ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে রামিসার বাসায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। সরকারের উদ্যোগ এবং জনমতের কারণে রামিসার বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু এরকম অনেক ঘটনার বিচার হয়নি অতীতে, যে কারণেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল; পল্লবীতে রামিসাদের পাশের এলাকাতেই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত আবদুল জলিল (৪৮) পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং ওই বাসারই কেয়ারটেকার ছিলেন। থাকতেন ঠিক উল্টো দিকের ঘরটিতে। ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেছে। ওই মামলার শুনানি এখনো শুরু হয়নি। আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে চলাফেরা করছেন এই সমাজেই।

দীর্ঘ ১০ বছরেও সুরাহা হয়নি কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ মিজ তনুর মৃতদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থানা পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করলেও পরে এ মামলার দায়িত্ব পায় সিআইডি। প্রায় স্থবির হয়ে পড়া এ মামলাটি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে আবারও।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে নির্যাতনের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি মাগুরা শহরে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়।

৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক নারী।

এ ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। গত বছরের ১৭ মে এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।

কিন্তু এই রায়ের পর বছর পেরোলেও এখনো বিচারিক প্রক্রিয়াই আটকে রয়েছে অপরাধীর শাস্তি। মামলাটি হাই কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

অতীতে শিশু হত্যা আর নির্যাতনের যদি বিচার হতো, অপরাধীরা যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেত তাহলে হয়তো বাংলাদেশ শিশুদের জন্য এমন বধ?্যভূমি হতো না।

জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুর সংখ্যা ৪ কোটি ৮৯ লাখের বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ। অবশ্য দেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সিদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসেবে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু। এই শিশুরাই আজ অরক্ষিত, চরম নিরাপত্তাহীনতায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার   কমপক্ষে ১৭ শিশু।

শিশুরা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তারা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, আমাদের মানবতার প্রতিচ্ছবি। তাদের মৃত্যুর মিছিল চলতে থাকলে উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি কিংবা সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সব কথাই অর্থহীন হয়ে পড়বে। একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় শুধু তার অবকাঠামো, মেগা প্রকল্প বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়; বরং সে কতটা তার শিশুদের জীবন রক্ষা করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে। আজ আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করতে হবে, আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজ হিসেবে বেঁচে আছি? নাকি আমরা এমন এক নিষ্ঠুর উদাসীনতার মধ্যে ডুবে গেছি, যেখানে শিশুমৃত্যুও আর আমাদের নাড়া দেয় না?

প্রশ্ন একটাই, আর কত শিশুর মৃত্যু হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে?  মৃত্যুর মিছিল কত দীর্ঘ হলে আমাদের ঘুম ভাঙবে?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

আর কত শিশুর মৃত্যু হলে আমাদের ঘুম ভাঙবে

আপডেট টাইম : ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা বিবেকবান মানুষের জন্য ছিল বেদনা আর শোকের। ঈদের আগের দিন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। এমনিতেই কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ যেন শিশুদের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। পথে-ঘাটে শিশুরা অপহৃত হচ্ছে। শিশুদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুরা আজ অনিরাপদ। সেখানেও নির্যাতিত হচ্ছে শিশুরা। পিতৃতুল্য কিছু শিক্ষক নামের নরপিশাচের লালসার শিকার হয়ে বহু শিশুর জীবনে করুণ পরিণতি ঘটছে। হাসপাতাল আজ যেন শিশুদের জন্য মরণফাঁদ। হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ পেরিয়ে গেছে। সর্বশেষ ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এ দেশে শিশুরা কত মূল্যহীন, অসহায়।

এ ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ’ সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আশ্বাস দেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না।’ এর আগে         অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে ওই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। রমনা থানায় মামলাটি করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান। মামলায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়েছে। হয়তো মামলা হবে। এ নিয়ে কিছুদিন হইচই হবে, তারপর আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আমাদের শোকে ধুলা জমবে। আমরা সব ভুলে যাব, যেভাবে ভুলে যাই সব অন্যায়, অনিয়ম। কিন্তু যে মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছেন তারা কীভাবে সামাল দেবেন এই শোক? সারা জীবন তাদের এই বেদনা বুকে ধারণ করে চলতে হবে। নবজাতকের মৃত্যুর শোকের চেয়েও কি কম হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল? এখন পর্যন্ত হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তাও তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত কিছু হোক না হোক সন্তান হারানো অভিভাবকরা তো অন্তত একটু সান্ত্বনা পেয়েছেন। কিন্তু হামে যে শত শত শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, তাদের অভিভাবকরা কী দিয়ে সান্ত্বনা পাবেন? একটি শিশুর জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি মায়ের বুকফাটা কান্না, একটি বাবার অসহায় দীর্ঘশ্বাস। একটি শিশুর মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ হারানোর শোকগাথা।

দেশজুড়ে যেন শিশুমৃত্যুর এক নীরব মিছিল নেমেছে-যে মিছিল প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিও আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনের মধ্যে তেমন কোনো বড় আলোড়ন তুলতে পারেনি। সংক্রমণ শুরুর দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো সর্বাত্মক উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সরকার টিকা কার্যক্রম নিয়েই যেন আত্মতুষ্ট, আর সাধারণ মানুষ নিজ নিজ ব্যস্ততায় নিমগ্ন। কোথায় কোন শিশু মারা যাচ্ছে এবং কোন মা সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাচ্ছেন তা যেন আমাদের বিবেককে আর   নাড়া দেয় না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আমরা যেন ধীরে ধীরে হামে শিশুমৃত্যুকেও স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছি। অথচ প্রতিটি শিশুমৃত্যুই আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার জন্য একেকটি    কঠিন সতর্কবার্তা। একটি সভ্য সমাজ কখনো শিশুমৃত্যুর সঙ্গে আপস করতে পারে না।

প্রশ্ন হলো, এত শিশুমৃত্যুর পরও কেন আমরা এখনো কার্যকর জরুরি ব্যবস্থা নিতে পারলাম না? কেন জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করা হলো না? কেন বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট চালু করা হলো না? কেন প্রতিটি জেলায় জরুরি নজরদারি, দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেল না? কেন স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি?

সবচেয়ে বড় কথা,  আমরা সবাই জানি, হামে এই শিশুদের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী? ইউনিসেফ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, ইউনূস সরকারের অবহেলা এবং গাফিলতির কারণেই হামে মৃত্যুর মিছিল। দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে হামের এই প্রাদুর্ভাব। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম আসলে এসব শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী। কিন্তু সব তথ্যপ্রমাণের পরও ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা নূরজাহানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  এমনকি শত শত শিশুমৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি পর্যন্ত গঠন করা হয়নি। একটি অপরাধের যখন বিচার হয় না, তখন সেই বিচারহীনতার কারণে আরেকটি অপরাধের জন্ম হয়। হামে শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এজন্যই আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকের মৃত্যুর দায় এড়াতে চেষ্টা করছে। তাদের সাহস এতটাই বেড়েছে যে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়া সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা করতেও তারা ভয় পায় না। এটাই হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব। যাদের অবহেলায় হামে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হলো, তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো আরও ঘটনা ঘটবে। এটাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার ফল।

শুধু হাসপাতাল কেন, নিজের বাড়িতে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা কতটা নিরাপদ ও সুরক্ষিত? গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। গোটা দেশ এ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে রামিসার বাসায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। সরকারের উদ্যোগ এবং জনমতের কারণে রামিসার বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু এরকম অনেক ঘটনার বিচার হয়নি অতীতে, যে কারণেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল; পল্লবীতে রামিসাদের পাশের এলাকাতেই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত আবদুল জলিল (৪৮) পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং ওই বাসারই কেয়ারটেকার ছিলেন। থাকতেন ঠিক উল্টো দিকের ঘরটিতে। ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেছে। ওই মামলার শুনানি এখনো শুরু হয়নি। আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে চলাফেরা করছেন এই সমাজেই।

দীর্ঘ ১০ বছরেও সুরাহা হয়নি কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ মিজ তনুর মৃতদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থানা পুলিশ ও ডিবি তদন্ত করলেও পরে এ মামলার দায়িত্ব পায় সিআইডি। প্রায় স্থবির হয়ে পড়া এ মামলাটি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে আবারও।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে নির্যাতনের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটি মাগুরা শহরে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়।

৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক নারী।

এ ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। গত বছরের ১৭ মে এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।

কিন্তু এই রায়ের পর বছর পেরোলেও এখনো বিচারিক প্রক্রিয়াই আটকে রয়েছে অপরাধীর শাস্তি। মামলাটি হাই কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

অতীতে শিশু হত্যা আর নির্যাতনের যদি বিচার হতো, অপরাধীরা যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেত তাহলে হয়তো বাংলাদেশ শিশুদের জন্য এমন বধ?্যভূমি হতো না।

জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুর সংখ্যা ৪ কোটি ৮৯ লাখের বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ। অবশ্য দেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সিদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসেবে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু। এই শিশুরাই আজ অরক্ষিত, চরম নিরাপত্তাহীনতায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার   কমপক্ষে ১৭ শিশু।

শিশুরা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তারা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, আমাদের মানবতার প্রতিচ্ছবি। তাদের মৃত্যুর মিছিল চলতে থাকলে উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি কিংবা সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সব কথাই অর্থহীন হয়ে পড়বে। একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় শুধু তার অবকাঠামো, মেগা প্রকল্প বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়; বরং সে কতটা তার শিশুদের জীবন রক্ষা করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে। আজ আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করতে হবে, আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজ হিসেবে বেঁচে আছি? নাকি আমরা এমন এক নিষ্ঠুর উদাসীনতার মধ্যে ডুবে গেছি, যেখানে শিশুমৃত্যুও আর আমাদের নাড়া দেয় না?

প্রশ্ন একটাই, আর কত শিশুর মৃত্যু হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে?  মৃত্যুর মিছিল কত দীর্ঘ হলে আমাদের ঘুম ভাঙবে?