ভেজাল তেলের ভিড়ে যখন বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন কাঠের ঘানিতে ভাঙানো খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করে নতুন সম্ভাবনার গল্প লিখছেন এক উদ্যোক্তা। স্থানীয় সরিষা, দেশীয় প্রযুক্তি ও সাহসী উদ্যোগ- এই তিনের সমন্বয়ে সাতক্ষীরায় গড়ে উঠেছে একটি আধুনিক তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। শুধু তেলই নয়, এই উদ্যোগে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান, শক্তিশালী হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতিও।
একসময় মধুর ব্যবসা করতেন মোশাররফ হোসেন। পরে সাতক্ষীরায় সরিষার ব্যাপক উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখে বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে তোলেন সুন্দরবন অয়েল মিল। ১২টি তেঁতুল কাঠের ঘানি ও আধুনিক ফিল্টার প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ টন সরিষা মাড়াই করা হয়। এতে মাসে ২০ টনেরও বেশি খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত তেলের বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা।
সুন্দরবন অয়েল মিলে উৎপাদিত তেল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরিষার খৈল ব্যবহৃত হচ্ছে মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন কাজে।
এখানে কোল্ড প্রেস পদ্ধতিতে উৎপাদিত তেলের স্বাদ ও মানে সন্তুষ্ট ক্রেতারাও। বর্তমানে মিলটিতে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এখান থেকে তেল সংগ্রহ করে অনলাইনেও বিক্রি করছেন। এতে তাদেরও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন উৎপাদনের কারণে অল্প সময়েই মিলটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষিপণ্যকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এ ধরনের উদ্যোগ শুধু বিশুদ্ধ খাদ্যের নিশ্চয়তাই দিচ্ছে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরার কাঠের ঘানিতে উৎপাদিত এই ভোজ্যতেল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























