ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শাহবাজ শরিফের সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এর বিকল্প অকল্পনীয় : খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে সহায়তায় জরুরি বৈঠকে তুরস্ক-পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন, ভাষণে বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশের রূপরেখা: মাহ্দী আমিন ৫ জেলার চরে অর্থকরী ফসল বাদাম ও কাউন প্রয়োজন সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে হালান্ডের জোড়া গোলে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান নরওয়ের

৫ জেলার চরে অর্থকরী ফসল বাদাম ও কাউন প্রয়োজন সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য

রংপুরের ৫ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদীর বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য রূপালী চর বাদাম ও কাউন চাষের বেশ উপযোগি হওয়ায় সেগুলোতে বাদাম ও কাউন চাষ করে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। প্রতিটি চরেই ফলন ভালো হওয়ায় অত্যন্ত দামি এই দু’টি শস্য নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তারা। সঠিক দিক নির্দেশনা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে চরাঞ্চলে বাদাম ও কাউন চাষে ভাগ্য বদলে যাবে কৃষকদের। এ দু’টি শস্য হয়ে উঠবে চরাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক ফসল।

জানা গেছে, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা এই ৫টি জেলা নিয়ে গঠিত বৃহত্তর রংপুর জেলা। এ ৫ জেলার প্রতিটি জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা, ধরলা, ব্রক্ষ্মপুত্র, দুধকুমোর, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করোতোয়া ও ঘিরনই নদী। প্রতি বছর এসব নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়িসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। নদী তীরবর্তী লোকজন নদী ভাঙ্গন ও বন্যার ছোবলে প্রতি বছর নিঃস্ব থেকে নিঃস্ব হচ্ছে। একদিকে যেমন, নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিবছর উজান থেকে পলি মাটি জমে নদীর ভাটি অঞ্চল ভরাট হয়ে আসছে। তেমনি নদীর প্রতিবছর নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে নদীর বুক চিরে জেগে উঠছে অসংখ্য চর। পলি মিশ্রিত এসব চর রবিশস্যের জন্য বেশ উপযোগি হওয়ায় এখন নদী পাড়ের লোকজন এসব চরকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।

রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তার বুক চিরে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। বিশেষ করে, রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা, যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া, কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও দুধকুমোর, গাইবান্ধায়, তিস্তা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে অসংখ্য রূপালী চর। এসব চরের অধিকাংশতেই এখন সবুজের সমারোহ। সর্বগ্রাসী নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা রুপালী চরগুলো এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে। চাষ করা হচ্ছে বাদাম, কাউন, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ও রবিশস্য। বিশেষ করে, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরে বাদাম ও কাউন এর ক্ষেত দেখে মনে হচ্ছে রূপালী চরে যেন সবুজ চাদর বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে বাদামের সবুজপাতা বাতাশে দোল খেয়ে যেন সবুজ ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। যা দুর থেকে এক অপরূপ শোভা বর্ধন করছে।

চরাঞ্চলের একাধিক কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাদাম এবং কাউন চাষ অত্যন্ত সহজ, খরচ কম এবং ঝামেলা নেই। বন্যায় তিস্তার চরগুলোতে পলিমাটি জমে থাকায় এগুলো বাদাম, কাউন, তরমুজ, মিষ্টিকুমড়াসহ অন্যান্য রবিশস্যের জন্য বেশ উপযোগি হয়েছে। তাই এসব চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী জমিগুলোতে অন্যান্য রবিশস্যের পাশাপাশি কাউন ও বাদামের ফলন ভালো এবং তুলনামূলকভাবে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বাদাম ও কাউন চাষে ঝুঁকছেন বেশি। ইতোমধ্যে বাদা চাষের জন্য জমি তৈরি শুরু হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, সরকারি কৃষি বিভাগ থেকে এ অঞ্চলের কৃষক ও চাষীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে বৃহত্তর রংপুরের চরাঞ্চলগুলোই হবে কৃষি অর্থনীতির অন্যতম সহায়ক।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলার প্রায় ৭’শ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। এরমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলেই প্রায় ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। বাদাম সাধারণত তেল জাতীয় ফসল। বেলে, দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটিতে বাদামের ভালো ফলন হয়। তাই তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমোর নদীর চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে, চরাঞ্চলে বেশির ভাগ বারি চিনাবাদাম-৭ ও ৮ এর চাষ হয়। এ ছাড়া, বিনা-৪ ও বিজি-২ এর ফলনও ভালো হয়ে থাকে। বীজ বপনের ১২০ থেকে ১৫০ দিনের মধ্যে চিনাবাদাম পরিপক্ক হয়। মৌসুমের শুরুতে বপন করা বাদাম ইতোমধ্যে ঘরে তোলা হয়েছে।

চরে বাদাম চাষ করা কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগাম জাতের আলু তুলে মৌসুমের শুরুতে বাদাম চাষ করা হয়। বীজ বপন থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। রোপণের পর অন্য ফসলের ন্যায় পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কোন প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না। বীজ বপণ ও বাদাম উঠানোর শ্রমিক খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। ফলন মোটামুটি ভালো হলে বিঘা প্রতি ফলন হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ বাদাম। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বাদাম হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার ৮শ’ টাকা দরে। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি লাভ থাকে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকার মতো। যা একেবারেই ঝামেলাবিহীন এবং অত্যন্ত কম পরিশ্রমের ফসল। সাধারণত আশ্বিন মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত বাদামের বীজ বপন করা হয়। আর কাউন এর বীজ বপন করা হয় অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাসে।

শুধু কাউনিয়ার চরাঞ্চলেই নয়, নীলফামারী জেলার ডোমার, ডিমলা, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ, আদিতমারী, পাটগ্রামসহ কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অগণিত রুপালী চর এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক হারে বাদাম চাষ হচ্ছে।

সরেজমিনে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিংগীমারী, সিন্দূর্ণা ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়কার করাল গ্রাসী তিস্তা নদী এখন অধিকাংশ স্থানেই আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। পলি মিশ্রিত এসব চরে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানা প্রজাতির ফসল। বিশেষ করে ভুট্টা, টমেটো, বাদাম, তরমুজ, আলু, বেগুন, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া এবং পাটসহ বিভিন্ন শাকসবজি ও রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। সর্বনাশা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলো চরাঞ্চলের ভূমিহীন মানুষগুলোর মুখে কিছুটা হাসি ফুটিয়ে তুলেছে।

সব্জি ক্ষেত পরিচর্যারত কৃষক মফিজুলের সাথে কথা হলে তিনি ইনকিলাবকে জানান, গত বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। এই চার বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ২৫/২৬ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১০ মন বাদাম পেয়েছেন। গত বছর বাদামের মুল্য ছিল মনপ্রতি ২৪শ’ থেকে ২৬শ’ টাকা। তিনি আরো জানান, অল্প পরিশ্রমে অল্প খরচে বেশ ভালো ফলন পাওয়ায় গত বারের চেয়ে এবছর দ্বিগুণ জমিতে বাদাম চাষ করবেন। তার মত আরো অনেকেই এবছর বাদাম চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কৃষকদেও দাবি, নদী তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের কৃষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হলে তারা বাদাম চাষে আরো বেশি আগ্রহী এবং পারদর্শী হবে। আর এতে করে বাদাম হয়ে উঠবে চরাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক ফসল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

৫ জেলার চরে অর্থকরী ফসল বাদাম ও কাউন প্রয়োজন সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

রংপুরের ৫ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদীর বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য রূপালী চর বাদাম ও কাউন চাষের বেশ উপযোগি হওয়ায় সেগুলোতে বাদাম ও কাউন চাষ করে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। প্রতিটি চরেই ফলন ভালো হওয়ায় অত্যন্ত দামি এই দু’টি শস্য নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তারা। সঠিক দিক নির্দেশনা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে চরাঞ্চলে বাদাম ও কাউন চাষে ভাগ্য বদলে যাবে কৃষকদের। এ দু’টি শস্য হয়ে উঠবে চরাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক ফসল।

জানা গেছে, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা এই ৫টি জেলা নিয়ে গঠিত বৃহত্তর রংপুর জেলা। এ ৫ জেলার প্রতিটি জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা, ধরলা, ব্রক্ষ্মপুত্র, দুধকুমোর, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করোতোয়া ও ঘিরনই নদী। প্রতি বছর এসব নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়িসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। নদী তীরবর্তী লোকজন নদী ভাঙ্গন ও বন্যার ছোবলে প্রতি বছর নিঃস্ব থেকে নিঃস্ব হচ্ছে। একদিকে যেমন, নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিবছর উজান থেকে পলি মাটি জমে নদীর ভাটি অঞ্চল ভরাট হয়ে আসছে। তেমনি নদীর প্রতিবছর নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে নদীর বুক চিরে জেগে উঠছে অসংখ্য চর। পলি মিশ্রিত এসব চর রবিশস্যের জন্য বেশ উপযোগি হওয়ায় এখন নদী পাড়ের লোকজন এসব চরকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।

রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তার বুক চিরে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। বিশেষ করে, রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা, যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া, কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও দুধকুমোর, গাইবান্ধায়, তিস্তা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে অসংখ্য রূপালী চর। এসব চরের অধিকাংশতেই এখন সবুজের সমারোহ। সর্বগ্রাসী নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা রুপালী চরগুলো এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে। চাষ করা হচ্ছে বাদাম, কাউন, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ও রবিশস্য। বিশেষ করে, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরে বাদাম ও কাউন এর ক্ষেত দেখে মনে হচ্ছে রূপালী চরে যেন সবুজ চাদর বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে বাদামের সবুজপাতা বাতাশে দোল খেয়ে যেন সবুজ ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। যা দুর থেকে এক অপরূপ শোভা বর্ধন করছে।

চরাঞ্চলের একাধিক কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাদাম এবং কাউন চাষ অত্যন্ত সহজ, খরচ কম এবং ঝামেলা নেই। বন্যায় তিস্তার চরগুলোতে পলিমাটি জমে থাকায় এগুলো বাদাম, কাউন, তরমুজ, মিষ্টিকুমড়াসহ অন্যান্য রবিশস্যের জন্য বেশ উপযোগি হয়েছে। তাই এসব চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী জমিগুলোতে অন্যান্য রবিশস্যের পাশাপাশি কাউন ও বাদামের ফলন ভালো এবং তুলনামূলকভাবে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বাদাম ও কাউন চাষে ঝুঁকছেন বেশি। ইতোমধ্যে বাদা চাষের জন্য জমি তৈরি শুরু হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, সরকারি কৃষি বিভাগ থেকে এ অঞ্চলের কৃষক ও চাষীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে বৃহত্তর রংপুরের চরাঞ্চলগুলোই হবে কৃষি অর্থনীতির অন্যতম সহায়ক।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলার প্রায় ৭’শ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। এরমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলেই প্রায় ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। বাদাম সাধারণত তেল জাতীয় ফসল। বেলে, দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটিতে বাদামের ভালো ফলন হয়। তাই তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমোর নদীর চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে, চরাঞ্চলে বেশির ভাগ বারি চিনাবাদাম-৭ ও ৮ এর চাষ হয়। এ ছাড়া, বিনা-৪ ও বিজি-২ এর ফলনও ভালো হয়ে থাকে। বীজ বপনের ১২০ থেকে ১৫০ দিনের মধ্যে চিনাবাদাম পরিপক্ক হয়। মৌসুমের শুরুতে বপন করা বাদাম ইতোমধ্যে ঘরে তোলা হয়েছে।

চরে বাদাম চাষ করা কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগাম জাতের আলু তুলে মৌসুমের শুরুতে বাদাম চাষ করা হয়। বীজ বপন থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। রোপণের পর অন্য ফসলের ন্যায় পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কোন প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না। বীজ বপণ ও বাদাম উঠানোর শ্রমিক খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। ফলন মোটামুটি ভালো হলে বিঘা প্রতি ফলন হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ বাদাম। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বাদাম হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার ৮শ’ টাকা দরে। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি লাভ থাকে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকার মতো। যা একেবারেই ঝামেলাবিহীন এবং অত্যন্ত কম পরিশ্রমের ফসল। সাধারণত আশ্বিন মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত বাদামের বীজ বপন করা হয়। আর কাউন এর বীজ বপন করা হয় অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাসে।

শুধু কাউনিয়ার চরাঞ্চলেই নয়, নীলফামারী জেলার ডোমার, ডিমলা, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ, আদিতমারী, পাটগ্রামসহ কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অগণিত রুপালী চর এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক হারে বাদাম চাষ হচ্ছে।

সরেজমিনে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিংগীমারী, সিন্দূর্ণা ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়কার করাল গ্রাসী তিস্তা নদী এখন অধিকাংশ স্থানেই আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। পলি মিশ্রিত এসব চরে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানা প্রজাতির ফসল। বিশেষ করে ভুট্টা, টমেটো, বাদাম, তরমুজ, আলু, বেগুন, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া এবং পাটসহ বিভিন্ন শাকসবজি ও রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। সর্বনাশা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলো চরাঞ্চলের ভূমিহীন মানুষগুলোর মুখে কিছুটা হাসি ফুটিয়ে তুলেছে।

সব্জি ক্ষেত পরিচর্যারত কৃষক মফিজুলের সাথে কথা হলে তিনি ইনকিলাবকে জানান, গত বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। এই চার বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ২৫/২৬ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১০ মন বাদাম পেয়েছেন। গত বছর বাদামের মুল্য ছিল মনপ্রতি ২৪শ’ থেকে ২৬শ’ টাকা। তিনি আরো জানান, অল্প পরিশ্রমে অল্প খরচে বেশ ভালো ফলন পাওয়ায় গত বারের চেয়ে এবছর দ্বিগুণ জমিতে বাদাম চাষ করবেন। তার মত আরো অনেকেই এবছর বাদাম চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কৃষকদেও দাবি, নদী তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের কৃষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হলে তারা বাদাম চাষে আরো বেশি আগ্রহী এবং পারদর্শী হবে। আর এতে করে বাদাম হয়ে উঠবে চরাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক ফসল।