ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাতুলের জাদুকরী গোলে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ নাজনীন হাসান খান নির্মাণ করলেন ‘ভালোবাসার মায়া’ ৪ দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্বাগত জানালেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা রেলওয়ের মহাপরিচালক • রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ নতুন কোচ, চালু হবে নতুন ট্রেন ইভি ‘পিংক’ বাসের জন্য নারী চালকদের ভারী যানবাহন চালনার প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি জয়ের পর ফুল নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর বাসায় মির্জা ফয়সল, খাওয়ালেন মিষ্টি নাবলুসে হজরত ইউসুফের (আ.) সমাধিতে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান দীপের বক্তব্যে ‘গরমিল’, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শিকারে জেলেরা বাড়বে ১৫ হাজার কোটি টাকার ইলিশ

শাপলা বিক্রি করে চলছে শতাধিক পরিবার

জাতীয় ফুল শাপলা এখন জনপ্রিয় সবজিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেই শাপলা এখন মজাদার তরকারি হিসেবে খাচ্ছে। অন্যদিকে শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার শতাধিক পরিবার।

চার থেকে পাঁচ মাস কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় কৃষকের হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই তারা এসময় এলাকার খাল-বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে জীবন চালায়।

Lily

এদিকে বর্ষার এই মৌসুমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় শাপলার যেমন হাট বসছে, তেমনি বাড়ি বাড়ি ফেরি করেও বিক্রি করা হচ্ছে শাপলা।

তেমন কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।

লতব্দী ইউনিয়নের চর নিমতলার বিল থেকে শাপলা সংগ্রহকারী মো. মিজান জানান, একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ মুঠো শাপলা সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে একত্রিত করে।

সিরাজদীখানের রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ তালতলায়, হাসাড়া, ছনবাড়ীর মোড় ও আড়িয়াল বিলের পাশে শাপলার পাইকারি বাজার রয়েছে। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা ক্রয় করে ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন।

ঢাকার পাইকার ছহির মিঞা জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মুঠো ২০ টাকায় ক্রয় করা হয়। গাড়ি ভাড়া গড়ে তিন টাকা, লেবার এক টাকা, আড়ত খরচ দুই টাকাসহ মোট ২৭ থেকে ২৮ টাকা খরচ পড়ে। সেই শাপলার মুঠো যাত্রাবাড়ী আড়তে বিক্রি হয় ৫০/৬০ টাকায়।

সূত্র মতে, বর্ষায় ডুবে যাওয়া ধান, পাট ও ধঞ্চে ক্ষেতে শাপলা বেশি জন্মায়। এছাড়া জেলার খাল-বিলেও শাপলা ফুল ফোটে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় দেশের জাতীয় ফুল শাপলা।

শাপলা সংগ্রহকারীরা ভোরে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা তোলেন।

কয়েকজন শাপলা সংগ্রহকারী জানান, একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ মুঠো (৭০-৮০ পিসে ১ মুঠো) সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা এসব শাপলা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে একত্রে করেন। দিন শেষে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন। বছরে তারা চার মাস এ কাজ করেন।

উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের পাইকার সিরাজ মিয়া জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মুঠো শাপলা ক্রয় করেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মুঠো শাপলা ২০-৩০ টাকায় কেনেন তিনি।

এই বিষয়ে জেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, শাপলা আসলে কোনো কৃষিপণ্যের আওয়াতাভুক্ত নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে কৃষিজমি, পুকুর কিংবা ডোবায় জন্ম নেয়। এই বিষয়ে আমাদের কোনো পরামর্শ দেয়ার সুযোগ হয়ে উঠে না। তবে আমরা চেষ্টা করি কৃষকদের সহায়তা করার। এছাড়া আমরা কৃষকদের শাপলা বেশিদিন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

রাতুলের জাদুকরী গোলে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

শাপলা বিক্রি করে চলছে শতাধিক পরিবার

আপডেট টাইম : ০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অগাস্ট ২০১৬

জাতীয় ফুল শাপলা এখন জনপ্রিয় সবজিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেই শাপলা এখন মজাদার তরকারি হিসেবে খাচ্ছে। অন্যদিকে শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার শতাধিক পরিবার।

চার থেকে পাঁচ মাস কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় কৃষকের হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই তারা এসময় এলাকার খাল-বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে জীবন চালায়।

Lily

এদিকে বর্ষার এই মৌসুমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় শাপলার যেমন হাট বসছে, তেমনি বাড়ি বাড়ি ফেরি করেও বিক্রি করা হচ্ছে শাপলা।

তেমন কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।

লতব্দী ইউনিয়নের চর নিমতলার বিল থেকে শাপলা সংগ্রহকারী মো. মিজান জানান, একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ মুঠো শাপলা সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে একত্রিত করে।

সিরাজদীখানের রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ তালতলায়, হাসাড়া, ছনবাড়ীর মোড় ও আড়িয়াল বিলের পাশে শাপলার পাইকারি বাজার রয়েছে। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা ক্রয় করে ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন।

ঢাকার পাইকার ছহির মিঞা জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মুঠো ২০ টাকায় ক্রয় করা হয়। গাড়ি ভাড়া গড়ে তিন টাকা, লেবার এক টাকা, আড়ত খরচ দুই টাকাসহ মোট ২৭ থেকে ২৮ টাকা খরচ পড়ে। সেই শাপলার মুঠো যাত্রাবাড়ী আড়তে বিক্রি হয় ৫০/৬০ টাকায়।

সূত্র মতে, বর্ষায় ডুবে যাওয়া ধান, পাট ও ধঞ্চে ক্ষেতে শাপলা বেশি জন্মায়। এছাড়া জেলার খাল-বিলেও শাপলা ফুল ফোটে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় দেশের জাতীয় ফুল শাপলা।

শাপলা সংগ্রহকারীরা ভোরে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা তোলেন।

কয়েকজন শাপলা সংগ্রহকারী জানান, একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ মুঠো (৭০-৮০ পিসে ১ মুঠো) সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা এসব শাপলা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে একত্রে করেন। দিন শেষে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন। বছরে তারা চার মাস এ কাজ করেন।

উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের পাইকার সিরাজ মিয়া জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মুঠো শাপলা ক্রয় করেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মুঠো শাপলা ২০-৩০ টাকায় কেনেন তিনি।

এই বিষয়ে জেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, শাপলা আসলে কোনো কৃষিপণ্যের আওয়াতাভুক্ত নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে কৃষিজমি, পুকুর কিংবা ডোবায় জন্ম নেয়। এই বিষয়ে আমাদের কোনো পরামর্শ দেয়ার সুযোগ হয়ে উঠে না। তবে আমরা চেষ্টা করি কৃষকদের সহায়তা করার। এছাড়া আমরা কৃষকদের শাপলা বেশিদিন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।