ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার আলোচিত দুই ইউনিয়নের নাম

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার মোকামতলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এবং বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে আমাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ী’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন। টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ী’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও দিগন্ত এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে নবগঠিত ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে খোদ সংসদ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। রীতিমতো সরগরম টিভি টকশো থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ। প্রশ্ন উঠেছে-স্বজনপ্রীতি আর নীতি-নৈতিকতার। সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম।

তবে এসবে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না প্রভাবশালী এই প্রতিমন্ত্রী। বরং তাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমের ওপর বেজায় নাখোশ তার কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি ইতোমধ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন স্থানীয়রাও।

অবশ্য নামকরণের বিষয়টিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, এভাবে নিজের ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই।

তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ নবগঠিত ইউনিয়নের এমন নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেখান, সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। সে কারণে এটার নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে। অনেক দূরে হওয়ায় এটার নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব নামকরণ ‘মিরাকলি’ হয়েছে।

গণশুনানি নিয়ে ধোঁয়াশা : নবগঠিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তেমন কোনো গণশুনানি হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গণশুনানি থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়।

সম্প্রতি স্থানীয় মোকামতলা উপজেলার ভরিয়া গ্রামে গিয়ে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নামকরণ নিয়ে গণশুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, এমন কিছু তারা শোনেননি। ভরিয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষক মিজানুর রহমান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এলাকায় গণশুনানি হয়েছে এমন কিছু তাদের জানা নেই।

তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী যুগান্তরকে বলেন, গণশুনানির নামে মূলত কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীরাই এমন নামের প্রস্তাবক ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীকে খুশি করতে তার দুই ছেলে, লন্ডন প্রবাসী ভাতিজি এবং পৈতৃক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন তা সুপারিশ আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৩ জুন এক সভায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব আলম মানিক ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দিলে সভায় তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম মানিক জানান, সভায় তিনি স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যরা সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করে। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ১১ ও ১৪ জুন যথাক্রমে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইউনিয়ন নয়, এর আগে একইভাবে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় একটি কলেজ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে খোদ মীর শাহে আলম ও তার পিতা-মাতার নামে। ফলে ছেলেদের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না, বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

মুখ খুলতে রাজি নন কেউ : বগুড়ায় মীর শাহে আলম খুবই প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই তাকে সমীহ করে চলেন। প্রতিমন্ত্রী নাখোশ হতে পারেন-এমন কোনো মন্তব্য করতে স্থানীয়দের কেউ রাজি নন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণে তেমন ক্ষতির কিছু দেখছেন না অনেকে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরে শাহে আলম বহাল তবিয়তে ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এ কারণে জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে থাকলেও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার আলোচিত দুই ইউনিয়নের নাম

আপডেট টাইম : ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার মোকামতলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এবং বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে আমাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ী’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন। টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ী’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও দিগন্ত এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে নবগঠিত ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে খোদ সংসদ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। রীতিমতো সরগরম টিভি টকশো থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ। প্রশ্ন উঠেছে-স্বজনপ্রীতি আর নীতি-নৈতিকতার। সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম।

তবে এসবে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না প্রভাবশালী এই প্রতিমন্ত্রী। বরং তাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমের ওপর বেজায় নাখোশ তার কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি ইতোমধ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন স্থানীয়রাও।

অবশ্য নামকরণের বিষয়টিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, এভাবে নিজের ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই।

তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ নবগঠিত ইউনিয়নের এমন নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেখান, সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। সে কারণে এটার নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে। অনেক দূরে হওয়ায় এটার নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব নামকরণ ‘মিরাকলি’ হয়েছে।

গণশুনানি নিয়ে ধোঁয়াশা : নবগঠিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তেমন কোনো গণশুনানি হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গণশুনানি থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়।

সম্প্রতি স্থানীয় মোকামতলা উপজেলার ভরিয়া গ্রামে গিয়ে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নামকরণ নিয়ে গণশুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, এমন কিছু তারা শোনেননি। ভরিয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষক মিজানুর রহমান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এলাকায় গণশুনানি হয়েছে এমন কিছু তাদের জানা নেই।

তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী যুগান্তরকে বলেন, গণশুনানির নামে মূলত কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীরাই এমন নামের প্রস্তাবক ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীকে খুশি করতে তার দুই ছেলে, লন্ডন প্রবাসী ভাতিজি এবং পৈতৃক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন তা সুপারিশ আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৩ জুন এক সভায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব আলম মানিক ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দিলে সভায় তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম মানিক জানান, সভায় তিনি স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যরা সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করে। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ১১ ও ১৪ জুন যথাক্রমে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইউনিয়ন নয়, এর আগে একইভাবে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় একটি কলেজ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে খোদ মীর শাহে আলম ও তার পিতা-মাতার নামে। ফলে ছেলেদের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না, বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

মুখ খুলতে রাজি নন কেউ : বগুড়ায় মীর শাহে আলম খুবই প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই তাকে সমীহ করে চলেন। প্রতিমন্ত্রী নাখোশ হতে পারেন-এমন কোনো মন্তব্য করতে স্থানীয়দের কেউ রাজি নন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণে তেমন ক্ষতির কিছু দেখছেন না অনেকে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরে শাহে আলম বহাল তবিয়তে ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এ কারণে জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে থাকলেও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।