ভোটের মাঠে তারকাদের কথা

দেশজুড়ে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শোবিজের এক ডজন তারকাশিল্পী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে মাঠে থাকছেন মাত্র পাঁচজন। এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান নূর, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও ফোকগানের শিল্পী মমতাজ বেগম। নৌকার মাঝি হয়ে নিজ এলাকার ভোটে মাঠে থাকবেন তারা। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) হয়ে নোঙর প্রতীকে মাঠে থাকছেন কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী।

প্রতীক বরাদ্দের পর গতকাল সোমবার থেকে প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। নীলফামারী-২ আসনে আসাদুজ্জামান নূর, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মমতাজ বেগম ও ঢাকা-১০ আসনে ফেরদৌস প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত তারা। পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসনে কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী আর রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসন চষে বেড়াচ্ছেন মাহিয়া মাহি।

নীলফামারী-২ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য বরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামন নূর। এবারও তিনি নিজ এলাকা থেকে নির্বচন করছেন। বরেণ্য এই অভিনেতার কথায়, ‘আমি অভিনয়ের মানুষ, খুব সাধারণ একজন। নিজ এলাকার মানুষজনদের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেক ভালো। অভিনয়ে পা রাখার পর এই উপলব্ধিতা অনেক বেশি হয়েছে। তখন থেকে দুঃখে সুখে এলাকার মানুষজনদের পাশে থেকেছি। তাদের আগ্রহেই রাজনীতিতে ও নির্বাচনে এসেছি। এবারও এলাকার জনগণের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া। আমার এলাকার জনগণ আমার প্রধান শক্তি, তারাই আমার ভালোবাসা। আশা করি, এবারও আমি বিপুল ভোটে জয় লাভ করব।’

চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদও প্রতীক পাওয়ার পর থেকে মাঠে ব্যস্ত। ‘ঢাকা ১০ হবে ১০-১০’ এমন স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফেরদৌস বলেন, ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আমার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতিদিনই খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে একটুও কষ্ট লাগছে না। দেশের মানুষ যে আমাকে এত ভালোবাসে, তা আমার জানা ছিল না। নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর খুব কাছ থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করছি। আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের কথা শুনছি, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজছি। এই ক’দিনে যতটুকু বুঝেছি, আমাকে পেয়ে তারাও অনেক খুশি। আমি তাদের এই আনন্দটুকু ধরে রাখতে চাই। আশা করি, জনগণই আমাকে বিপুল ভোটের জয় এনে দেবে।’

মানিকগঞ্জ-২ আসন হবে দেশের স্মার্ট একটি এলাকা- এমনটাই চাওয়া ফোকগানের শিল্পী মমতাজের। তার ভাষ্য, ‘আমার মানিকগঞ্জ-২ আসনের জনগণ আমাকে কতটুকু ভালোবাসে তা এখানে না এলে কেউ বুঝবে না। তাদের ভালোবাসার কারণেই কিন্তু আমি এই এলাকার এমপি হতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও আমাকে তাদের সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি আমার এলাকায় যেসব উন্নয়ন করেছি, তা এখানকার মানুষের ভাগ্য বদল করে দিয়েছে। এবার নির্বাচনেও কিন্তু তাদের জন্যই মাঠে নেমেছি। একটা কথাই বলতে চাই, আমি সবার সঙ্গে ছিলাম, আছি ও আগামীতেও থাকব। এলাকার মানুষজন আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে ৭ জানুয়ারি জয়যুক্ত করবে।’

এদিকে রাজশাহী-১ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন মাহিয়া মাহি। তার সকল ব্যস্ততা এখন রাজপথেই। মাহির কথায়, ‘টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমি আমার নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। নিজ এলাকায় ট্রাক নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছি। ট্রাকই এখানকার জনগণের আস্থা। এ ক’দিনে সেটাই আমি বেশ ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস, সবাই আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আর নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমার নির্বাচনী প্রস্তুতিও বেশ ভালো।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) হয়ে মাঠে আছেন কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পাওয়ার পর বেশ জোরেশোরেই চলছে তার প্রচার-প্রচারণা। এর মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার হুমকিও পেয়েছেন তিনি। তবুও মাঠ ছাড়েননি এই কণ্ঠশিল্পী। ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য নির্বাচন করছি না। কোনো হুমকি ধামকি দিয়ে লাভ নেই। আমি ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। আর জনগণের ভোটে জয়ী হয়েই ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ।’

এছাড়াও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে ‘ডাব’ প্রতীকে মাঠে থাকছেন হিরো আলম। গতকাল সোমবার প্রতীক পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। তবে আজ মঙ্গলবার হিরো আলম যাবেন নিজ এলাকায়। আর আজ থেকেই শুরু হবে তার নির্বাচনী প্রচারণা- এমনটাই জানালেন হিরো আলম।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর