ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটি ২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
কী দাবি করা হচ্ছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির সরকার ২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৯ জুলাই ‘Freedom Bangla News’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এ ধরনের একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে
প্রচারিত ফটোকার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকের একটি ছবি ব্যবহার করা হলেও, দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি যাচাই করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মালয়েশিয়া থেকে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর তথ্যটি সত্য। তবে তারা সবাই বাংলাদেশি নন।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস, দ্য এজ মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের জাগো নিউজ- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ১১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী শামছুল আনোয়ার নাসারাহ দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকইয়াতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯ জন বিদেশি নিবন্ধন করেছিলেন, যাদের অধিকাংশকে ইতোমধ্যে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
এটি কি তারেক রহমানের সফরের ফল?
না। অনুসন্ধানে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের কারণে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বরং বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফরে তারেক রহমান দেশটির সরকারের কাছে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে ৭ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পর মালয়েশিয়া ২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে’— এমন দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রকৃতপক্ষে, এটি মালয়েশিয়া সরকারের দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ১১২টি দেশের অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। এই তথ্যকে বিকৃত করে শুধু বাংলাদেশিদের সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটি ২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
কী দাবি করা হচ্ছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির সরকার ২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৯ জুলাই ‘Freedom Bangla News’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এ ধরনের একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে
প্রচারিত ফটোকার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকের একটি ছবি ব্যবহার করা হলেও, দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি যাচাই করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মালয়েশিয়া থেকে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর তথ্যটি সত্য। তবে তারা সবাই বাংলাদেশি নন।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস, দ্য এজ মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের জাগো নিউজ- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ১১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী শামছুল আনোয়ার নাসারাহ দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকইয়াতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯ জন বিদেশি নিবন্ধন করেছিলেন, যাদের অধিকাংশকে ইতোমধ্যে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
এটি কি তারেক রহমানের সফরের ফল?
না। অনুসন্ধানে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের কারণে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বরং বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফরে তারেক রহমান দেশটির সরকারের কাছে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে ৭ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পর মালয়েশিয়া ২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে’— এমন দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রকৃতপক্ষে, এটি মালয়েশিয়া সরকারের দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ১১২টি দেশের অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। এই তথ্যকে বিকৃত করে শুধু বাংলাদেশিদের সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে।