ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজকে যারা সংস্কার-সংস্কার করছেন বিগত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ, হতে পারে দপ্তর পুনর্বণ্টন মঙ্গলবার চালু হচ্ছে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস তারেক রহমানের টেবিলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, ঘোষণা যেকোনো সময় ডনের পর সামিরা ও আজিজকে গ্রেফতারের দাবি সালমান শাহ ভক্তদের ১১ ঘণ্টায়ও খোঁজ পাওয়া যায়নি স্কুলছাত্রী জুঁইয়ের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ইস্যু নিয়ে ভারতকে যে বার্তা দিলো ঢাকা

নালা খুঁড়তে গিয়ে ৯৮ কোটি টাকার স্বর্ণ পেল ১৮ বছরের তরুণ!

বেলজিয়ামে নালা নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় প্রায় ৯৮ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও মূল্যবান মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। নিয়মিত নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে মাটির নিচে পাইপ বসানোর সময় এই বিপুল সম্পদের সন্ধান মেলে।

রোববার (১৬ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় নালা লাইনের পুরোনো পাইপ বদলের কাজ চলছিল। সেখানে গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ১৮ বছর বয়সী কোবে। কাজের সময় তিনিই প্রথম মাটির নিচে থাকা স্বর্ণের সন্ধান পান।

কোবে বেলজিয়ামের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ভিটিএমকে জানান, প্রথমে মাটিতে পড়ে থাকা জিনিসগুলোকে এক ইউরোর কয়েন মনে হয়েছিল। পরে একটি স্বর্ণের বার দেখতে পান তারা। এরপর আরও খনন করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মুদ্রা, স্বর্ণের টুকরা এবং নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

উদ্ধার করা সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৯০ লাখ ইউরো, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি রুপি। সোনাগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল। সেটি একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষের ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল।

ওই ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ তৈরির ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে মদ উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণকাজের সময় বিপুল স্বর্ণ ও মূল্যবান মুদ্রার সন্ধান পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুরো এলাকা নিরাপদ করে।

পরে উদ্ধার করা স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এসব সম্পদের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে এখন তদন্ত চলছে।

পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, স্বর্ণগুলো চুরি করা হয়েছিল কি না কিংবা কোনো অপরাধের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রথমে যাচাই করা হবে। এরপর সম্পদের বৈধ মালিকানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ভবনটির মালিকপক্ষ, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের দাবির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবিদার পাওয়া গেলে সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এদিকে ১৮ বছর বয়সী কোবে আশা করছেন, এত বড় সম্পদ খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা কোনো পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকে যারা সংস্কার-সংস্কার করছেন বিগত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

নালা খুঁড়তে গিয়ে ৯৮ কোটি টাকার স্বর্ণ পেল ১৮ বছরের তরুণ!

আপডেট টাইম : ২ ঘন্টা আগে

বেলজিয়ামে নালা নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় প্রায় ৯৮ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও মূল্যবান মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। নিয়মিত নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে মাটির নিচে পাইপ বসানোর সময় এই বিপুল সম্পদের সন্ধান মেলে।

রোববার (১৬ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় নালা লাইনের পুরোনো পাইপ বদলের কাজ চলছিল। সেখানে গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ১৮ বছর বয়সী কোবে। কাজের সময় তিনিই প্রথম মাটির নিচে থাকা স্বর্ণের সন্ধান পান।

কোবে বেলজিয়ামের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ভিটিএমকে জানান, প্রথমে মাটিতে পড়ে থাকা জিনিসগুলোকে এক ইউরোর কয়েন মনে হয়েছিল। পরে একটি স্বর্ণের বার দেখতে পান তারা। এরপর আরও খনন করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মুদ্রা, স্বর্ণের টুকরা এবং নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

উদ্ধার করা সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৯০ লাখ ইউরো, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি রুপি। সোনাগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল। সেটি একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষের ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল।

ওই ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ তৈরির ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে মদ উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণকাজের সময় বিপুল স্বর্ণ ও মূল্যবান মুদ্রার সন্ধান পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুরো এলাকা নিরাপদ করে।

পরে উদ্ধার করা স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এসব সম্পদের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে এখন তদন্ত চলছে।

পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, স্বর্ণগুলো চুরি করা হয়েছিল কি না কিংবা কোনো অপরাধের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রথমে যাচাই করা হবে। এরপর সম্পদের বৈধ মালিকানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ভবনটির মালিকপক্ষ, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের দাবির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবিদার পাওয়া গেলে সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এদিকে ১৮ বছর বয়সী কোবে আশা করছেন, এত বড় সম্পদ খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা কোনো পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন।