ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে চীন

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ  ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে চীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতাকে বেইজিং ভালো চোখে দেখছে না এবং তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ বিরোধের ক্ষেত্রে চীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ভারতীয় বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে দাবি করছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট।

অতীতেও চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ ঘটেছে তবে বর্তমানে চলমান বিরোধ দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা।

চীন-ভারত অভিন্ন সীমান্তে মোতায়েন উভয় পক্ষের সেনারা সাধারণত অস্ত্র বহন করেন না। সম্ভাব্য উত্তেজনা যেন সহিংস রূপ না নিতে পারে তারই সতর্কতা হিসেবে এমনটি করা হয়। তা সত্ত্বেও সিকিম সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে ঘটেছে ‘ধাক্কাধাক্কি’।  এতে জড়িয়ে ধরে পেশি শক্তির প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে হটিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টাকে ‘ধাক্কাধাক্কি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসের শেষ দিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে ধরছেন তখন চীন-ভারত সীমান্তে ‘ধাক্কাধাক্কি’র ঘটনা ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভারতের ঝুঁকে পড়াকে চীন ভালোভাবে গ্রহণ করেনি সেটা প্রকাশ করার জন্য সীমান্ত সংকটের সৃষ্টি হয়েছে- ভারতীয় বিশ্লেষকরা এমন দাবি করেছেন।

এ বক্তব্য দিয়েছেন গেটওয়ে হাউস নামে ভারতভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সামির পাতিল।তিনি বলেন, মার্কিন-ভারত সম্পর্ক নিয়ে পরিষ্কার অসন্তোষ প্রকাশ করছে চীন।

দোকালাম এলাকায় রাস্তা বানানোর জন্য চীনা ট্রাক এবং সেনা ঢোকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের সূচনা হয়। সিকিম-চীন সীমান্তের এ অঞ্চলকে ভুটানের ভূখণ্ড মনে করে ভারত ও ভুটান। এখানে ত্রিদেশীয় সঠিক সীমান্ত রেখা নিয়ে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে ভারতের। ভারত এবং ভুটান একে ভুটানের এলাকা হিসেবে দাবি করলেও চীন একে নিজ ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করছে।

এক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকাকে ব্রিটেনের সঙ্গে ১৮৯০ সালের চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে মনে করছে চীন। এ চুক্তি অনুযায়ী ওই এলাকার ওপর চীনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের নেতৃবৃন্দ ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছিলেন।

চীনা পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, দোকালাম সব সময়ই চীনের অংশ ছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল টাইমস চলমান বিরোধ নিয়ে কঠোর সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী মর্যাদা বজায় রেখে নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারে আর না হয় তাদেরকে তাড়িয়ে দেবে চীনা সেনারা।

সাংহাই মিউনিসিপাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ওয়াং দিহুয়া বলেছেন, সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে চলেছে ভারত। এর মাধ্যমে চীনা সক্ষমতাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে চাইছে নয়াদিল্লি। এ ছাড়া, নিজ ভূখণ্ড রক্ষায় চীনের দৃঢ় মনোভাবকেও খাটো করে দেখতে চাইছে না ভারত। সংঘাতের মূল্য কি হবে তাও অনুমান করতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আর এ পরিপ্রেক্ষিতে পাতিল বলেন, চীন খুবই কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এ অবস্থান মেনে নেয়ার মতো অবকাশ ভারতের নেই।

সূত্র: পার্স টুডে

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে চীন

আপডেট টাইম : ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ  ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে চীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতাকে বেইজিং ভালো চোখে দেখছে না এবং তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ বিরোধের ক্ষেত্রে চীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ভারতীয় বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে দাবি করছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট।

অতীতেও চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ ঘটেছে তবে বর্তমানে চলমান বিরোধ দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা।

চীন-ভারত অভিন্ন সীমান্তে মোতায়েন উভয় পক্ষের সেনারা সাধারণত অস্ত্র বহন করেন না। সম্ভাব্য উত্তেজনা যেন সহিংস রূপ না নিতে পারে তারই সতর্কতা হিসেবে এমনটি করা হয়। তা সত্ত্বেও সিকিম সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে ঘটেছে ‘ধাক্কাধাক্কি’।  এতে জড়িয়ে ধরে পেশি শক্তির প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে হটিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টাকে ‘ধাক্কাধাক্কি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসের শেষ দিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে ধরছেন তখন চীন-ভারত সীমান্তে ‘ধাক্কাধাক্কি’র ঘটনা ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভারতের ঝুঁকে পড়াকে চীন ভালোভাবে গ্রহণ করেনি সেটা প্রকাশ করার জন্য সীমান্ত সংকটের সৃষ্টি হয়েছে- ভারতীয় বিশ্লেষকরা এমন দাবি করেছেন।

এ বক্তব্য দিয়েছেন গেটওয়ে হাউস নামে ভারতভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সামির পাতিল।তিনি বলেন, মার্কিন-ভারত সম্পর্ক নিয়ে পরিষ্কার অসন্তোষ প্রকাশ করছে চীন।

দোকালাম এলাকায় রাস্তা বানানোর জন্য চীনা ট্রাক এবং সেনা ঢোকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের সূচনা হয়। সিকিম-চীন সীমান্তের এ অঞ্চলকে ভুটানের ভূখণ্ড মনে করে ভারত ও ভুটান। এখানে ত্রিদেশীয় সঠিক সীমান্ত রেখা নিয়ে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে ভারতের। ভারত এবং ভুটান একে ভুটানের এলাকা হিসেবে দাবি করলেও চীন একে নিজ ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করছে।

এক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকাকে ব্রিটেনের সঙ্গে ১৮৯০ সালের চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে মনে করছে চীন। এ চুক্তি অনুযায়ী ওই এলাকার ওপর চীনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের নেতৃবৃন্দ ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছিলেন।

চীনা পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, দোকালাম সব সময়ই চীনের অংশ ছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল টাইমস চলমান বিরোধ নিয়ে কঠোর সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী মর্যাদা বজায় রেখে নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারে আর না হয় তাদেরকে তাড়িয়ে দেবে চীনা সেনারা।

সাংহাই মিউনিসিপাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ওয়াং দিহুয়া বলেছেন, সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে চলেছে ভারত। এর মাধ্যমে চীনা সক্ষমতাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে চাইছে নয়াদিল্লি। এ ছাড়া, নিজ ভূখণ্ড রক্ষায় চীনের দৃঢ় মনোভাবকেও খাটো করে দেখতে চাইছে না ভারত। সংঘাতের মূল্য কি হবে তাও অনুমান করতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আর এ পরিপ্রেক্ষিতে পাতিল বলেন, চীন খুবই কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এ অবস্থান মেনে নেয়ার মতো অবকাশ ভারতের নেই।

সূত্র: পার্স টুডে