ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় হাওর নীতির পক্ষে জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে দেশটির পরিবেশ

বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিশাল এলাকাজুড়ে যে হাওর বা জলাভূমি রয়েছে তার মধ্যে অনেকগুলো শুকিয়ে চাষের জমিতে পরিণত হওয়ায় মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দেশটির পরিবেশবিদরা ।
তাদের অভিযোগ, সরকারের দেওয়া ইজারার সুযোগে জলমহালগুলোর নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে এবং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবিরা ।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের গতবছরের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে সাতটি জেলায় ৪১৪টি হাওর রয়েছে যার মধ্যে অধিকাংশ হওরই এখন শুকিয়ে গেছে নানান প্রাকৃতিক কারনে আরার ঐ শুকনো হাওরে ধান চাষ করলে তাও আবার প্রতি এক বছর পর পর আকস্মিক বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে যায় ।

ফলে এসব হাওর এলাকা জুড়েই মানুষের মধ্যে এখন চলছে চরম হতাশা তারা হয়ে পড়ছে ঋনগ্রস্থ বিশেষ করে দাদন ব্যাবসায়ীদের কারনে।

নেত্রকোনার ছায়ার হাওর এলাকার অধিবাসী এবং পরিবেশবিদ মোস্তফা জব্বার বলছেন,“ এটা বহুবছর ধরে চলে আসছে অবাক করার বিষয় হচ্ছে যখন ধানের দাম থাকে প্রতি মন ২০০ টাকা, তখন অভাবের কারনে কৃষক তার ধান অগ্রিম বিক্রি করে দেয় মাত্র ৫০ টাকা মন দরে ফলে বৈশাখ মাসে যখন তার ঘরে ধান আসে তখন সে ৫০ টাকা দরে মহাজনদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়“

“এ সমস্যা হাওর এলাকার প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি পরিবারেই আছে ফলে জৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে তাদের ঘরে আর কোন ধান থাকেনা কারন মহাজনের দেনা শোধ করতেই তার সব ধান শেষ হয়ে যায়, এটা একটি ভয়াবহ সমস্যা“

মোস্তফা জব্বার বলেন হাওর এলাকার মানুষ এখন আর সেখানকার মাছ ধরে খেতে পারেনা কারণ সব জলাভূমিই এখন ইজারাদারদের দখলে এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে তাদের ঝলাভূমিতে গোসল পরযন্ত করদত দেয়না ।

অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলছেন দেশে হাওর ইজারা দেবার কোন নিয়ম নেই এটা প্রভাবশালীরা করছে তাদের প্রভাব খাটিয়ে এসব প্রভাবশালীদের হাত থেকে সাধারন মানুষকে বাঁচাতে তিনি অবিলম্বে জাতীয় হাওর নীতি প্রনয়নের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ইনামুল হক বলেন,“ আমাদের পানি নীতি আছে এবং সেখানে হওরের উপর কিছু নীতি রয়েছে তবে সেটা যথেস্ট নয় হাওরগুলি বাঁচানোর জন্য সত্যিই একটা হওর নীতি হওয়া উচিত“ ।

তিনি বলেন যে সরকার হাওর এলাকার উন্নয়নের জন্য একটি বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেটা এখন পরিকল্পনা কমিশনের বিচেনাধীন রয়েছে তিনি বলেন হাওর এলাকাগুলিতে সুষ্ঠূ বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

জাতীয় হাওর নীতির পক্ষে জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে দেশটির পরিবেশ

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিশাল এলাকাজুড়ে যে হাওর বা জলাভূমি রয়েছে তার মধ্যে অনেকগুলো শুকিয়ে চাষের জমিতে পরিণত হওয়ায় মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দেশটির পরিবেশবিদরা ।
তাদের অভিযোগ, সরকারের দেওয়া ইজারার সুযোগে জলমহালগুলোর নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে এবং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবিরা ।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের গতবছরের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে সাতটি জেলায় ৪১৪টি হাওর রয়েছে যার মধ্যে অধিকাংশ হওরই এখন শুকিয়ে গেছে নানান প্রাকৃতিক কারনে আরার ঐ শুকনো হাওরে ধান চাষ করলে তাও আবার প্রতি এক বছর পর পর আকস্মিক বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে যায় ।

ফলে এসব হাওর এলাকা জুড়েই মানুষের মধ্যে এখন চলছে চরম হতাশা তারা হয়ে পড়ছে ঋনগ্রস্থ বিশেষ করে দাদন ব্যাবসায়ীদের কারনে।

নেত্রকোনার ছায়ার হাওর এলাকার অধিবাসী এবং পরিবেশবিদ মোস্তফা জব্বার বলছেন,“ এটা বহুবছর ধরে চলে আসছে অবাক করার বিষয় হচ্ছে যখন ধানের দাম থাকে প্রতি মন ২০০ টাকা, তখন অভাবের কারনে কৃষক তার ধান অগ্রিম বিক্রি করে দেয় মাত্র ৫০ টাকা মন দরে ফলে বৈশাখ মাসে যখন তার ঘরে ধান আসে তখন সে ৫০ টাকা দরে মহাজনদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়“

“এ সমস্যা হাওর এলাকার প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি পরিবারেই আছে ফলে জৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে তাদের ঘরে আর কোন ধান থাকেনা কারন মহাজনের দেনা শোধ করতেই তার সব ধান শেষ হয়ে যায়, এটা একটি ভয়াবহ সমস্যা“

মোস্তফা জব্বার বলেন হাওর এলাকার মানুষ এখন আর সেখানকার মাছ ধরে খেতে পারেনা কারণ সব জলাভূমিই এখন ইজারাদারদের দখলে এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে তাদের ঝলাভূমিতে গোসল পরযন্ত করদত দেয়না ।

অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলছেন দেশে হাওর ইজারা দেবার কোন নিয়ম নেই এটা প্রভাবশালীরা করছে তাদের প্রভাব খাটিয়ে এসব প্রভাবশালীদের হাত থেকে সাধারন মানুষকে বাঁচাতে তিনি অবিলম্বে জাতীয় হাওর নীতি প্রনয়নের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ইনামুল হক বলেন,“ আমাদের পানি নীতি আছে এবং সেখানে হওরের উপর কিছু নীতি রয়েছে তবে সেটা যথেস্ট নয় হাওরগুলি বাঁচানোর জন্য সত্যিই একটা হওর নীতি হওয়া উচিত“ ।

তিনি বলেন যে সরকার হাওর এলাকার উন্নয়নের জন্য একটি বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেটা এখন পরিকল্পনা কমিশনের বিচেনাধীন রয়েছে তিনি বলেন হাওর এলাকাগুলিতে সুষ্ঠূ বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে ।