ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নীর রহস্যজনক মৃত্যু, নেপথ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি মানসিক অবসাদ

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরার বাসিন্দা ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে নিজের ঘর থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করে মগরা থানার পুলিশ। সদ্য আইন পাস করা এই তরুণীর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের ধারণা, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক অবসাদসহ মৃত্যুর সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মগরায় সায়নীর নিজস্ব ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মগরা থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট (আত্মহত্যাসংক্রান্ত চিঠি) উদ্ধার করা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, শোকগ্রস্ত পরিবারটি শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে সায়নীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

পুলিশের তদন্তকারী দল জানিয়েছে, সায়নী কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সম্পর্কের এই সংকটই তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে কি না, পুলিশ সেটি খতিয়ে দেখছে।

সায়নী চক্রবর্তী কেবল একজন আইনের শিক্ষার্থীই ছিলেন না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ৩ লাখেরও বেশি। মা মলি চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলে বানানো তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ভিডিওগুলো দর্শক মহলে দারুণ সমাদৃত ছিল।

সায়নীর ভিডিওর প্রধান আকর্ষণ ছিল তাঁর সহজ-সরল উপস্থাপনা ও পোষ্যপ্রেম। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের পোষ্য গরুর সঙ্গে সায়নীর খুনসুটি ও ভালোবাসার ভিডিওগুলো দর্শকদের মন জয় করেছিল। মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও সায়নী সুন্দরীকে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

মোটরসাইকেল চালানোর প্রতি সায়নীর দারুণ ঝোঁক ছিল। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কিংবা আধুনিক জিনস পরে তাঁর বাইক চালানোর রিলগুলো ছিল দারুণ জনপ্রিয়। এ ছাড়া ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও তিনি কাজ করতেন। আশ্চর্যজনকভাবে, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ ভিডিওটি ছিল বিয়ের সাজে কনে সেজে একটি পুরোনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ-সিঙ্ক (ঠোঁট মেলানো)।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নীর রহস্যজনক মৃত্যু, নেপথ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি মানসিক অবসাদ

আপডেট টাইম : ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরার বাসিন্দা ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে নিজের ঘর থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করে মগরা থানার পুলিশ। সদ্য আইন পাস করা এই তরুণীর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের ধারণা, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক অবসাদসহ মৃত্যুর সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মগরায় সায়নীর নিজস্ব ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মগরা থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট (আত্মহত্যাসংক্রান্ত চিঠি) উদ্ধার করা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, শোকগ্রস্ত পরিবারটি শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে সায়নীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

পুলিশের তদন্তকারী দল জানিয়েছে, সায়নী কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সম্পর্কের এই সংকটই তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে কি না, পুলিশ সেটি খতিয়ে দেখছে।

সায়নী চক্রবর্তী কেবল একজন আইনের শিক্ষার্থীই ছিলেন না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ৩ লাখেরও বেশি। মা মলি চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলে বানানো তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ভিডিওগুলো দর্শক মহলে দারুণ সমাদৃত ছিল।

সায়নীর ভিডিওর প্রধান আকর্ষণ ছিল তাঁর সহজ-সরল উপস্থাপনা ও পোষ্যপ্রেম। বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের পোষ্য গরুর সঙ্গে সায়নীর খুনসুটি ও ভালোবাসার ভিডিওগুলো দর্শকদের মন জয় করেছিল। মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও সায়নী সুন্দরীকে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

মোটরসাইকেল চালানোর প্রতি সায়নীর দারুণ ঝোঁক ছিল। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কিংবা আধুনিক জিনস পরে তাঁর বাইক চালানোর রিলগুলো ছিল দারুণ জনপ্রিয়। এ ছাড়া ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও তিনি কাজ করতেন। আশ্চর্যজনকভাবে, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ ভিডিওটি ছিল বিয়ের সাজে কনে সেজে একটি পুরোনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ-সিঙ্ক (ঠোঁট মেলানো)।