ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

আইএসে যোগ দিতে বাবার অনুমতি চেয়েছিল তাহমিদ

আইএসের ভিডিওতে দেশে আরও জঙ্গি হামলার হুমকি দেওয়া তিন তরুণকে শনাক্ত করেছেন তাদের পরিচিতজনরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুমকিদাতা তরুণদের একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার শফিউর রহমানের ছেলে তাহমিদ রহমান শাফি। সে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিল। তুষার নামের অন্যজন পেশায় দন্তচিকিৎসক ও মডেল নায়লা নাইমের সাবেক স্বামী। অপর তরুণ তৌসিফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক ছাত্র।

গুলশানের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর মঙ্গলবার আইএসের একটি ভিডিও প্রকাশ করে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। এতে তিন তরুণকে বাংলায় কথা বলতে দেখা যায়। প্রায় ছয় মিনিটের ওই ভিডিওতে দেশে আরও জঙ্গি হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। খ্রিস্টান, ইহুদি, ক্রুসেডার ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে এই ‘জিহাদ’ বলেও উল্লেখ করে তিন তরুণ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।


সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরিচয়ই সত্যি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হুমকিদাতাদের বিষয়ে এর বেশি তথ্য আপাতত তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ওই তিনজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন মাধ্যমে থাকা ভিডিওটি দেখে হুমকিদাতাদের ব্যাপারে ফেসবুকে নানা তথ্য দিচ্ছেন পরিচিতজনরা। ভিডিওর প্রথম বক্তাকে তাহমিদ রহমান শাফি বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাহমিদ রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ানের প্রথম আসরে অংশ নিয়ে শীর্ষ ১৫ জনের মধ্যে ছিল। কেউ কেউ তার গাওয়া ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’ গানের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। নটর ডেম কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র তাহমিদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে পড়ালেখা শেষে তিনি একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে চাকরি করত। ২০১১ সালে সেই চাকরি ছেড়ে দেয়। তার বাবা শফিউর রহমান ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ২০১৪ সালের আগস্টে তিনি মারা যান। তাহমিদ আইএসে যোগ দিতে একবার তার বাবার কাছে অনুমতিও চেয়েছিল। পরে স্ত্রীকে নিয়ে সিরিয়ার

উদ্দেশ্যে চলে যায়। এর আগে তাহমিদ পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসায় থাকত।

হুমকিদাতা আরেকজন (মুখে চাপ দাড়ি) দন্তচিকিৎসক তুষার। আদমজি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল থেকে এসএসসি ও রাজউক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তুষার। রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে থাকত সে। তার বাবা প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদ। তুষারের সঙ্গে ২০১১ সালে মডেল নায়লা নাইমের বিয়ে হয়। পরে তাদের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর তুষার নিখোঁজ ছিল।

ভিডিওতে মুখঢাকা তৌসিফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক ছাত্র বলে ধারণা অনেকের। পড়ালেখা শেষ না করেই সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ে। জেএমবি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তৌসিফ একবার গ্রেফতারও হয়েছিল। পরে তাকে পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রিয়া পাঠানো হয়। তবে এখন সে সেখানেও নেই বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে এসব পরিচয় জানা গেলেও তাদের স্বজন বা দায়িত্বশীল কারও মাধ্যমে তা শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। -সমকাল

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

আইএসে যোগ দিতে বাবার অনুমতি চেয়েছিল তাহমিদ

আপডেট টাইম : ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ জুলাই ২০১৬

আইএসের ভিডিওতে দেশে আরও জঙ্গি হামলার হুমকি দেওয়া তিন তরুণকে শনাক্ত করেছেন তাদের পরিচিতজনরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুমকিদাতা তরুণদের একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার শফিউর রহমানের ছেলে তাহমিদ রহমান শাফি। সে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিল। তুষার নামের অন্যজন পেশায় দন্তচিকিৎসক ও মডেল নায়লা নাইমের সাবেক স্বামী। অপর তরুণ তৌসিফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক ছাত্র।

গুলশানের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর মঙ্গলবার আইএসের একটি ভিডিও প্রকাশ করে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। এতে তিন তরুণকে বাংলায় কথা বলতে দেখা যায়। প্রায় ছয় মিনিটের ওই ভিডিওতে দেশে আরও জঙ্গি হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। খ্রিস্টান, ইহুদি, ক্রুসেডার ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে এই ‘জিহাদ’ বলেও উল্লেখ করে তিন তরুণ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।


সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরিচয়ই সত্যি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হুমকিদাতাদের বিষয়ে এর বেশি তথ্য আপাতত তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ওই তিনজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন মাধ্যমে থাকা ভিডিওটি দেখে হুমকিদাতাদের ব্যাপারে ফেসবুকে নানা তথ্য দিচ্ছেন পরিচিতজনরা। ভিডিওর প্রথম বক্তাকে তাহমিদ রহমান শাফি বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাহমিদ রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ানের প্রথম আসরে অংশ নিয়ে শীর্ষ ১৫ জনের মধ্যে ছিল। কেউ কেউ তার গাওয়া ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’ গানের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। নটর ডেম কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র তাহমিদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে পড়ালেখা শেষে তিনি একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে চাকরি করত। ২০১১ সালে সেই চাকরি ছেড়ে দেয়। তার বাবা শফিউর রহমান ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ২০১৪ সালের আগস্টে তিনি মারা যান। তাহমিদ আইএসে যোগ দিতে একবার তার বাবার কাছে অনুমতিও চেয়েছিল। পরে স্ত্রীকে নিয়ে সিরিয়ার

উদ্দেশ্যে চলে যায়। এর আগে তাহমিদ পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসায় থাকত।

হুমকিদাতা আরেকজন (মুখে চাপ দাড়ি) দন্তচিকিৎসক তুষার। আদমজি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল থেকে এসএসসি ও রাজউক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তুষার। রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে থাকত সে। তার বাবা প্রয়াত মেজর ওয়াশিকুর আজাদ। তুষারের সঙ্গে ২০১১ সালে মডেল নায়লা নাইমের বিয়ে হয়। পরে তাদের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর তুষার নিখোঁজ ছিল।

ভিডিওতে মুখঢাকা তৌসিফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক ছাত্র বলে ধারণা অনেকের। পড়ালেখা শেষ না করেই সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ে। জেএমবি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তৌসিফ একবার গ্রেফতারও হয়েছিল। পরে তাকে পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রিয়া পাঠানো হয়। তবে এখন সে সেখানেও নেই বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে এসব পরিচয় জানা গেলেও তাদের স্বজন বা দায়িত্বশীল কারও মাধ্যমে তা শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। -সমকাল