ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

এআই-কে যেসব ব্যক্তিগত তথ্য কখনোই দেবেন না

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। অফিসের ই-মেইল লেখা, পড়াশোনার নোট তৈরি, কোড লেখা, ভ্রমণের পরিকল্পনা, এমনকি স্বাস্থ্য বা আর্থিক বিষয়েও পরামর্শ নিতে অনেকেই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। এতে কাজ যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় কী ধরনের তথ্য শেয়ার করা নিরাপদ?

অনেক ব্যবহারকারী না বুঝেই এআই চ্যাটবটের সঙ্গে এমন তথ্য শেয়ার করেন, যা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা বা গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদিও অনেক এআই সেবা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবুও কোনো অনলাইন সেবায় অপ্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।

এমন কিছু তথ্য যা এআই-এর সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালো। জেনে নিন-

পাসওয়ার্ড বা ওটিপি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, কখনোই নিজের পাসওয়ার্ড, ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসকোড), পিন নম্বর বা নিরাপত্তা কোড এআই-কে দেবেন না। অনেকেই ভুল করে লেখেন, ‘এটা আমার ব্যাংকের পাসওয়ার্ড, মনে রাখো’ বা ‘এই ওটিপিটা দিয়ে কী করব?’ এ ধরনের তথ্য কখনোই শেয়ার করা উচিত নয়। কোনো বৈধ এআই সেবারও এসব তথ্যের প্রয়োজন হয় না।

ব্যাংক ও আর্থিক তথ্য

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর, সিভিভি, এটিএম পিন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লগইন তথ্য কিংবা বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য শেয়ার করবেন না। যদি আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ নিতে চান, তাহলে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে বা আংশিক গোপন করে প্রশ্ন করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ট্যাক্স আইডির সম্পূর্ণ নম্বর বা ছবি এআই-তে আপলোড করা থেকে বিরত থাকুন, যদি না নির্দিষ্ট কাজের জন্য একান্ত প্রয়োজন হয় এবং সংশ্লিষ্ট সেবাটি বিশ্বাসযোগ্য হয়।বিশেষ করে সম্পূর্ণ পরিচয়পত্রের ছবি শেয়ার করা পরিচয় চুরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য

স্বাস্থ্যবিষয়ক সাধারণ তথ্য বা উপসর্গ নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে। তবে নিজের মেডিকেল রিপোর্ট, পরীক্ষার ফল, প্রেসক্রিপশন বা এমন তথ্য যা আপনাকে সহজে শনাক্ত করতে পারে, সেগুলো শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকুন। যদি রিপোর্ট বিশ্লেষণ করাতে চান, তাহলে সম্ভব হলে নাম, ঠিকানা, হাসপাতালের আইডি বা অন্যান্য পরিচয়সূচক তথ্য ঢেকে দিন।

কর্মস্থলের গোপন নথি

অফিসের চুক্তিপত্র, আর্থিক হিসাব, নতুন পণ্যের পরিকল্পনা, গ্রাহকের তথ্য, সোর্স কোড বা গোপন ব্যবসায়িক নথি অনুমতি ছাড়া কখনোই এআই-তে আপলোড করবেন না। অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্য নিরাপত্তা নীতিমালা থাকে, যেখানে বাহ্যিক এআই টুলে গোপন তথ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ।

অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য

শুধু নিজের নয়, অন্য কারও ব্যক্তিগত তথ্যও অনুমতি ছাড়া এআই-এর সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। কারো ফোন নম্বর, ঠিকানা, এনআইডি নম্বর, চিকিৎসা তথ্য, পারিবারিক তথ্য বা ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা তার গোপনীয়তার লঙ্ঘন হতে পারে।

আইনি বা অত্যন্ত গোপন নথি

আদালতের নথি, গোপন তদন্তের তথ্য, অপ্রকাশিত চুক্তি, ব্যক্তিগত উইল বা সংবেদনশীল আইনি কাগজপত্র এআই-তে দেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন। যদি ভাষা সম্পাদনা বা সারসংক্ষেপ দরকার হয়, তাহলে আগে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য মুছে ফেলুন।

ব্যক্তিগত ছবি ও পরিচয় শনাক্তকারী তথ্য

নিজের বা পরিবারের এমন ছবি, যেখানে পরিচয়, ঠিকানা, স্কুল, গাড়ির নম্বর বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য দেখা যায়, সেগুলো শেয়ার করার সময় সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে শিশুদের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

এআই ব্যবহার করার সময় কয়েকটি সহজ অভ্যাস আপনাকে নিরাপদ রাখতে পারে।

  • প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
  • নথি আপলোডের আগে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও আইডি নম্বর মুছে দিন।
  • একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সেবায় ব্যবহার করবেন না।
  • গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।
  • কর্মস্থলের তথ্য শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নিন।
  • মনে রাখুন, কোনো এআই সেবারই আপনার ওটিপি বা পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় না।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

এআই-কে যেসব ব্যক্তিগত তথ্য কখনোই দেবেন না

আপডেট টাইম : ০৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। অফিসের ই-মেইল লেখা, পড়াশোনার নোট তৈরি, কোড লেখা, ভ্রমণের পরিকল্পনা, এমনকি স্বাস্থ্য বা আর্থিক বিষয়েও পরামর্শ নিতে অনেকেই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। এতে কাজ যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় কী ধরনের তথ্য শেয়ার করা নিরাপদ?

অনেক ব্যবহারকারী না বুঝেই এআই চ্যাটবটের সঙ্গে এমন তথ্য শেয়ার করেন, যা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা বা গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদিও অনেক এআই সেবা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবুও কোনো অনলাইন সেবায় অপ্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।

এমন কিছু তথ্য যা এআই-এর সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালো। জেনে নিন-

পাসওয়ার্ড বা ওটিপি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, কখনোই নিজের পাসওয়ার্ড, ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসকোড), পিন নম্বর বা নিরাপত্তা কোড এআই-কে দেবেন না। অনেকেই ভুল করে লেখেন, ‘এটা আমার ব্যাংকের পাসওয়ার্ড, মনে রাখো’ বা ‘এই ওটিপিটা দিয়ে কী করব?’ এ ধরনের তথ্য কখনোই শেয়ার করা উচিত নয়। কোনো বৈধ এআই সেবারও এসব তথ্যের প্রয়োজন হয় না।

ব্যাংক ও আর্থিক তথ্য

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর, সিভিভি, এটিএম পিন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লগইন তথ্য কিংবা বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য শেয়ার করবেন না। যদি আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ নিতে চান, তাহলে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে বা আংশিক গোপন করে প্রশ্ন করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্য

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ট্যাক্স আইডির সম্পূর্ণ নম্বর বা ছবি এআই-তে আপলোড করা থেকে বিরত থাকুন, যদি না নির্দিষ্ট কাজের জন্য একান্ত প্রয়োজন হয় এবং সংশ্লিষ্ট সেবাটি বিশ্বাসযোগ্য হয়।বিশেষ করে সম্পূর্ণ পরিচয়পত্রের ছবি শেয়ার করা পরিচয় চুরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য

স্বাস্থ্যবিষয়ক সাধারণ তথ্য বা উপসর্গ নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে। তবে নিজের মেডিকেল রিপোর্ট, পরীক্ষার ফল, প্রেসক্রিপশন বা এমন তথ্য যা আপনাকে সহজে শনাক্ত করতে পারে, সেগুলো শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকুন। যদি রিপোর্ট বিশ্লেষণ করাতে চান, তাহলে সম্ভব হলে নাম, ঠিকানা, হাসপাতালের আইডি বা অন্যান্য পরিচয়সূচক তথ্য ঢেকে দিন।

কর্মস্থলের গোপন নথি

অফিসের চুক্তিপত্র, আর্থিক হিসাব, নতুন পণ্যের পরিকল্পনা, গ্রাহকের তথ্য, সোর্স কোড বা গোপন ব্যবসায়িক নথি অনুমতি ছাড়া কখনোই এআই-তে আপলোড করবেন না। অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্য নিরাপত্তা নীতিমালা থাকে, যেখানে বাহ্যিক এআই টুলে গোপন তথ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ।

অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য

শুধু নিজের নয়, অন্য কারও ব্যক্তিগত তথ্যও অনুমতি ছাড়া এআই-এর সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। কারো ফোন নম্বর, ঠিকানা, এনআইডি নম্বর, চিকিৎসা তথ্য, পারিবারিক তথ্য বা ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা তার গোপনীয়তার লঙ্ঘন হতে পারে।

আইনি বা অত্যন্ত গোপন নথি

আদালতের নথি, গোপন তদন্তের তথ্য, অপ্রকাশিত চুক্তি, ব্যক্তিগত উইল বা সংবেদনশীল আইনি কাগজপত্র এআই-তে দেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন। যদি ভাষা সম্পাদনা বা সারসংক্ষেপ দরকার হয়, তাহলে আগে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য মুছে ফেলুন।

ব্যক্তিগত ছবি ও পরিচয় শনাক্তকারী তথ্য

নিজের বা পরিবারের এমন ছবি, যেখানে পরিচয়, ঠিকানা, স্কুল, গাড়ির নম্বর বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য দেখা যায়, সেগুলো শেয়ার করার সময় সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে শিশুদের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

এআই ব্যবহার করার সময় কয়েকটি সহজ অভ্যাস আপনাকে নিরাপদ রাখতে পারে।

  • প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
  • নথি আপলোডের আগে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও আইডি নম্বর মুছে দিন।
  • একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সেবায় ব্যবহার করবেন না।
  • গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।
  • কর্মস্থলের তথ্য শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নিন।
  • মনে রাখুন, কোনো এআই সেবারই আপনার ওটিপি বা পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় না।