ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে রোববার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

তুলে দেওয়া হচ্ছে প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়ামের ই-রিকশা, পাচ্ছেন যারা

চট্টগ্রামে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমাতে প্যাডেলচালিত রিকশা তুলে দিয়ে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় এই রিকশা নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব করতে ধাপে ধাপে প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকরাই পাবেন।’

সোমবার (৩ আগস্ট) নগর ভবনের সন্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী রিকশাচালক মালিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র এ ঘোষণা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ লেড-অসিড ব্যাটারির তুলনায় অধিক টেকসই, হালকা ও দ্রুত চার্জিং সুবিধা দেয় লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা। এর মূল সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি আয়ু (৪ থেকে ৭ বছর), একবার চার্জে বেশি মাইলেজ, এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।

মেয়র বলেন, ‘যারা এখনও তাদের প্যাডেলচালিত রিকশার নিবন্ধন বা বার্ষিক নবায়ন সম্পন্ন করেননি, তারা দ্রুত তা সম্পন্ন করুন। শুধুমাত্র নিবন্ধনভুক্ত ও নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশা লাইসেন্স জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। নিবন্ধনবিহীন বা অনিবন্ধিত রিকশা এ সুবিধার আওতায় আসবে না।’

মেয়র আরও বলেন, ‘নগরীতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার রিকশার লাইসেন্স থাকলেও এর মধ্যে মাত্র প্রায় ২৫ হাজারের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৫ হাজার রিকশার মালিক এখনও নবায়ন করেননি।’ এই মালিকদের দ্রুত নবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে একদিকে তারা ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা পাওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্বও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন ই-রিকশা চালু করা নয়, বরং পুরো রিকশা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। নিবন্ধিত রিকশাগুলোর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হলে নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। আমরা ধীরে ধীরে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং নগরীর পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘এই পরিকল্পনার আওতায় দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর ফলে নগরীতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হবে, যানজট কমবে এবং আধুনিক ও নান্দনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা চালুর মাধ্যমে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও ধীরে ধীরে বন্ধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে নগরবাসী উন্নত সেবা পাবেন, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর রিকশা চালক মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ, মহিলা সম্পাদক সালমা আকতার শিউলিসহ চালক মালিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা

তুলে দেওয়া হচ্ছে প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়ামের ই-রিকশা, পাচ্ছেন যারা

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

চট্টগ্রামে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমাতে প্যাডেলচালিত রিকশা তুলে দিয়ে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় এই রিকশা নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব করতে ধাপে ধাপে প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকরাই পাবেন।’

সোমবার (৩ আগস্ট) নগর ভবনের সন্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী রিকশাচালক মালিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র এ ঘোষণা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ লেড-অসিড ব্যাটারির তুলনায় অধিক টেকসই, হালকা ও দ্রুত চার্জিং সুবিধা দেয় লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা। এর মূল সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি আয়ু (৪ থেকে ৭ বছর), একবার চার্জে বেশি মাইলেজ, এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।

মেয়র বলেন, ‘যারা এখনও তাদের প্যাডেলচালিত রিকশার নিবন্ধন বা বার্ষিক নবায়ন সম্পন্ন করেননি, তারা দ্রুত তা সম্পন্ন করুন। শুধুমাত্র নিবন্ধনভুক্ত ও নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশা লাইসেন্স জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। নিবন্ধনবিহীন বা অনিবন্ধিত রিকশা এ সুবিধার আওতায় আসবে না।’

মেয়র আরও বলেন, ‘নগরীতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার রিকশার লাইসেন্স থাকলেও এর মধ্যে মাত্র প্রায় ২৫ হাজারের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৫ হাজার রিকশার মালিক এখনও নবায়ন করেননি।’ এই মালিকদের দ্রুত নবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে একদিকে তারা ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা পাওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্বও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন ই-রিকশা চালু করা নয়, বরং পুরো রিকশা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। নিবন্ধিত রিকশাগুলোর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হলে নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। আমরা ধীরে ধীরে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং নগরীর পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘এই পরিকল্পনার আওতায় দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর ফলে নগরীতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হবে, যানজট কমবে এবং আধুনিক ও নান্দনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা চালুর মাধ্যমে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও ধীরে ধীরে বন্ধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে নগরবাসী উন্নত সেবা পাবেন, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর রিকশা চালক মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ, মহিলা সম্পাদক সালমা আকতার শিউলিসহ চালক মালিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।