ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : ভূমিমন্ত্রী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় মেসি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার জাতীয় পতাকা বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালো বাংলাদেশ ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুশল বিনিময়

সরকারের বিদায়ের পরিকল্পনা ঘোষণার এখনই উপযুক্ত সময়

কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার কথা শোনা গেলেও নির্বাচন নিয়ে যেন ধোঁয়াশা কাটছেই না। এর নেপথ্যে রয়েছে কতিপয় রাজনৈতিক দলের দাবি-দাওয়ার আধিক্য এবং বিতর্কিত কর্মকান্ড। বিশেষত যে ছাত্রদের নেতৃত্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সে সব মেধাবী ও সাহসী শিক্ষার্থীদের একটি রাজনৈতিক দল গঠনে উদ্বুদ্ধ করা এবং সেই দলের প্রতি সরকারের পক্ষপাতের কারণে অনেকে এনসিপিকে কিংস পার্টি বলে অভিহিত করছেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রক্রিয়ার সাথে ‘কিংস পার্টি’ কোনো ইতিবাচক বিষয় নয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। নেতৃত্বের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আগেই তারা এখন নানা রকম বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে। চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মব জাস্টিসের মতো বিষয়গুলোর সাথে তাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া সাহসী তরুণদের এমন বিতর্কিত ও ভাবমর্যাদার জন্য হানিকর অবস্থা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরো জটিল করে তুলেছে। এহেন বাস্তবতায় সর্বসম্মত উপায়ে জরুরি সংস্কার প্রস্তাব, পতিত স্বৈরাচারের বিচার এবং জুলাই সনদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের তারিখ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। গতকাল রাজধানীতে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন। সেমিনারের আয়োজক সংস্থা ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশ্বের ২৬টি দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি গবেষণা ফলাফল তুলে ধরে বলেন, এর মধ্যে ১৬টি দেশই খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। অনুষ্ঠানের বক্তা সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের এক্সিট প্ল্যান বা বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে, এর কম বা বেশি নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের এসব সংস্কারের কতটা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বৈধতা দেবে তা এখনই চিন্তা করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপর নানামুখী চাপ, বিতর্ক ও ব্যর্থতার কারণে সমাজে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মতো বৃহত্তম দলকে পাশ কাটিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারের পক্ষপাত এবং তাদের নানা রকম দাবি-দাওয়ার সাথে জামায়াতে ইসলামের সমর্থন ও গোপন সমঝোতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জামায়াত এবং এনসিপির বাড়াবাড়ি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অপতৎপরতা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান এবং কুশীলবরা রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সংস্থাকে অকার্যকর করে পালিয়েছে। ষোল বছরের শাসনামলে তারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে যা কিছু করেছে তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে অন্তর্বর্তী সরকার তার সক্ষমতা ও সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এক বছরে পতিত স্বৈরাচারের বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। জাতীয় ঐক্যমত ও জুলাই সনদ নিয়ে এখনো মতপার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ ও বিশ্বমানের নির্বাচন হিসেবে স্মরণীয় করে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সফল করতে হলে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ধাপ, বিচার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের আনুষাঙ্গিক কর্মকান্ড এখনই শুরু করতে হবে। সর্বাগ্রে প্রয়োজন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা।

জাতির ঘাড়ের উপর দেড় দশক ধরে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী রিজিমের পতন ঘটানো গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অসম্ভব ছিল। ফ্যাসিবাদী রিজিম নিজেই সে পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে জাতিকে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর নেতৃত্ব দিলেও বিএনপিসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব রাজনৈতিক দল এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল বলেই তা সফল হয়েছিল। এ কারণে পতিত ফ্যাসিস্ট রিজিমের সুবিধাভোগী ও দোসরদের বাইরে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করলে অনেক বিতর্ক এড়িয়ে চলা সম্ভব। বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর অক্ষমতা ও ব্যর্থতা ধরা পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। গত এক বছরে এ ক্ষেত্রে সরকারের অর্জন খুবই কম। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকারের উপর অনভিজ্ঞ নতুন দল এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাব এবং তিনবারের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে এক ধরনের দূরত্ব ও অস্বচ্ছতার কারণে সরকারের জনপ্রিয়তার পারদ নি¤œগামী। অমীমাংসিত জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও যথাযথ কর্মতৎপরতা এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড গঠনের উদ্যোগ দৃশ্যমান হলে পরিস্থিতি আমূল পাল্টে যাবে বলে আশা করা যায়। সকলকে মনে রাখতে হবে, প্রবল ফ্যাসিস্ট রিজিমের পতনের পর তাদের গণহত্যা গুম-খুন, লাখ লাখ কোটি টাকা পাচারের বিচার প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় রাজনৈতিক বিভেদ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। সারাদেশে চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাসসহ দলীয় কোন্দল ও হানাহানি জনমনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতি সরকারের নির্বাচন পেছানোর কৌশল কিনা, এমন সন্দেহ করছে কেউ কেউ। এসব সন্দেহ ও আশঙ্কা দূর করে পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে অবাধ সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পতিত স্বৈরাচারের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হবে। দেশবাসী আশা করে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ভালোয় ভালোয় তার সরকারের বিদায়ের পথ প্রশস্ত ও নিশ্চিত করবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন

সরকারের বিদায়ের পরিকল্পনা ঘোষণার এখনই উপযুক্ত সময়

আপডেট টাইম : ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার কথা শোনা গেলেও নির্বাচন নিয়ে যেন ধোঁয়াশা কাটছেই না। এর নেপথ্যে রয়েছে কতিপয় রাজনৈতিক দলের দাবি-দাওয়ার আধিক্য এবং বিতর্কিত কর্মকান্ড। বিশেষত যে ছাত্রদের নেতৃত্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সে সব মেধাবী ও সাহসী শিক্ষার্থীদের একটি রাজনৈতিক দল গঠনে উদ্বুদ্ধ করা এবং সেই দলের প্রতি সরকারের পক্ষপাতের কারণে অনেকে এনসিপিকে কিংস পার্টি বলে অভিহিত করছেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রক্রিয়ার সাথে ‘কিংস পার্টি’ কোনো ইতিবাচক বিষয় নয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। নেতৃত্বের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আগেই তারা এখন নানা রকম বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে। চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মব জাস্টিসের মতো বিষয়গুলোর সাথে তাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া সাহসী তরুণদের এমন বিতর্কিত ও ভাবমর্যাদার জন্য হানিকর অবস্থা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরো জটিল করে তুলেছে। এহেন বাস্তবতায় সর্বসম্মত উপায়ে জরুরি সংস্কার প্রস্তাব, পতিত স্বৈরাচারের বিচার এবং জুলাই সনদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের তারিখ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। গতকাল রাজধানীতে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন। সেমিনারের আয়োজক সংস্থা ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশ্বের ২৬টি দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি গবেষণা ফলাফল তুলে ধরে বলেন, এর মধ্যে ১৬টি দেশই খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। অনুষ্ঠানের বক্তা সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের এক্সিট প্ল্যান বা বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে, এর কম বা বেশি নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের এসব সংস্কারের কতটা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বৈধতা দেবে তা এখনই চিন্তা করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপর নানামুখী চাপ, বিতর্ক ও ব্যর্থতার কারণে সমাজে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মতো বৃহত্তম দলকে পাশ কাটিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারের পক্ষপাত এবং তাদের নানা রকম দাবি-দাওয়ার সাথে জামায়াতে ইসলামের সমর্থন ও গোপন সমঝোতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জামায়াত এবং এনসিপির বাড়াবাড়ি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অপতৎপরতা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান এবং কুশীলবরা রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সংস্থাকে অকার্যকর করে পালিয়েছে। ষোল বছরের শাসনামলে তারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে যা কিছু করেছে তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে অন্তর্বর্তী সরকার তার সক্ষমতা ও সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এক বছরে পতিত স্বৈরাচারের বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। জাতীয় ঐক্যমত ও জুলাই সনদ নিয়ে এখনো মতপার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ ও বিশ্বমানের নির্বাচন হিসেবে স্মরণীয় করে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সফল করতে হলে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ধাপ, বিচার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের আনুষাঙ্গিক কর্মকান্ড এখনই শুরু করতে হবে। সর্বাগ্রে প্রয়োজন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা।

জাতির ঘাড়ের উপর দেড় দশক ধরে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী রিজিমের পতন ঘটানো গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অসম্ভব ছিল। ফ্যাসিবাদী রিজিম নিজেই সে পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে জাতিকে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর নেতৃত্ব দিলেও বিএনপিসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব রাজনৈতিক দল এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল বলেই তা সফল হয়েছিল। এ কারণে পতিত ফ্যাসিস্ট রিজিমের সুবিধাভোগী ও দোসরদের বাইরে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করলে অনেক বিতর্ক এড়িয়ে চলা সম্ভব। বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর অক্ষমতা ও ব্যর্থতা ধরা পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। গত এক বছরে এ ক্ষেত্রে সরকারের অর্জন খুবই কম। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকারের উপর অনভিজ্ঞ নতুন দল এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাব এবং তিনবারের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে এক ধরনের দূরত্ব ও অস্বচ্ছতার কারণে সরকারের জনপ্রিয়তার পারদ নি¤œগামী। অমীমাংসিত জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও যথাযথ কর্মতৎপরতা এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড গঠনের উদ্যোগ দৃশ্যমান হলে পরিস্থিতি আমূল পাল্টে যাবে বলে আশা করা যায়। সকলকে মনে রাখতে হবে, প্রবল ফ্যাসিস্ট রিজিমের পতনের পর তাদের গণহত্যা গুম-খুন, লাখ লাখ কোটি টাকা পাচারের বিচার প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় রাজনৈতিক বিভেদ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। সারাদেশে চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাসসহ দলীয় কোন্দল ও হানাহানি জনমনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতি সরকারের নির্বাচন পেছানোর কৌশল কিনা, এমন সন্দেহ করছে কেউ কেউ। এসব সন্দেহ ও আশঙ্কা দূর করে পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে অবাধ সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পতিত স্বৈরাচারের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হবে। দেশবাসী আশা করে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ভালোয় ভালোয় তার সরকারের বিদায়ের পথ প্রশস্ত ও নিশ্চিত করবেন।