ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের উজ্জ্বল স্মারক : চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। কোনো একটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, বিনিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সমুজ্জ্বল ভবিষ্যতে আরোহনের প্রতিশ্রুতি এবং দৃঢ় প্রত্যয়কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে থাকে। অর্থনীতি বিকাশের এমন একটি অন্যতম চালিকাশক্তি প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রবিন্দু বা ‘হাব সেন্টার’ হলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। তথা ‘বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র’।

যা দেশ ও জাতির গৌরবের কথা বলে। উন্নত বিশ্বের শহর-নগরগুলোতে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। বাংলাদেশের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তেমনি একটি আইকনিক স্থাপনা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্মচঞ্চল আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। যার সফল রূপকার দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-চট্টগ্রাম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার উজ্জ্বল এক স্মারক এবং প্রতিচ্ছবি। আর, যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে নেপথ্যের কারিগরদের অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন আজকের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।শতাধিক বছরের সুপ্রাচীন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দেশের ‘প্রাইম চেম্বার’ হিসেবে খ্যাত দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে অর্থাৎ বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার প্রাচীন ‘আগ্রাবাদ ডেবার (দীঘি) পাড়ে’ বিস্তীর্ণ ভূমির ওপর গড়ে উঠেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন। আর, এর জন্য বিনামূল্যে জমি বরাদ্দ প্রদান করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় লাভের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামকে দেশেরসত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অন্যতম পদক্ষেপ ছিল চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্থাপন।
বেগম জিয়ার কাছে এর গুরুত্ব সঠিক ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করে তার বাস্তবরূপায়নের পেছনে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যেঅগ্রণী ছিলেন বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সফল প্রেসিডেন্ট এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা।

অথচ নির্মম পরিহাস হলেও বাস্তব যে, পরবর্তী সময়ে হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আওয়ামী অলিগার্করা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি কোনো নির্বাচনছাড়াই যথেচ্ছ দখলে নেয় চিটাগাং চেম্বার। চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভিত্তিফলক স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া; সেটিও সমূলে উচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়।

চেম্বারের ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক ইতিবৃত্ত। কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে পাল্টে দেওয়ার সবরকম অপচেষ্টা চলেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের। নতুন করে ‘উদ্বোধনের’ নামে নাটক মঞ্চায়ন করা হয়। সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স রুমের বিতর্কিত নামকরণ করা হয়। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের একেকটি বিশাল ফ্লোর স্পেস ভাড়া, সেলামি বরাদ্দদানের ক্ষেত্রে নয়-ছয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও পুকুরচুরি হয়েছে দেদারসে। চেম্বারের ঐতিহ্য ধ্বংস করে একে আওয়ামী ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল। প্রকৃত ব্যবসায়ী-শিল্পপতিগণ ক্ষোভ-হতাশায় দীর্ঘদিন চিটাগাং চেম্বার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

অবশেষে গত ২৩ মে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নবনির্বাচিত চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বে প্রেসিডিয়াম ও পরিচালকমণ্ডলী দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ঐতিহ্যবাহী চেম্বার ফিরেছে মূলধারায়। নতুন চেম্বার নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে সাক্ষাৎ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে। নয়া নেতৃত্ব অঙ্গীকার করেছেন দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব গঠনমূলক ভূমিকা পালনের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতায় এবং এর পেছনে সক্রিয় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অনেকের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নয়া চেম্বার নেতৃবৃন্দ।

চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগের কয়েকজন উদ্যমী ব্যক্তি তথা ব্যবসায়ী-শিল্পপতি নেতার প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পেছনে ধারাবাহিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এর বাস্তব রূপায়নে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সর্বোপরি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার সফল রূপকার ছিলেন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন যথাক্রমে মরহুম মীর্জা আবু মনসুর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, এস এম আবুল কালাম, সারোয়ার জামাল নিজাম, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা চালান। এই লক্ষ্যে উপযুক্ত জমির সংস্থানের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মূলত বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যখন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি ছিলেন তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্থাপনে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগে থাকেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১৯৯৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে বিশাল জনসভায় চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্থাপনের জন্য ভূমি বরাদ্দের সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করেন। সারোয়ার জামাল নিজাম চিটাগাং চেম্বার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল চিটাগাং চেম্বারের নেতৃবৃন্দ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি ওয়ার্ল্ড
ট্রেড সেন্টার স্থাপনের জন্য বিনামূল্যে ভূমি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

অবশেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক নির্দেশনা, বদান্যতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার ফলে ১৯৯৫ সালের ২৪ মে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্লট নং ১০২ ও ১০৩ এর মধ্যবর্তী প্রায় ২ বিঘা জমি বিনামূল্যে চিটাগাং চেম্বারকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমির রেজিস্ট্রেশনও দ্রুত সম্পন্ন হয়। বেগম জিয়ার এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ সর্বস্তরের চট্টগ্রামবাসী প্রশংসা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। এরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞগণের তত্ত্বাবধানে বিশ তলা বিশিষ্ট চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ৪০ কোটি টাকা। এর নির্মাণকাজে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের স্থাপত্য, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, পরিকল্পনা, বাণিজ্যিকসহায়তা নেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে ৬ লাখ বর্গফুট আয়তনের সুবিশাল ফ্লোর স্পেস নিয়ে পরিকল্পিত কমপ্লেক্সের অভিজাত ফ্লোর স্পেসসমূহ অগ্রিম সেলামি বরাদ্দ বিক্রির মাধ্যমে সেলফ ফাইন্যান্সিং স্কিমে (স্ব-আয়বর্ধক প্রকল্প) ওয়ার্ল্ড ট্রেডসেন্টার নির্মাণ ব্যয় অনেকাংশে সংস্থান করা হয়।

পরবর্তী সময়ে আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী চেম্বার সভাপতি থাকাকালীন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জন্য জমি অপ্রতুল হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার বদান্যতায় ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি ২ দশমিক ৮৩ বিঘা রেলওয়ের জমি তৃতীয় বারের মতো বরাদ্দ পাওয়া যায়। এই খুশিতে সে বছরের ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর কার্যকালে বড়সড় সফল পদক্ষেপটি ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নামে লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ। আগ্রাবাদ ‘ডেবা’র পাড়ে উত্তর পাশজুড়ে মোট ৭৪ দশমিক ৮৮ কাঠা জমিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে তিন শ’ ফুট উঁচু সুরম্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন। এটি দূর থেকে দৃশ্যমান।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন বা কমপ্লেক্সের পুরোপুরি বাস্তবায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। এর বিভিন্ন সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে এটি। পর্যটকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে নামিদামি এই স্থাপনা। সার্বিকভাবে মূল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দূরদর্শী স্মারক হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোক্তাসহ ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের প্রত্যাশা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার পরিদর্শনে আসবেন। পরিপূর্ণতা লাভ করবে বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মায়ের অনন্য এই স্মারক কমপ্লেক্স। অর্থনীতির ‘হাব সেন্টার’।

মোহাম্মদ আমিরুল হক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং চিটাগাং চেম্বার প্রসঙ্গে আলাপকালে চিটাগাংচেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি-ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিরুল হক গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন,ইতিহাসের অকাট্য সত্য অনিবার্যরূপে সুপ্রতিষ্ঠিত হবেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতা ও দূরদর্শীসিদ্ধান্তকে মুছে কিংবা ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি চেম্বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রথমেই জানতে চাইলাম, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার সঠিক ইতিহাসক্রম কোথায়? চেম্বারের ওয়েবসাইট থেকে তা উধাও কেন? এসব চরম অকৃতজ্ঞতার নামান্তর। এবার নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত অনেকদিন ধরে যারা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য সেই আমলারাও সঠিক ইতিহাস ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নেননি।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিনামূল্যে একাধিকবার ভূমি প্রদান করেছেন। পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তিনিই। অথচ তার নামটি পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে, ভিত্তিফলক নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল। এটা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করার জন্য যারাই তা করেছে আমি মনে করি গুরুতর অন্যায় কাজ হয়েছে। যা খুবই খারাপ কাজ। আমিও মনোকষ্ট পেয়েছি। এমনকি অভিজাত ফ্লোর স্পেসের বাণিজ্যিক বরাদ্দে হয়েছে অনেক অনিয়ম। আগ্রাবাদে মূল্যবান পুরনো চেম্বার ভবনটিও ভেঙে ফেলা হয়। আমরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান ও বিচক্ষণতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবই ইনশা আল্লাহ।

চেম্বারের নতুন নেতৃত্বের অগ্রাধিকার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিটাগাং চেম্বার যাতে সর্বস্তরের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক হয় এবং এখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকে এর জন্য আমি সচেষ্ট থাকবো। বিশেষ করে দেশের নতুন প্রজন্ম ও নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ছাড়া দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ কমানো এবং সহজীকরণে অগ্রণী প্রচেষ্টা চালাবে চিটাগাং চেম্বার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের উজ্জ্বল স্মারক : চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার

আপডেট টাইম : ০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। কোনো একটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, বিনিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সমুজ্জ্বল ভবিষ্যতে আরোহনের প্রতিশ্রুতি এবং দৃঢ় প্রত্যয়কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে থাকে। অর্থনীতি বিকাশের এমন একটি অন্যতম চালিকাশক্তি প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রবিন্দু বা ‘হাব সেন্টার’ হলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। তথা ‘বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র’।

যা দেশ ও জাতির গৌরবের কথা বলে। উন্নত বিশ্বের শহর-নগরগুলোতে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। বাংলাদেশের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তেমনি একটি আইকনিক স্থাপনা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্মচঞ্চল আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। যার সফল রূপকার দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-চট্টগ্রাম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার উজ্জ্বল এক স্মারক এবং প্রতিচ্ছবি। আর, যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে নেপথ্যের কারিগরদের অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন আজকের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।শতাধিক বছরের সুপ্রাচীন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দেশের ‘প্রাইম চেম্বার’ হিসেবে খ্যাত দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে অর্থাৎ বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার প্রাচীন ‘আগ্রাবাদ ডেবার (দীঘি) পাড়ে’ বিস্তীর্ণ ভূমির ওপর গড়ে উঠেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন। আর, এর জন্য বিনামূল্যে জমি বরাদ্দ প্রদান করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় লাভের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামকে দেশেরসত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অন্যতম পদক্ষেপ ছিল চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্থাপন।
বেগম জিয়ার কাছে এর গুরুত্ব সঠিক ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করে তার বাস্তবরূপায়নের পেছনে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যেঅগ্রণী ছিলেন বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সফল প্রেসিডেন্ট এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা।

অথচ নির্মম পরিহাস হলেও বাস্তব যে, পরবর্তী সময়ে হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আওয়ামী অলিগার্করা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি কোনো নির্বাচনছাড়াই যথেচ্ছ দখলে নেয় চিটাগাং চেম্বার। চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভিত্তিফলক স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া; সেটিও সমূলে উচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়।

চেম্বারের ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক ইতিবৃত্ত। কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে পাল্টে দেওয়ার সবরকম অপচেষ্টা চলেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের। নতুন করে ‘উদ্বোধনের’ নামে নাটক মঞ্চায়ন করা হয়। সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স রুমের বিতর্কিত নামকরণ করা হয়। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের একেকটি বিশাল ফ্লোর স্পেস ভাড়া, সেলামি বরাদ্দদানের ক্ষেত্রে নয়-ছয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও পুকুরচুরি হয়েছে দেদারসে। চেম্বারের ঐতিহ্য ধ্বংস করে একে আওয়ামী ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল। প্রকৃত ব্যবসায়ী-শিল্পপতিগণ ক্ষোভ-হতাশায় দীর্ঘদিন চিটাগাং চেম্বার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

অবশেষে গত ২৩ মে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নবনির্বাচিত চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বে প্রেসিডিয়াম ও পরিচালকমণ্ডলী দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ঐতিহ্যবাহী চেম্বার ফিরেছে মূলধারায়। নতুন চেম্বার নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে সাক্ষাৎ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে। নয়া নেতৃত্ব অঙ্গীকার করেছেন দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব গঠনমূলক ভূমিকা পালনের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতায় এবং এর পেছনে সক্রিয় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অনেকের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নয়া চেম্বার নেতৃবৃন্দ।

চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগের কয়েকজন উদ্যমী ব্যক্তি তথা ব্যবসায়ী-শিল্পপতি নেতার প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পেছনে ধারাবাহিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এর বাস্তব রূপায়নে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সর্বোপরি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার সফল রূপকার ছিলেন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন যথাক্রমে মরহুম মীর্জা আবু মনসুর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, এস এম আবুল কালাম, সারোয়ার জামাল নিজাম, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা চালান। এই লক্ষ্যে উপযুক্ত জমির সংস্থানের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মূলত বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যখন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি ছিলেন তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্থাপনে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগে থাকেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১৯৯৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে বিশাল জনসভায় চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্থাপনের জন্য ভূমি বরাদ্দের সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করেন। সারোয়ার জামাল নিজাম চিটাগাং চেম্বার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল চিটাগাং চেম্বারের নেতৃবৃন্দ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি ওয়ার্ল্ড
ট্রেড সেন্টার স্থাপনের জন্য বিনামূল্যে ভূমি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

অবশেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক নির্দেশনা, বদান্যতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার ফলে ১৯৯৫ সালের ২৪ মে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্লট নং ১০২ ও ১০৩ এর মধ্যবর্তী প্রায় ২ বিঘা জমি বিনামূল্যে চিটাগাং চেম্বারকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমির রেজিস্ট্রেশনও দ্রুত সম্পন্ন হয়। বেগম জিয়ার এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ সর্বস্তরের চট্টগ্রামবাসী প্রশংসা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। এরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞগণের তত্ত্বাবধানে বিশ তলা বিশিষ্ট চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ৪০ কোটি টাকা। এর নির্মাণকাজে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের স্থাপত্য, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, পরিকল্পনা, বাণিজ্যিকসহায়তা নেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে ৬ লাখ বর্গফুট আয়তনের সুবিশাল ফ্লোর স্পেস নিয়ে পরিকল্পিত কমপ্লেক্সের অভিজাত ফ্লোর স্পেসসমূহ অগ্রিম সেলামি বরাদ্দ বিক্রির মাধ্যমে সেলফ ফাইন্যান্সিং স্কিমে (স্ব-আয়বর্ধক প্রকল্প) ওয়ার্ল্ড ট্রেডসেন্টার নির্মাণ ব্যয় অনেকাংশে সংস্থান করা হয়।

পরবর্তী সময়ে আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী চেম্বার সভাপতি থাকাকালীন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জন্য জমি অপ্রতুল হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার বদান্যতায় ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি ২ দশমিক ৮৩ বিঘা রেলওয়ের জমি তৃতীয় বারের মতো বরাদ্দ পাওয়া যায়। এই খুশিতে সে বছরের ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর কার্যকালে বড়সড় সফল পদক্ষেপটি ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নামে লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ। আগ্রাবাদ ‘ডেবা’র পাড়ে উত্তর পাশজুড়ে মোট ৭৪ দশমিক ৮৮ কাঠা জমিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে তিন শ’ ফুট উঁচু সুরম্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন। এটি দূর থেকে দৃশ্যমান।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন বা কমপ্লেক্সের পুরোপুরি বাস্তবায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি। এর বিভিন্ন সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে এটি। পর্যটকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে নামিদামি এই স্থাপনা। সার্বিকভাবে মূল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দূরদর্শী স্মারক হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোক্তাসহ ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের প্রত্যাশা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার পরিদর্শনে আসবেন। পরিপূর্ণতা লাভ করবে বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মায়ের অনন্য এই স্মারক কমপ্লেক্স। অর্থনীতির ‘হাব সেন্টার’।

মোহাম্মদ আমিরুল হক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং চিটাগাং চেম্বার প্রসঙ্গে আলাপকালে চিটাগাংচেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি-ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিরুল হক গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন,ইতিহাসের অকাট্য সত্য অনিবার্যরূপে সুপ্রতিষ্ঠিত হবেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতা ও দূরদর্শীসিদ্ধান্তকে মুছে কিংবা ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি চেম্বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রথমেই জানতে চাইলাম, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার সঠিক ইতিহাসক্রম কোথায়? চেম্বারের ওয়েবসাইট থেকে তা উধাও কেন? এসব চরম অকৃতজ্ঞতার নামান্তর। এবার নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত অনেকদিন ধরে যারা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য সেই আমলারাও সঠিক ইতিহাস ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নেননি।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিনামূল্যে একাধিকবার ভূমি প্রদান করেছেন। পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তিনিই। অথচ তার নামটি পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে, ভিত্তিফলক নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল। এটা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করার জন্য যারাই তা করেছে আমি মনে করি গুরুতর অন্যায় কাজ হয়েছে। যা খুবই খারাপ কাজ। আমিও মনোকষ্ট পেয়েছি। এমনকি অভিজাত ফ্লোর স্পেসের বাণিজ্যিক বরাদ্দে হয়েছে অনেক অনিয়ম। আগ্রাবাদে মূল্যবান পুরনো চেম্বার ভবনটিও ভেঙে ফেলা হয়। আমরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান ও বিচক্ষণতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবই ইনশা আল্লাহ।

চেম্বারের নতুন নেতৃত্বের অগ্রাধিকার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিটাগাং চেম্বার যাতে সর্বস্তরের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক হয় এবং এখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকে এর জন্য আমি সচেষ্ট থাকবো। বিশেষ করে দেশের নতুন প্রজন্ম ও নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ছাড়া দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ কমানো এবং সহজীকরণে অগ্রণী প্রচেষ্টা চালাবে চিটাগাং চেম্বার।