ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ নয়, নীতিমালার আওতায় আসছে: প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা ‘আমলারা সবাই চোর’ কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন শাকিবের দুই স্ত্রী অপু-বুবলীকে নিয়ে যা বললেন নূতন ‘আলহামদুলিল্লাহ’—বার্সায় যোগ দিয়ে শুকরিয়া আদায় হামজার মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, জানবেন যেভাবে সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় পশ্চিমবঙ্গে আইপিএস কর্মকর্তা বদলি, বিতর্ক সাংবাদিকরা আছেন বলেই গণতন্ত্র আছে: তথ্যমন্ত্রী

‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় পশ্চিমবঙ্গে আইপিএস কর্মকর্তা বদলি, বিতর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশা আল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ বলার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে আইপিএস কর্মকর্তা ড. বুশারা বানোর বদলি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর বদলির আদেশে এটিকে একটি ‘জনস্বার্থে’ প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বুশারা বানো পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জারি করা আদেশে তাঁকে স্টেট আর্মড পুলিশের (এসএপি) চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিসের (ডব্লিউবিপিএস) কর্মকর্তা পার্থ ঘোষ।

বদলির কয়েক ঘণ্টা আগে বুশারার একটি ইউটিউব ভিডিও নিয়ে ডানপন্থী মহলে সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে তিনি সিভিল সার্ভিসে আসার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রেসিডেনসিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমির (আরসিএ) প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে ফেরার পর ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন এবং আরসিএর লাইব্রেরি ও কোচিং তাঁকে সহায়তা করেছে।

‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করে, তারা পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে বুশারার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর প্রকাশ্য যোগাযোগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ও ‘জাতীয় অভিব্যক্তি’ ব্যবহার করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, ভিডিওতে তিনি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’ ব্যবহার করেননি।

বুশারা এই বিষয়ে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বদলির সমালোচনা করে এক্সে পোস্ট করেন। তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় অভিবাদন ও শব্দ ব্যবহারের কারণে একজন মুসলিম আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি করা ‘হাস্যকর’।

এদিকে, সরকারি সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি ছোট প্রশাসনিক রদবদলের অংশ এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা এটিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুশারা বানো ২০২১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বর্তমান তালিকায়ও তাঁকে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দেখানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান হঠাৎ বন্ধ নয়, নীতিমালার আওতায় আসছে: প্রতিমন্ত্রী

‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় পশ্চিমবঙ্গে আইপিএস কর্মকর্তা বদলি, বিতর্ক

আপডেট টাইম : ৩৩ মিনিট আগে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশা আল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ বলার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে আইপিএস কর্মকর্তা ড. বুশারা বানোর বদলি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর বদলির আদেশে এটিকে একটি ‘জনস্বার্থে’ প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বুশারা বানো পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জারি করা আদেশে তাঁকে স্টেট আর্মড পুলিশের (এসএপি) চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিসের (ডব্লিউবিপিএস) কর্মকর্তা পার্থ ঘোষ।

বদলির কয়েক ঘণ্টা আগে বুশারার একটি ইউটিউব ভিডিও নিয়ে ডানপন্থী মহলে সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে তিনি সিভিল সার্ভিসে আসার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রেসিডেনসিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমির (আরসিএ) প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে ফেরার পর ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন এবং আরসিএর লাইব্রেরি ও কোচিং তাঁকে সহায়তা করেছে।

‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করে, তারা পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে বুশারার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর প্রকাশ্য যোগাযোগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ও ‘জাতীয় অভিব্যক্তি’ ব্যবহার করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, ভিডিওতে তিনি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’ ব্যবহার করেননি।

বুশারা এই বিষয়ে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বদলির সমালোচনা করে এক্সে পোস্ট করেন। তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় অভিবাদন ও শব্দ ব্যবহারের কারণে একজন মুসলিম আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি করা ‘হাস্যকর’।

এদিকে, সরকারি সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি ছোট প্রশাসনিক রদবদলের অংশ এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা এটিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুশারা বানো ২০২১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বর্তমান তালিকায়ও তাঁকে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দেখানো হয়েছে।