ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শাহবাজ শরিফের সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এর বিকল্প অকল্পনীয় : খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে সহায়তায় জরুরি বৈঠকে তুরস্ক-পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন, ভাষণে বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশের রূপরেখা: মাহ্দী আমিন ৫ জেলার চরে অর্থকরী ফসল বাদাম ও কাউন প্রয়োজন সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে হালান্ডের জোড়া গোলে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান নরওয়ের

১৮ বছর পর বিতর্ক ঘাড়ে নিয়েই ফ্রান্সে যাচ্ছেন পোপ লিও

সহায়তায় মৃত্যুর অনুমোদন এবং গির্জার যাজকদের যৌন নির্যাতনের পুরোনো কেলেঙ্কারি- দুই বিতর্কের আবহেই ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন পোপ লিও চতুর্দশ। ১৮ বছর পর কোনো পোপের প্রথম আনুষ্ঠানিক ফ্রান্স সফর হতে যাচ্ছে এটি। চার দিনের এই সফরে মানবমর্যাদা রক্ষার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ফরাসি ক্যাথলিক চার্চের সামনে থাকা বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পোপ লিওর চার দিনের সফর। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এলিসি প্রাসাদে বৈঠক করবেন। পরে ফরাসি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পোপ হিসেবে লিও এমন এক সময়ে ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন, যখন দেশটিতে নির্দিষ্ট শর্তে সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি দিয়ে নতুন একটি আইন কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে যাজকদের যৌন নির্যাতনের দীর্ঘদিনের ঘটনাগুলোর কারণে চার্চের ভাবমূর্তির ওপর তৈরি হওয়া চাপও এখনো কাটেনি।

প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে বক্তব্য দেবেন পোপ লিও। এরপর নটর ডেম ক্যাথেড্রালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং স্তাদ দ্য ফ্রান্সে তরুণদের একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

ফ্রান্সের বিশপ সম্মেলনের প্রধান কার্ডিনাল জ্যাঁ-মার্ক আভেলিন বলেন, ‘মানবজীবনের মর্যাদা রক্ষা’ পোপের বার্তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হবে।

গত আগস্টে ফ্রান্সে একটি আইন কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে গুরুতর ও নিরাময় অযোগ্য রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তায় মৃত্যুর অধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্যাথলিক চার্চ এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। চার্চের ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়, গর্ভধারণের মুহূর্ত থেকে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত মানবজীবন সুরক্ষিত রাখা উচিত।

তবে ফ্রান্সের একটি ধর্মবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাসচিব মার্টিন দুমোঁ এএফপিকে বলেন, এ বিষয়ে পোপ সরাসরি সংঘাতমূলক অবস্থান নিলে তিনি ‘খুবই অবাক’ হবেন।

রোববার লুর্দে যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার সাতজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে পোপ লিওর। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়, প্রায় সাত দশকে ফরাসি ক্যাথলিক চার্চের যাজক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত ফরাসি বিশপ মার্ক স্তেংগার রয়টার্সকে বলেন, এসব কেলেঙ্কারি ‘চার্চকে গভীরভাবে আহত করেছে এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে’।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষতিপূরণ এবং শিশু সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভুক্তভোগীরা চার্চের নেতাদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছেন।

এমন এক সময়ে পোপ লিওর ফ্রান্স সফর হচ্ছে, যখন গভীরভাবে প্রোথিত ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য এবং সরকারি নীতিতে চার্চের ক্রমহ্রাসমান প্রভাবের মধ্যে ক্যাথলিক চার্চ দেশটিতে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে পোপের সফরের আলোচনার পরিধি শুধু ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্যারিসে অভিবাসীদের সহায়তাকারী একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও বক্তব্য দেবেন তিনি।

সফরের শেষ পর্যায়ে মেতজ শহরে ইউরোপের শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিয়ে একটি বৈঠকে অংশ নেবেন পোপ লিও। সেখানে ইউরোপের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

১৮ বছর পর বিতর্ক ঘাড়ে নিয়েই ফ্রান্সে যাচ্ছেন পোপ লিও

আপডেট টাইম : ২ ঘন্টা আগে

সহায়তায় মৃত্যুর অনুমোদন এবং গির্জার যাজকদের যৌন নির্যাতনের পুরোনো কেলেঙ্কারি- দুই বিতর্কের আবহেই ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন পোপ লিও চতুর্দশ। ১৮ বছর পর কোনো পোপের প্রথম আনুষ্ঠানিক ফ্রান্স সফর হতে যাচ্ছে এটি। চার দিনের এই সফরে মানবমর্যাদা রক্ষার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ফরাসি ক্যাথলিক চার্চের সামনে থাকা বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পোপ লিওর চার দিনের সফর। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এলিসি প্রাসাদে বৈঠক করবেন। পরে ফরাসি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পোপ হিসেবে লিও এমন এক সময়ে ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন, যখন দেশটিতে নির্দিষ্ট শর্তে সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি দিয়ে নতুন একটি আইন কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে যাজকদের যৌন নির্যাতনের দীর্ঘদিনের ঘটনাগুলোর কারণে চার্চের ভাবমূর্তির ওপর তৈরি হওয়া চাপও এখনো কাটেনি।

প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে বক্তব্য দেবেন পোপ লিও। এরপর নটর ডেম ক্যাথেড্রালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং স্তাদ দ্য ফ্রান্সে তরুণদের একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

ফ্রান্সের বিশপ সম্মেলনের প্রধান কার্ডিনাল জ্যাঁ-মার্ক আভেলিন বলেন, ‘মানবজীবনের মর্যাদা রক্ষা’ পোপের বার্তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হবে।

গত আগস্টে ফ্রান্সে একটি আইন কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে গুরুতর ও নিরাময় অযোগ্য রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তায় মৃত্যুর অধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্যাথলিক চার্চ এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। চার্চের ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়, গর্ভধারণের মুহূর্ত থেকে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত মানবজীবন সুরক্ষিত রাখা উচিত।

তবে ফ্রান্সের একটি ধর্মবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাসচিব মার্টিন দুমোঁ এএফপিকে বলেন, এ বিষয়ে পোপ সরাসরি সংঘাতমূলক অবস্থান নিলে তিনি ‘খুবই অবাক’ হবেন।

রোববার লুর্দে যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার সাতজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে পোপ লিওর। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়, প্রায় সাত দশকে ফরাসি ক্যাথলিক চার্চের যাজক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত ফরাসি বিশপ মার্ক স্তেংগার রয়টার্সকে বলেন, এসব কেলেঙ্কারি ‘চার্চকে গভীরভাবে আহত করেছে এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে’।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষতিপূরণ এবং শিশু সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভুক্তভোগীরা চার্চের নেতাদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছেন।

এমন এক সময়ে পোপ লিওর ফ্রান্স সফর হচ্ছে, যখন গভীরভাবে প্রোথিত ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য এবং সরকারি নীতিতে চার্চের ক্রমহ্রাসমান প্রভাবের মধ্যে ক্যাথলিক চার্চ দেশটিতে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে পোপের সফরের আলোচনার পরিধি শুধু ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্যারিসে অভিবাসীদের সহায়তাকারী একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও বক্তব্য দেবেন তিনি।

সফরের শেষ পর্যায়ে মেতজ শহরে ইউরোপের শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিয়ে একটি বৈঠকে অংশ নেবেন পোপ লিও। সেখানে ইউরোপের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা