ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বাজেটে ভ্যাট প্রসঙ্গ

সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় না রেখে এবারের বাজেট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী! পুরো ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকছেই। গণমানুষের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে এই বাজেটে। যারা বেআইনিভাবে টাকা উপার্জন করল, যারা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গেল, যারা এখনও করের আওতায় নেই বা যারা অনেক কম ট্যাক্স দেয়, তাদেরকে ধরার ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ বা উদ্ভাবনী কৌশল আমরা দেখলাম না। অনেকেই ভেবেছিলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী এমন একটা বাজেট দেবেন, যাতে জনগণের ওপর করের চাপ কম থাকে। বাজেট পেশের কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর ব্যবসায়ীদের একটা বড় দাবি ছিল, ভ্যাটের হার ও করপোরেট করহার কমানো। অর্থমন্ত্রী এ দুটি ক্ষেত্রে করহার কমবে বলেছিলেন। কিন্তু জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০১৭-১৮) যে বাজেট পেশ করলেন, তাতে সে কথা রাখা হয়নি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট পেশ করলেন, তাতে তিনি ব্যয় করতে চান ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আয় করতে চান ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার ঘাটতি তিনি ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে মেটাতে চান। এ বাজেটকে অবাস্তব ও অবাস্তবায়নযোগ্য বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে সাক্ষাত্কারে বলেছেন, এনবিআরের পক্ষে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়। এত বড় অঙ্ক ব্যয়ের সামর্থ্যও সরকারের নেই। অবশ্য অর্থমন্ত্রী নিজেও এ বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বললেও বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন এ বাজেটকে ‘মিশ্র ঝুড়ি’র বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি একটি জাতীয় দৈনিককে সাক্ষাত্কারে বলেন, আগের মতোই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা এবারও রয়েছে। রাজস্ব আয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। রাজস্ব আয়ে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশ। বিদেশি ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন করতে হলে পাইপলাইনে থাকা অর্থ ব্যবহারের হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে এ হার ১৫ শতাংশের মতো। শুধু সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনও প্রশ্নসাপেক্ষ মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশ বেশি। নতুন বাজেটে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। আগের বাজেটে যা ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আগের বাজেটে এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আসবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। শুধু এনবিআরের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এনবিআর-বহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। কর ছাড়া আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। আয় ও মুনাফার ওপর কর থেকে আসবে ৮৬ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। ভ্যাট থেকে আয় আসবে ৯১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা, যা আগের বাজেটের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রফতানি শুল্ক থেকে ৩০ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক থেকে আসবে ৩৮ হাজার ২১২ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করতে গিয়ে মুহিত বলেন, যুগোপযোগী করনীতি, দক্ষ কর ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীসহ সকল স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে এনবিআর এ রাজস্ব আদায় করতে পারবে। তিনি দাবি করেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর ফল পাচ্ছি না। এই উচ্চাভিলাষী বাজেট কি মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে নিজেদের পকেট ভর্তি করার বাজেট বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভর্তি করতে সরকার জনগণের ওপর বাজেট চাপিয়ে দিয়েছে। বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের বাজেট দেওয়ার অধিকার নেই। তাদের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সংসদে কোনো বিরোধী দল নেই। সংসদেও তাদের জবাবদিহিতা নেই।’ এদিকে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদসহ ভ্যাট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সর্বক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের পদক্ষেপ বাংলাদেশের বাস্তবতায় একেবারেই অবাস্তব। এই হার কার্যকর হলে পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে। এতে করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেবেন। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত এসে পড়বে সাধারণ ভোক্তা বা জনগণের ওপর। তারা আরও বলেন, ভ্যাট ভোক্তারা দেন। এই কর জনগণের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। আগামী বছরের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তা নির্বাচনের আগে তার পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আগামী বছর যে বাজেট প্রস্তাব করবেন, তা এই সরকার বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে না। তাই এ বাজেট কিছুটা রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে বলে মনে হয়। আকারে ঊর্ধ্বগতি আছে। ব্যয় বৃদ্ধির দিক থেকে অনেক বড় বাজেট। ব্যয় বৃদ্ধিকে খারাপ মনে করি না। নির্বাচন সামনে রেখে বাজেট বিধায় স্থানীয় সরকার পর্যায়ে উন্নয়ন বাজেট, বিশেষত এলজিইডির মাধ্যমে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে তার আকার অনেক বাড়বে। তবে তাতে গুণগত মান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ হবে বলে আশা করেছেন। প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন, এ লক্ষ্যমাত্রা রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে। এটা বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত। এখন বিদায়ী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যদি সত্যি সত্যি অর্জিত হয়, সেক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা বেশি নয়। এডিপি বাস্তবায়ন হলে, বেসরকারি পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকলে এবং রফতানিতে যে শ্লথগতি আছে তা দূর করা গেলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৫ শতাংশে সীমিত রাখার প্রস্তাব করেছেন। এটা অর্জন করতে পারলে খুবই ভালো হবে। যদিও চালসহ অন্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমান মূল্যস্ফীতি অনেকটা চড়া। এটাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অনেক বাধা আছে। শেষ পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে গিয়ে সরকার ছোট ছোট কিছু খাত থেকে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে একটা বড় ভুল পদক্ষেপ আছে। তা হল ব্যাংকের সঞ্চয়ের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি। এটা খুবই খারাপ হয়েছে। এটা মানুষকে বৈধ পন্থায় সঞ্চয় ও লেনদেনে নিরুত্সাহিত করবে। অবৈধ পথে লেনদেন বাড়বে, যা সরকারই নিরুত্সাহিত করে। কো-অপারেটিভসহ ডেসটিনি, যুবকের মতো ভুঁইফোড় কোম্পানির দিকে ঝুঁকে পড়বে মানুষ। অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নেবে। অবৈধ অর্থনীতির আকার বড় হবে। যাকে আমরা মাটির নিচের অর্থনীতি বলি। বাজেটের বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এজন্য সরকারকে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়াতে আরও মনোযোগী হতে হবে। এজন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্যবিমোচনে সরকারকে বর্তমানের তুলনায় অনেকগুণ ব্যয় বরাদ্দ রাখতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষায় জিডিপির আকারের ৬-৭ শতাংশ ব্যয় করার প্রয়োজন থাকলেও সরকার করছে মাত্র ২ শতাংশ। যেটা অনেক কম ও নিতান্তই স্বল্প। লেখক : ব্যবসায়ী
abdullahalmehedi@ymail.com

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বাজেটে ভ্যাট প্রসঙ্গ

আপডেট টাইম : ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০১৭

সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় না রেখে এবারের বাজেট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী! পুরো ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকছেই। গণমানুষের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে এই বাজেটে। যারা বেআইনিভাবে টাকা উপার্জন করল, যারা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গেল, যারা এখনও করের আওতায় নেই বা যারা অনেক কম ট্যাক্স দেয়, তাদেরকে ধরার ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ বা উদ্ভাবনী কৌশল আমরা দেখলাম না। অনেকেই ভেবেছিলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী এমন একটা বাজেট দেবেন, যাতে জনগণের ওপর করের চাপ কম থাকে। বাজেট পেশের কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর ব্যবসায়ীদের একটা বড় দাবি ছিল, ভ্যাটের হার ও করপোরেট করহার কমানো। অর্থমন্ত্রী এ দুটি ক্ষেত্রে করহার কমবে বলেছিলেন। কিন্তু জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০১৭-১৮) যে বাজেট পেশ করলেন, তাতে সে কথা রাখা হয়নি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট পেশ করলেন, তাতে তিনি ব্যয় করতে চান ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আয় করতে চান ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার ঘাটতি তিনি ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে মেটাতে চান। এ বাজেটকে অবাস্তব ও অবাস্তবায়নযোগ্য বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে সাক্ষাত্কারে বলেছেন, এনবিআরের পক্ষে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়। এত বড় অঙ্ক ব্যয়ের সামর্থ্যও সরকারের নেই। অবশ্য অর্থমন্ত্রী নিজেও এ বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বললেও বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন এ বাজেটকে ‘মিশ্র ঝুড়ি’র বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি একটি জাতীয় দৈনিককে সাক্ষাত্কারে বলেন, আগের মতোই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা এবারও রয়েছে। রাজস্ব আয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। রাজস্ব আয়ে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশ। বিদেশি ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন করতে হলে পাইপলাইনে থাকা অর্থ ব্যবহারের হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে এ হার ১৫ শতাংশের মতো। শুধু সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনও প্রশ্নসাপেক্ষ মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশ বেশি। নতুন বাজেটে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। আগের বাজেটে যা ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আগের বাজেটে এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আসবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। শুধু এনবিআরের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এনবিআর-বহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। কর ছাড়া আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। আয় ও মুনাফার ওপর কর থেকে আসবে ৮৬ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। ভ্যাট থেকে আয় আসবে ৯১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা, যা আগের বাজেটের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রফতানি শুল্ক থেকে ৩০ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক থেকে আসবে ৩৮ হাজার ২১২ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করতে গিয়ে মুহিত বলেন, যুগোপযোগী করনীতি, দক্ষ কর ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীসহ সকল স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে এনবিআর এ রাজস্ব আদায় করতে পারবে। তিনি দাবি করেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর ফল পাচ্ছি না। এই উচ্চাভিলাষী বাজেট কি মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে নিজেদের পকেট ভর্তি করার বাজেট বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভর্তি করতে সরকার জনগণের ওপর বাজেট চাপিয়ে দিয়েছে। বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের বাজেট দেওয়ার অধিকার নেই। তাদের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সংসদে কোনো বিরোধী দল নেই। সংসদেও তাদের জবাবদিহিতা নেই।’ এদিকে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদসহ ভ্যাট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সর্বক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের পদক্ষেপ বাংলাদেশের বাস্তবতায় একেবারেই অবাস্তব। এই হার কার্যকর হলে পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে। এতে করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেবেন। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত এসে পড়বে সাধারণ ভোক্তা বা জনগণের ওপর। তারা আরও বলেন, ভ্যাট ভোক্তারা দেন। এই কর জনগণের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। আগামী বছরের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তা নির্বাচনের আগে তার পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আগামী বছর যে বাজেট প্রস্তাব করবেন, তা এই সরকার বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে না। তাই এ বাজেট কিছুটা রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে বলে মনে হয়। আকারে ঊর্ধ্বগতি আছে। ব্যয় বৃদ্ধির দিক থেকে অনেক বড় বাজেট। ব্যয় বৃদ্ধিকে খারাপ মনে করি না। নির্বাচন সামনে রেখে বাজেট বিধায় স্থানীয় সরকার পর্যায়ে উন্নয়ন বাজেট, বিশেষত এলজিইডির মাধ্যমে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে তার আকার অনেক বাড়বে। তবে তাতে গুণগত মান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ হবে বলে আশা করেছেন। প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন, এ লক্ষ্যমাত্রা রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে। এটা বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত। এখন বিদায়ী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যদি সত্যি সত্যি অর্জিত হয়, সেক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা বেশি নয়। এডিপি বাস্তবায়ন হলে, বেসরকারি পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকলে এবং রফতানিতে যে শ্লথগতি আছে তা দূর করা গেলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৫ শতাংশে সীমিত রাখার প্রস্তাব করেছেন। এটা অর্জন করতে পারলে খুবই ভালো হবে। যদিও চালসহ অন্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমান মূল্যস্ফীতি অনেকটা চড়া। এটাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অনেক বাধা আছে। শেষ পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে গিয়ে সরকার ছোট ছোট কিছু খাত থেকে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে একটা বড় ভুল পদক্ষেপ আছে। তা হল ব্যাংকের সঞ্চয়ের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি। এটা খুবই খারাপ হয়েছে। এটা মানুষকে বৈধ পন্থায় সঞ্চয় ও লেনদেনে নিরুত্সাহিত করবে। অবৈধ পথে লেনদেন বাড়বে, যা সরকারই নিরুত্সাহিত করে। কো-অপারেটিভসহ ডেসটিনি, যুবকের মতো ভুঁইফোড় কোম্পানির দিকে ঝুঁকে পড়বে মানুষ। অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নেবে। অবৈধ অর্থনীতির আকার বড় হবে। যাকে আমরা মাটির নিচের অর্থনীতি বলি। বাজেটের বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এজন্য সরকারকে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়াতে আরও মনোযোগী হতে হবে। এজন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্যবিমোচনে সরকারকে বর্তমানের তুলনায় অনেকগুণ ব্যয় বরাদ্দ রাখতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষায় জিডিপির আকারের ৬-৭ শতাংশ ব্যয় করার প্রয়োজন থাকলেও সরকার করছে মাত্র ২ শতাংশ। যেটা অনেক কম ও নিতান্তই স্বল্প। লেখক : ব্যবসায়ী
abdullahalmehedi@ymail.com