ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ নয়, নীতিমালার আওতায় আসছে: প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা ‘আমলারা সবাই চোর’ কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন শাকিবের দুই স্ত্রী অপু-বুবলীকে নিয়ে যা বললেন নূতন ‘আলহামদুলিল্লাহ’—বার্সায় যোগ দিয়ে শুকরিয়া আদায় হামজার মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, জানবেন যেভাবে সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় পশ্চিমবঙ্গে আইপিএস কর্মকর্তা বদলি, বিতর্ক সাংবাদিকরা আছেন বলেই গণতন্ত্র আছে: তথ্যমন্ত্রী

আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কায় কৃষকের কপালে ভাঁজ

ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানির স্তর বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বাদামখেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। মাছের ঘের ও পুকুর নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে মৎস্যচাষিদের মধ্যে।

তিস্তাপারের কৃষক সোলাইমান গনি বলেন, “তিস্তার পানি বাড়ছে, আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হবে।”

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আহলাদ হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। শুনেছি ভারত পানি ছেড়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের আমনের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ৩টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে তিস্তাপাড়ের মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার মৎস্যচাষি রাইসুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করে পানি বাড়ছে, তার ওপর বৃষ্টিও হচ্ছে। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আবার পানি কমলে নদীভাঙন শুরু হবে। কবে তিস্তার স্থায়ী সমাধান হবে, জানি না।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীতে প্রতি বছরই উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। এতে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। চলমান পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ নয়, নীতিমালার আওতায় আসছে: প্রতিমন্ত্রী

আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কায় কৃষকের কপালে ভাঁজ

আপডেট টাইম : ০৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানির স্তর বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বাদামখেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। মাছের ঘের ও পুকুর নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে মৎস্যচাষিদের মধ্যে।

তিস্তাপারের কৃষক সোলাইমান গনি বলেন, “তিস্তার পানি বাড়ছে, আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হবে।”

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আহলাদ হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। শুনেছি ভারত পানি ছেড়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের আমনের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ৩টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে তিস্তাপাড়ের মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার মৎস্যচাষি রাইসুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করে পানি বাড়ছে, তার ওপর বৃষ্টিও হচ্ছে। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আবার পানি কমলে নদীভাঙন শুরু হবে। কবে তিস্তার স্থায়ী সমাধান হবে, জানি না।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীতে প্রতি বছরই উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। এতে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। চলমান পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।