ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

টানা ছয় দিনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার অন্তত ১৫টি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাতকানিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন।

জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাতকানিয়ার পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

বন্যায় হাজার হাজার বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে এবং অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। রান্নার উপযোগী পরিবেশ না থাকায় দুর্গত মানুষ শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল। নিরাপদ খাবার পানি, শিশুখাদ্য, ওষুধ এবং স্যানিটেশন সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে বহু মানুষ এখনো ঘরের চাল, উঁচু সড়ক কিংবা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় বন্যার মুখোমুখি হয়েছে সাতকানিয়া। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত ভবন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, থানা ও পৌরসভা কার্যালয়েও। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ডলু নদীর প্রবল স্রোতে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে থাকায় অনেক গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ধসে পড়েছে। বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, “ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। রান্না করা যাচ্ছে না। বিশুদ্ধ পানি নেই। মানুষ খাবারের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছে।”

চন্দনাইশে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজগর বলেন, “প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। অনেক পরিবারে খাবার নেই। দ্রুত ত্রাণ না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

বন্যার সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ৬ হাজার ৫৯১ হেক্টর আউশ ধান, ৫৬৫ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ১৬৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় বিপর্যয়। জেলার ১৫টি উপজেলার হাজার হাজার পুকুর, দিঘি, মাছের খামার ও চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৭ হাজার ৩৭৫টি পুকুর-দিঘি ও ৪৫টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ টন মাছ এবং ৪৮ লাখ ৪০ হাজার পোনা ভেসে গেছে। এতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

তবে মাঠপর্যায়ের আরেকটি সমন্বিত জরিপে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘেরের সংখ্যা আরও বেশি। সেখানে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর এবং ৩২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯১ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও চন্দনাইশের শত শত মাছচাষি কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হালদা নদীর রেণুপোনা লালন-পালনের জন্য ব্যবহৃত অসংখ্য পুকুরও প্লাবিত হওয়ায় মূল্যবান রেণুপোনা ভেসে গেছে। এতে ভবিষ্যতে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা এবং পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

আপডেট টাইম : ৩৭ মিনিট আগে

টানা ছয় দিনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার অন্তত ১৫টি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাতকানিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন।

জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাতকানিয়ার পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

বন্যায় হাজার হাজার বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে এবং অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। রান্নার উপযোগী পরিবেশ না থাকায় দুর্গত মানুষ শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল। নিরাপদ খাবার পানি, শিশুখাদ্য, ওষুধ এবং স্যানিটেশন সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে বহু মানুষ এখনো ঘরের চাল, উঁচু সড়ক কিংবা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় বন্যার মুখোমুখি হয়েছে সাতকানিয়া। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত ভবন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, থানা ও পৌরসভা কার্যালয়েও। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ডলু নদীর প্রবল স্রোতে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে থাকায় অনেক গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ধসে পড়েছে। বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, “ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। রান্না করা যাচ্ছে না। বিশুদ্ধ পানি নেই। মানুষ খাবারের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছে।”

চন্দনাইশে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজগর বলেন, “প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। অনেক পরিবারে খাবার নেই। দ্রুত ত্রাণ না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

বন্যার সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ৬ হাজার ৫৯১ হেক্টর আউশ ধান, ৫৬৫ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ১৬৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় বিপর্যয়। জেলার ১৫টি উপজেলার হাজার হাজার পুকুর, দিঘি, মাছের খামার ও চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৭ হাজার ৩৭৫টি পুকুর-দিঘি ও ৪৫টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ টন মাছ এবং ৪৮ লাখ ৪০ হাজার পোনা ভেসে গেছে। এতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

তবে মাঠপর্যায়ের আরেকটি সমন্বিত জরিপে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘেরের সংখ্যা আরও বেশি। সেখানে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর এবং ৩২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯১ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও চন্দনাইশের শত শত মাছচাষি কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হালদা নদীর রেণুপোনা লালন-পালনের জন্য ব্যবহৃত অসংখ্য পুকুরও প্লাবিত হওয়ায় মূল্যবান রেণুপোনা ভেসে গেছে। এতে ভবিষ্যতে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা এবং পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।